Sunday, September 20, 2026
spot_imgspot_img
HomeInfoBangladeshবাংলাদেশের জনপ্রিয় চলচ্চিত্রের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস | Short History of Popular Bangladeshi Cinema

বাংলাদেশের জনপ্রিয় চলচ্চিত্রের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস | Short History of Popular Bangladeshi Cinema

History of Popular Bangladeshi Cinema: বাংলাদেশের চলচ্চিত্র শিল্পের ইতিহাস অত্যন্ত সমৃদ্ধ এবং চড়াই-উতরাইয়ে ভরা। বিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময় থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত আমাদের চলচ্চিত্র অনেক কালজয়ী সৃষ্টি উপহার দিয়েছে। ‘রূপবান’ থেকে শুরু করে আজকের মাল্টিপ্লেক্স কাঁপানো ‘তুফান’ কিংবা ‘প্রিয়তমা’—এই দীর্ঘ যাত্রার একটি সংক্ষিপ্ত ইতিহাস নিচে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হলো:

🎬 পটভূমি এবং শুরুর দিনগুলো (১৯৫৬ – ১৯৭০)

বাংলাদেশে চলচ্চিত্রের প্রাতিষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয় ১৯৫৬ সালে।

  • প্রথম পূর্ণাঙ্গ সবাক চলচ্চিত্র: ১৯৫৬ সালের ৩ আগস্ট আবদুল জব্বার খান পরিচালিত মুখ ও মুখোশ মুক্তির মাধ্যমে এদেশের চলচ্চিত্রের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়।
  • এফডিসি প্রতিষ্ঠা: ১৯৫৭ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তৎকালীন প্রাদেশিক পরিষদে চলচ্চিত্র উন্নয়ন সংস্থা (FDC) বিল উত্থাপন করেন, যার ফলশ্রুতিতে ঢাকাই চলচ্চিত্রের মূল কেন্দ্রবিন্দু এফডিসি প্রতিষ্ঠিত হয়।
  • লোককাহিনীর যুগ ও ‘রূপবান’: ১৯৬৫ সালে সালাহউদ্দিন পরিচালিত ‘রূপবান’ চলচ্চিত্রটি মুক্তি পায়। লোককাহিনী ভিত্তিক এই সিনেমাটি আকাশচুম্বী ব্যবসায়িক সাফল্য লাভ করে এবং ঢাকাই চলচ্চিত্রের ভিত শক্ত করে।
  • জহির রায়হানের অবদান: এই যুগের অন্যতম শ্রেষ্ঠ চালিকাশক্তি ছিলেন জহির রায়হান। ১৯৬৪ সালে তিনি পাকিস্তানের প্রথম রঙিন চলচ্চিত্র ‘সঙ্গম’ তৈরি করেন। এছাড়া ১৯৭০ সালে তার নির্মিত রাজনৈতিক রূপকধর্মী চলচ্চিত্র ‘জীবন থেকে নেয়া’ বাঙালিকে স্বাধীনতা আন্দোলনের দিকে ব্যাপকভাবে উদ্বুদ্ধ করেছিল।

🪖 স্বাধীনতা পরবর্তী যুদ্ধ ও স্বর্ণযুগ (১৯৭১ – ১৯৮০-এর দশক)

১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের পর বাংলাদেশের চলচ্চিত্র একটি নতুন দিগন্তে প্রবেশ করে। এই সময়টিকে ঢাকাই সিনেমার “স্বর্ণযুগ” বলা চলে।

  • মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র: স্বাধীনতার পরপরই চাষী নজরুল ইসলামের ‘ওরা ১১ জন’, সুভাষ দত্তের ‘অরুণোদয়ের অগ্নিসাক্ষী’, এবং আলমগীর কবিরের ‘ধীরে বহে মেঘনা’-র মতো কালজয়ী মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র নির্মিত হয়।
  • সামাজিক ও পারিবারিক সিনেমা: রাজ্জাক, কবরী, শাবানা, নাদিম, ববিতা, ফারুক ও আলমগীরদের অভিনয়ে সামাজিক ও পারিবারিক ড্রামাগুলো দর্শকদের হলমুখী করে তোলে। ‘লাঠিয়াল’, ‘সুজন সখী’, ‘সারেং বৌ’ এবং ‘অশিক্ষিত’-র মতো সিনেমাগুলো তুমুল জনপ্রিয়তা পায়।
  • আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি: ১৯৭৮ সালে আমজাদ হোসেন পরিচালিত ‘গোলাপী এখন ট্রেনে’ এবং মোরশেদুল ইসলামের স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘আগামী’ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রশংসা কুড়ায়।

🎭 বাণিজ্যিক ধারা এবং সালমান শাহ উন্মাদনা (১৯৯০-এর দশক)

নব্বইয়ের দশকের শুরুতে বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে একটি বড় পরিবর্তন আসে। পারিবারিক ড্রামার পাশাপাশি রোমান্টিক ও অ্যাকশন ঘরানার সিনেমার জোয়ার আসে।

  • সালমান শাহ যুগ: ১৯৯৩ সালে ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ সিনেমার মাধ্যমে আগমন ঘটে ঢালিউডের চিরসবুজ নায়ক সালমান শাহর। মৌসুমী ও শাবনূরের সাথে তাঁর জুটি দেশের তরুণ সমাজকে সিনেমার প্রতি নতুন করে দেওয়ানা করে তোলে।
  • অ্যাকশন ও ফ্যান্টাসি: জসিম, ইলিয়াস কাঞ্চন ও রুবেলের হাত ধরে মার্শাল আর্ট ও অ্যাকশন ধারার সিনেমা জনপ্রিয় হয়। এর মধ্যে ১৯৮৯ সালে মুক্তি পাওয়া ফ্যান্টাসি সিনেমা ‘বেদের মেয়ে জোছনা’ আয়ের দিক থেকে আজ পর্যন্ত বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম সফল চলচ্চিত্র হিসেবে বিবেচিত।

📉 মন্দা যুগ এবং অশ্লীলতার কালো থাবা (২০০০ – ২০১০)

২০০০ সালের পর থেকে ঢাকাই চলচ্চিত্র এক অন্ধকার যুগের মুখোমুখি হয়।

  • অশ্লীলতা ও পাইরেসি: সস্তা গল্প, নকল স্ক্রিপ্ট এবং কাটপিসের (অশ্লীল দৃশ্য) কারণে মধ্যবিত্ত ও পরিবার পরিজন নিয়ে দর্শকরা প্রেক্ষাগৃহে যাওয়া বন্ধ করে দেন।
  • হল বন্ধ হওয়া: ভালো দর্শক না পাওয়ায় দেশের শত শত ঐতিহ্যবাহী সিনেমা হল লোকসানের মুখে পড়ে বন্ধ হয়ে যেতে থাকে। তবে এই অন্ধকার সময়েও তারেক মাসুদের ‘মাটির ময়না’ (২০০২), মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ‘ব্যাচেলর’ (২০০৪) কিংবা গিয়াস উদ্দিন সেলিমের ‘মনপুরা’ (২০০৯) এর মতো সিনেমাগুলো আশার আলো হয়ে জ্বলছিল।

🚀 শাকিব খানের উত্থান ও আধুনিকায়ন (২০১০ – ২০২০)

অন্ধকার যুগ কাটিয়ে ঢাকাই সিনেমাকে একাই টেনে নিয়ে যান সুপারস্টার শাকিব খান‘নাম্বার ওয়ান শাকিব খান’, ‘কিং খান’ ইত্যাদি সিনেমার মাধ্যমে তিনি হলগুলোতে দর্শক ধরে রাখেন।

  • ডিজিটাল যুগে প্রবেশ: এই দশকেই সেলুলয়েড ফিতা বাদ দিয়ে সিনেমা পুরোপুরি ডিজিটাল ফরম্যাটে রূপ নেয়।
  • বিকল্প ধারার সিনেমার জোয়ার: জয়া আহসান, চঞ্চল চৌধুরী, মোশাররফ করিমদের শক্তিশালী অভিনয় এবং রেদওয়ান রনি, অমিতাভ রেজা চৌধুরীর মতো তরুণ নির্মাতাদের হাত ধরে ‘আয়নাবাজি’ (২০১৬) ও ‘দেবী’ (২০১৮) এর মতো ভিন্নধর্মী সিনেমা বিপুল সাড়া জাগায়।

🌟 বর্তমান সময়: মাল্টিপ্লেক্স ও বিশ্বজয় (২০২১ – বর্তমান)

বর্তমান সময়ে বাংলাদেশের চলচ্চিত্র এক অভূতপূর্ব রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ওটিটি (OTT) প্ল্যাটফর্ম এবং আধুনিক মাল্টিপ্লেক্সের আগমন সিনেমার সংজ্ঞা বদলে দিয়েছে।

  • বিশ্ববাজারে ঢাকাই সিনেমা: মেজবাউর রহমান সুমনের ‘হাওয়া’ (২০২২) এবং রায়হান রাফির ‘পরাণ’ (২০২২) দেশের সীমানা ছাড়িয়ে উত্তর আমেরিকা, ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যে প্রবাসী বাঙালিদের মাঝে উন্মাদনা সৃষ্টি করে।
  • রেকর্ড ভাঙা ব্যবসা: ২০২৩ সালে হিমেল আশরাফ পরিচালিত এবং শাকিব খান অভিনীত ‘প্রিয়তমা’ বিশ্বব্যাপী আয়ের দিক থেকে সব রেকর্ড ভেঙে দেয়। এরপর ২০২৪ সালের ঈদে মুক্তি পাওয়া রায়হান রাফির ‘তুফান’ ঢাকাই সিনেমার ইতিহাসে অন্যতম বড় ব্লকবাস্টার হিসেবে আবির্ভূত হয়।

উপসংহার: নানা উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে গেলেও বাংলাদেশের চলচ্চিত্র এখন প্রযুক্তিতে আধুনিক এবং গল্পে বিশ্বমানের হয়ে উঠছে। বিশ্বজুড়ে বাংলা সিনেমার এই জয়জয়কার ইঙ্গিত দেয় যে, ঢাকাই চলচ্চিত্রের ভবিষ্যৎ অত্যন্ত উজ্জ্বল।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments

Elliana Murray on ONLINE SHOPPING
Discover phone number owner on Fake app চেনার উপায়