fbpx
Monday, April 22, 2024
spot_imgspot_img
HomeLifestyleঘুরে আসুন ভারতের মাঝে এক টুকরো বাংলাদেশ

ঘুরে আসুন ভারতের মাঝে এক টুকরো বাংলাদেশ

আপনি জানেন কী বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ছিটমহল কোনটি? সহজ উত্তর, দহগ্রাম-আঙ্গরপোতা। এর অবস্থান ভারতে হলেও ছিটমহলের সাথে যোগাযোগ স্থাপনকারী যে জায়গাটি আছে তাই তিন বিঘা করিডোর (Tin Bigha Corridor) নামে পরিচিত।

ইতিহাস কি বলছে
১৬ মে, ১৯৭৪ সালে ‘শেখ মুজিবুর রহমান-ইন্দিরা গান্ধীর চুক্তি’ অনুসারে বাংলাদেশ ও ভারত তিনবিঘা করিডরের সার্বভৌমত্ব পরস্পরের কাছে হস্তান্তর করেছিল। এর ফলে উভয়দেশেই তাদের ছিটমহলগুলো যথাক্রমে দহগ্রাম-আঙ্গরপোতা ও দক্ষিণ বেরুবাড়ীর যাতায়াতের সুবিধা হয়।

তিন বিঘা করিডোর (Tin Bigha Corridor) ভারতের মালিকানাধীন তিন বিঘা জায়গা জুড়ে অবস্থিত একটি স্বতন্ত্র ভূমি। করিডরটির অবস্থান ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের মেখলিগঞ্জ মহকুমায়, জেলা কোচবিহার। আর বাংলাদেশের লালমনিরহাট জেলার পাটগ্রাম উপজেলার একেবারে সীমান্তঘেষা এলাকায়।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আনুষ্ঠানিকভাবে তিনবিঘার করিডোরটিকে উন্মুক্ত ঘোষণা করেন ১৯শে অক্টোবর ২০১১ সালে। ভারত ও বাংলাদেশ ২০১৫ সালে ছিটমহল বিনিময়ের পরে ভারতের মধ্যে থেকে যাওয়া একমাত্র ছিটমহল এটি।

ছবি: রবীন্দ্রনাথ বর্মন

দহগ্রাম-আঙ্গরপোতা, এই গ্রাম দুটির সাথে বাংলাদেশের কোন স্পর্শ-কারি বিন্দু নেই। ২০১১ সালের আগে করিডোরটি দিনের ১২ ঘণ্টা জন্য খুলে দেয়া হতো। এতে করে দহগ্রাম-আঙ্গরপোতার মানুষগুলো কঠিন সমস্যার সম্মুখীন হতো। কারণ সেই সময় ঐ গ্রামগুলোতে কোনো হাসপাতাল ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছিল না। কিন্তু ২০১১ সালের ৬ই সেপ্টেম্বর ঢাকায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রীর মনমোহন সিং এর মধ্যে একটি চুক্তি হয় এর ফলে করিডোরটি ২৪ ঘণ্টাই উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়।

নামকরণ
বাংলায় আয়তন পরিমাপের একটি একক হলো ‘বিঘা’, এই ভূমিটির মোট আয়তন ১৬,১৫০ থেকে ৭২,৮৮০ বর্গফুট যা তিন বিঘার সমান। আর করিডোর একটি ইংরেজী শব্দ যার অর্থ ‘প্রবেশপথ’ সেকারণে এটি ‘তিনবিঘা করিডোর’ নামে পরিচিত হয়।

কি আছে এখানে দেখার মতো
দহগ্রাম এবং আংগরপোতার জনসংখ্যা প্রায় ১৭ হাজার এবং আয়তন সর্বমোট ১৮.৬১ বর্গ কিলোমিটার। তিনবিঘা করিডোর বাংলাদেশের সীমান্ত থেকে প্রায় ২০০ মিটার দূরে অবস্থিত, চারপাশে ভারতীয় ভূখণ্ড। বাংলাদেশকে দহগ্রামের সাথে যুক্ত রাখা করিডোরটির দৈর্ঘ্য ১৭৮ মিটার এবং প্রস্থ ৮৫ মিটার। মূলত এই করিডোরটি দেখতেই দর্শনার্থীদের ভিড় হয় কেননা চারিদিকে ভারত, আর মাঝখানের অংশটুকু বাংলাদেশের। ছোট্ট একটি রাস্তা বাংলাদেশের এই ভূখণ্ডকে আলাদা করেছে যা কিনা ভারতের।

ছবি: রবীন্দ্রনাথ বর্মন

দহগ্রাম-আঙ্গরাপোতা ছিটমহলটি দেশের সবচেয়ে বড় সিট মহল হওয়ায় অনেক দর্শনার্থী প্রতিবছর এই সিট মহল ও তিন বিঘা করিডোর ভ্রমণ করতে আসে। তাই পাট গ্রামের স্থানটি এখন লালমনিহাট জেলার একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন এখানে শত শত মানুষ দেখতে আসেন। তবে রাস্তা পারাপারের সময় ভারতীয় এলাকায় প্রবেশের জন্য নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, তাই অবশ্যই এ বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।

করিডোরটি পেরিয়ে একটু সামনে গেলেই আঙ্গুরপোতা এবং দহগ্রাম পরবে। এখানে এখানে একটি হাসপাতাল, সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, দহগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় ও পুলিশ ব্যারাক রয়েছে। তাছাড়া গ্রামের সৌন্দর্য তো আপনাকে অবাক করবেই, কেননা এর পাশ দিয়ে বয়ে গেছে তিস্তা নদী। একটু সময় নিয়ে এসব এলাকা ঘুরে দেখতে পারবেন।

কীভাবে যাবেন
লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলা থেকে করিডরের দূরত্ব ৯ কিলোমিটার। লালমনিরহাট সদর থেকে সড়ক ও রেল পথে পাটগ্রামের দূরত্ব প্রায় ৮৫ কিলোমিটার। লালমনিরহাট বাস স্ট্যান্ড থেকে পাটগ্রামে পৌঁছতে সময় লাগবে প্রায় তিন ঘণ্টা। একইভাবে ট্রেনেও সময় লাগবে গড়ে তিন ঘণ্টা। লালমনিরহাট থেকে দিনে চারটি ট্রেন পাটগ্রাম যাতায়াত করে।

রংপুর থেকে লালমনিরহাট হয়ে পাটগ্রামের দূরত্ব প্রায় ১৩৩ কিলোমিটার। তবে রংপুর থেকে বাইপাসে পাটগ্রাম যাওয়ার জন্য মহিপুর ব্রিজ হয়ে কাকিনা, হাতিবান্ধা, বড় খাতা, বাউড়া হয়ে পাটগ্রামে পৌঁছানো যায় দ্রুত। যাতায়াতের জন্য ব্যবহার করতে পারেন ব্যাটারি চালিত অটো বা ভাড়ার মাইক্রোবাস। এসব মাইক্রোবাসে জনপ্রতি পাটগ্রাম যেতে ২০০ থেকে ২৫০ টাকা লাগতে পারে। রংপুরের সাতমাথা হতে সরাসরি পাটগ্রামের বাস পাওয়া যায়।

পাটগ্রাম থেকে তিন বিঘা করিডোর যেতে পারেন ব্যাটারি চালিত অটোতে। জনপ্রতি ভারা লাগতে পারে ৩০ টাকা। আর রিকশায় যেতে হলে গুনতে হবে ৫০ থেকে ৬০ টাকা।

রাজধানী ঢাকা থেকে রংপুর, লালমনিরহাট জেলা সদর হয়ে সরাসরি বাসে পাটগ্রামে যাওয়া যায়। ঢাকার কল্যাণপুর এবং গাবতলী থেকে শাহ আলী পরিবহন, মানিক, এস আর, হানিফ, নাবিলসহ বেশকিছু বাস সরাসরি পাটগ্রাম যায়।

এছাড়া কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে শুক্রবার ব্যতীত ৬ দিন রাত ০৯ টা ৪৫ মিনিটে ছেড়ে যায় লালমনি এক্সপ্রেস ট্রেন। ভাড়া গুনতে হবে ৫০০ টাকা থেকে ১৮০০ টাকা পর্যন্ত আসনভেদে।
আর বিমান যোগে যেতে চাইলে ঢাকা থেকে সৈয়দপুর বিমানবন্দর পর্যন্ত গিয়ে পরবর্তীতে অন্যান্য যানবাহনে পাটগ্রাম যেতে পারবেন।

কোথায় থাকবেন
দহগ্রামে থাকার মতো তেমন কোনো ভালো আবাসিক হোটেল নেই। পাটগ্রামে থাকতে পারেন যেখানে বেশ কয়েকটি আবাসিক হোটেল পাবেন। তাছাড়া লালমনিহাট জেলা সদরেও কয়েকটি আবাসিক হোটেল আছে।

তিস্তা নদী, ছবি: রবীন্দ্রনাথ বর্মন

পাটগ্রাম উপজেলা থেকে মাত্র এগারো কিলোমিটার দূরেই দেশের অন্যতম বড় স্থলবন্দর বুড়িমারী। তাই এক ঢিলে দুই পাখি মারার মত পাটগ্রাম হয়ে বুড়িমারী দেখে আসতে পারেন। পাথরে ঘেরা বুড়িমারী আর ভারতের সীমান্তের ওপারে উকি দেওয়া কাঞ্চনজঙ্ঘা আপনাকে মুগ্ধ করবে। তাই এ সুযোগ হারাবেন না।

বিশেষ সহযোগীতায়
ইরফান হেসেন
রবীন্দ্রনাথ বর্মন

RELATED ARTICLES

3 COMMENTS

  1. Thanks, I have just been looking for information about this subject for a long time and yours is the best I’ve discovered till now. However, what in regards to the bottom line? Are you certain in regards to the supply?

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments

Elliana Murray on ONLINE SHOPPING
Discover phone number owner on Fake app চেনার উপায়