আমদের পুষ্টি তালিকার বেশ ওপরের সবজি করলা বা আঞ্চলিক নাম কল্ল্যা, উচ্ছে। এ সবজি এমনিতেই স্বাদে তিতা। আর যদি বলা হয় করলার পাতার ঝোল! অনেকে দেখে হয়তোবা ভাবছেন,এ আবার কেমন খাবার!
সত্যিই তাই। দেশের উত্তরবঙ্গে বেশ কয়েকটি জায়গায় এই করলা পাতার ঝোলের অনেক সমাদর রয়েছে। অনেকেই জানতে চেয়েছেন এই ব্যতিক্রমী খাবারটি আসলে কীভাবে রান্না করা হয়। তাই তাদের জন্য আজকের এই রেসিপি। একবার খেয়ে দেখুন, আশা করি অনেক ভাল লাগবে এই মজার রেসিপিটি।
একটু বলে রাখি, অনেকে ভাবছেন করলা পাতা পাবেন কোথায়। সমাধান আপনার বারান্দা বা ছাদবাগান। আর মাটি না থাকলে ব্যবহার করুন চায়ের ফেলে দেয়া পাতি আর নারকেলের খোসা।
ছোট্ট একটি পাত্রে করলার বীজ দিয়ে একটু যত্ন করলেই সহজেই বেড়ে উঠবে তরতাজা করলার গাছ। সেখান থেকেই সংগ্রহ করুন তাজা করলার পাতা।

তাহলে প্রথমেই দেখে নেই কি কি উপকরণ লাগছে এই রান্নায়..
উপকরণ:
- কৈ মাছ- মাঝারি আকারের ৪টি
- করলা পাতা- ১৫ থেকে ২০ টি
- পিঁয়াজ কুচি- ৪টি
- সরিষা বাটা- ১.৫ চা চামচ
- জিরা বাটা- ১ চা চামচ
- লবণ- স্বাদ মত
- হলুদ- ১ চা চামচ
- সয়াবিন তেল
- কাঁচা মরিচ -৫টি
- আলু- ২টি
রন্ধন প্রণালি:
প্রথমে মাছগুলোকে ভেজে নিতে হবে। মাছে লবণ, হলুদ মাখিয়ে ভালো করে ভেজে নিন। এরপরআলুর টুকরোগুলোতে লবণ হলুদ মাখিয়ে ভেজে নিন।
কড়াইয়ে তেল দিয়ে একে এক পিঁয়াজ কুচি, কাঁচা মরিচ হালকা বাদামি করে ভাজতে হবে। ভাজা হয়ে গেলে সরিষা বাটা, জিরা বাটা, লবণ, হলুদ দিয়ে একটু ভেজে পানি দিয়ে কষাতে হবে। মাঝে মাঝে ঢাকনা দিয়ে ঢেকে নিন ।
কষানো হয়ে গেলে করলা পাতা, ভাজা আলু, পানি দিয়ে ৫ মিনিটের জন্য ঢেকে রাখতে হবে। এসময় চুলার আঁচ একটু বাড়িয়ে দিন।
৫ মিনিট পর ঢাকনা তুলে ভাজা মাছগুলো দিয়ে আরও ৫ মিনিটের জন্য ঢেকে দিন। এবার ঢাকনা তুলে খেয়াল করনি তেল ঝোলের উপরে ভেসে আছে কিনা। প্রয়োজনে ঝোল আর একটু ঘন করে নামিয়ে ফেলুন। এভাবে তৈরি হয়ে যাবে কৈ করলা পাতার ঝোল।
সৌন্দর্যের জন্য কয়েকটি কাঁচা করলা পাতা উপরে দিয়ে, টমেটো স্লাইস করে কেটে পরিবেশন করতে পারেন।
একবার রান্না করেই দেখুন আশা করি পুষ্টির সাথে সাথে ভিন্ন একটা স্বাদও পাবেন।
করলার পুষ্টিগুণ:
করলায় রয়েছে প্রচুর মাত্রায় আয়রন, ভিটামিন, ম্যাগনেসিয়াম, পটাশিয়াম এবং ভিটামিন সি। সেই সঙ্গে মজুত রয়েছে ডায়াটারি ফাইবার, ক্যালসিয়াম, বিটা-ক্যারোটিন, পটাশিয়াম এবং ক্যারোটিন।
করলা পাতা দিয়ে কৈ মাছের ঝোল

