টেকনো মোবাইল বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিকভাবে তার সর্বশেষ স্মার্টফোন Tecno Spark 20 লঞ্চ করেছে। গ্রাহকদের সাধ্যের মধ্যে সেরা সব ফিচার নিয়ে বাংলাদেশের Tecno Spark 20 লঞ্চ হলেও, গ্লোবালি Spark 20 সিরিজের মোট চারটি স্মার্টফোন লঞ্চ হয়েছে (Spark 20,Spark 20C, Spark 20 pro,Spark 20 pro+)। Tecno Spark 20 ফোনটিতে আপনি পাচ্ছেন ৮ জিবি রেম এবং ২৫৬ জিবি ফোন মেমোরি। ফোনটির দাম ১৬,৯৯৯ টাকা নির্ধারণ করেছে।
ফোনটিতে থাকছে হাই রিফ্রেশরেট, উচ্চ ক্ষমতার প্রসেসর, বেশি মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা, অনেক স্টোরেজ, বিশাল ব্যাটারির সাথে ফাস্ট চার্জিং এর সাপোর্ট।
ফোনটিতে আরো রয়েছে ৬.৫৬ ইঞ্চি সাইজের ডিসপ্লে, ১৬ মিলিয়ন কালার সাপোর্টেড আইপিএস এলসিডি ডিসপ্লে। ৭২০×১৬১২ পিক্সেল রেজুলেশনের একটি প্যানেল যার পিপিআই বা পিক্সেল পার ইঞ্চ হল ২৬৭ এবং ডিসপ্লে প্যানেলটির রিফ্রেশ রেট থাকছে ৯০ হার্জ। তাছাড়াও ডিসপ্লেটিতে রয়েছে ডাইনামিক আইসল্যান্ড ফিচার। বিভিন্ন নোটিফিকেশন সময় বিভিন্ন লুকের সাথে আপনার সামনে উপস্থিত হবে।
স্মার্টফোনটির অপারেটিং সিস্টেম হিসেবে রয়েছে android 13। কাস্টম ইউ আই হিসেবে রয়েছে HiOS সাপোর্ট। ফোনটির প্রসেসিং ইউনিট বা প্রসেসর হিসেবে রয়েছে Mediatek MT6769Z Helio G85 (12nm)। প্রসেসরটিতে রয়েছে সর্বোচ্চ অক্টোবর 2.0 GHz এর ক্লক স্পিড, এর ফলে ইউজার এক্সপেরিয়েন্স হবে দুর্দান্ত।
ফোনটির পিছনের মেইন ক্যামেরা ৫০ মেগাপিক্সেল, ১.৬ (ওয়াইট) লেন্স। সেলফি ক্যামেরা হিসেবে ৩২ মেগাপিক্সেলের মেইন ক্যামেরা পাচ্ছেন এর সাথে ২.২ মেগাপিক্সেলের (ওয়াইট) লেন্সটি থাকছে।
ফোনটিতে আরো পাচ্ছেন ৫০০০ এমএএইচ লিথিয়াম পলিমার ব্যাটারি এবং ১৮ হোয়াট ফাস্ট চার্জিং।
ডিভাইসটিতে রয়েছে ডুয়েল সিম (ন্যানো সিম ডুয়েল স্ট্যান্ডবাই), ফোনটিতে টুজি থ্রিজি এবং ফোরজি নেটওয়ার্ক সাপোর্ট করবে এবং অন্যান্য ফিচার এর মধ্যে রয়েছে ও ওয়াই ফাই ৮০২.১১ এ/বি/জি/এন/এ ছি, ব্লুটুথ, জিপিএস, এফএম রেডিও, ইউএসবি টাইপ সি ২.০, ওটিজি, সুপার ভলিউম ৪০০% এর সাপোর্ট।
এক নজরে দেখে নেই এর স্পেসিফিকেশন:
উন্মোচিত
১ ই, ডিসেম্বর, ২০২৩
সর্বশেষ সংষ্করণ
১১ ই, জানুয়ারি, ২০২৪
নেটওয়ার্ক
জিএসএম/এইচ এস পি এ/এল টি ই/5G
২ জি
জি এস এম ৮৫০ / ৯০০ / ১৮০০ / ১৯০০ – সিম ১ এবং সিম ২
৩ জি
এইচ এস ডি পি এ ৮৫০ / ৯০০ / ২১০০
৪ জি
লাইট
গতি
এইচ এস পি এ ৪২.২/৫.৭৬ এম বি পি এস, এল টি ই ক্যাট ৪ ১৫০/৫০ এম বি পি এস
আকার
১৬৩.৭ x ৭৫.৬ x৮.৫ মি মি (৬.৪৪ x ২.৯৮ x ০.৩৩ ইঞ্চি )
ওজন
————–
সিম
Dual SIM (Nano-SIM, dual stand-by)
ডিসপ্লে
ধরণ: IPS LCD capacitive touchscreen, ১৬ মিলিয়ন কালার, 90Hzমাপ: ৬.৬ ইঞ্চি, ১০৪.৬ সেমি২ (~৮৪.৬% স্ক্রিন-টু-বডি অনুপাত)রেজুলেশন: ৭২০ x ১৬১২ পিক্সেল, ২০:৯ অনুপাত (~২৬৭ ppi ঘনত্ব)
৫০০০ এমএএইচ, ফাস্ট চার্জিং ১৮ ওয়াট, Non-removable Li-Po
সাউন্ড
লাউড স্পিকার৩.৫ মিমি জ্যাক
অন্যান্য
Wi-Fi 802.11 a/b/g/n/ac, dual-band, 5.2, A2DP, LE, A2DP, USB Type-C, OTG
মডেল মূল্য
Tecno Spark 20৳১৬,৯৯৯
প্রস্তুতকারক
চীন
কালার
গ্র্যাভিটি ব্ল্যাক, সাইবার হোয়াইট, নিয়ন গোল্ড।
Tecno Spark 20 ফোনটি ২০২৪ সালের ১১ জানুয়ারি বাংলাদেশের বাজারে অফিশিয়ালি লঞ্চ করে। বাংলাদেশের বাজারে বর্তমানে ৮ জিবি ২৫৬ জিবি ভেরিয়েন্ট টি ১৬৯৯৯ টাকা মূল্যে পাওয়া যাচ্ছে।
এই প্রাইস সেগমেন্টে বর্তমানে বাংলাদেশের সেরা ফোন বলতেই পারেন Tecno Spark 20 ফোনটিকে। আপনার সাধ্যের মধ্যে সেরা ফোন হতে পারে এটি।
‘মেহেদি’ শব্দটা শুনলেই কেমন যেন উৎসব উৎসব মনে হয়, তাই না?
আজ আমরা এই মেহেদি সম্পর্কে জানবো। এর ইতিহাস,অতীতে ও বর্তমান সময়ে
মেহেদির ব্যবহার ও প্রচলনের ইতিহাস-
যদি আমরা মেহেদির ইতিহাস খুঁজতে যাই, তাহলে আজ থেকে অনেক অনেক বছর পিছনে ফিরতে যেতে হবে। নব্যপ্রস্তর যুগে উত্তর আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের মরু অঞ্চলে মরুবাসীরা প্রচণ্ড গরম থেকে নিজেকে বাঁচানোর জন্য পায়ে মেহেদি পেস্ট লাগিয়ে রাখতো। এতে গোটা শরীর ঠাণ্ডা থাকতো। বিশেষ করে যারা যোদ্ধা ছিলেন, তাদের ভেতরে এটা লক্ষ্য করা যেত।
২১০০ খ্রীষ্টপূর্বাব্দে ব্যাবিলীয়ান ও সুমেরীয় সভ্যতার শুরুতেই মেহেদি ব্যবহারের ইতিহাস লক্ষ্যণীয়। তাছাড়া, দক্ষিণ চীনে প্রায় ৩ হাজার বছর ধরে প্রাচীন দেবী সংস্কৃতির প্রেমমূলক ধর্মানুষ্ঠানেও মেহেদি যুক্ত ছিলো।
প্রাচীন মিশরের রাণী নেফারতিতি ও রানী ক্লিওপেট্রা মেহেদি নিয়মিত ব্যবহার করতেন। তাছাড়া এ সময়ে মহিলাগণের হাত-পা রাঙানোর পাশাপাশি পুরুষেরাও দাড়ি ও ঘোড়ার লেজ রাঙাতে মেহেদি ব্যবহার করতেন। মিসরের পিরামিডে ফারাও সম্রাটদের মমি সংরক্ষণে মেহেদি ব্যবহার করা হতো। ভারতের অজন্তা গুহার অঙ্গসজ্জ্বায় মেহেদির ব্যবহার দৃশ্যমান। মুঘল আমলে প্রাকৃতিক প্রসাধনী হিসেবে মেহেদির সুনাম ছড়িয়ে পড়লেও রাজা-রাণীগণ মূলত উন্নতির নিদর্শণ হিসাবে দেহসজ্জায় মেহদীর ব্যবহার করতেন।
মিশরের রাজা রাষ্ট্রীয় উপহার হিসেবে মোগল সম্রাট শাহজাহান পত্নি মমতাজকে মেহেদি এবং মেহেদি চারা পাঠিয়েছিলেন।
অবশ্য, অনেক আগে থেকে নারীদের পাশাপাশি পুরুষদের দাঁড়িতে মেহেদি ব্যবহার করতে দেখা গেছে, ধর্মীয় দিক হতে মেহেদিকে গুরুত্ব দিয়ে।
মেহেদির বাহারি নাম-
মেহেদি কিন্তু বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন নামে পরিচিত। যা হয়তো আমরা সকলে জানিনা। যেমন ধরেন, হিন্দি ও উর্দুতে একে মেহেন্দি, ইংরেজীতে হেনা (Henna), মধ্য-প্রাচ্যে হেন্না, মধ্য-এশিয়ায় ‘আল-খান্না’ নামে পরিচিত। আর এ শব্দগুলো আরবী শব্দ আল-হিন্না (Al-Hinna) থেকে এসেছে। এগুলো ছাড়াও অবশ্য মেহেদির কিছু ওষুধী নাম রয়েছে- ইউনানী নাম হেনা, আয়ুর্বেদিক নাম মদয়ন্তিকা, বোটানিক্যাল নাম লসোনিয়া ইরামিস (Lawsonia Inermis)।
বিভিন্ন দেশে মেহেদির ব্যবহার-
বাংলাদেশ ছাড়া আফ্রিকার অনেক জায়গা আছে যেখানে আরোগ্য মুক্তি উপলক্ষে মেহেদি ব্যবহার করা হয়। আর আরব্য সংস্কৃতিতে তো বিয়েতে ‘মেহেদি সন্ধ্যা’ নামে একটি জনপ্রিয় প্রথা প্রচলিত রয়েছে। দিনে দিনে এই অনুষ্ঠান এখন দক্ষিণ এশিয়ার দেশসমূহেও জনপ্রিয় হয়ে উঠছে । তাছাড়া চীনসহ দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে মেহেদিকে আয়ুর্বেদীয়, ইউনানী ও বিভিন্ন প্রকার অর্গানিক চিকিৎসায় ওষুধ হিসাবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
বর্তমান সময়ে মেহেদির ব্যবহার-
ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে মেহেদিকে পবিত্র মনে করে এর প্রচলন হলেও বর্তমানে সময়ে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রথা হিসেবেই পরিচিতি পেয়েছে।
বিশেষ করে,বিয়ে, ঈদ-পূজা, বৈশাখ ও নববর্ষের অনুষ্ঠান আসলেই বোঝা যায়, মেহেদি কতটা গুরুত্বপূর্ণ। আবহমানকাল থেকে বিভিন্ন পারিবারিক ও সামাজিক অনুষ্ঠান যেমন-প্রাক বিবাহ, বিবাহ, গর্ভাবস্থার আটমাস, সন্তান জন্মের ৪০ দিন, সন্তানের নামকরণে মেহেদির ব্যাপক ব্যবহার দেখা যেতো। বাংলাদেশে তো বিয়ের অনুষ্ঠান, মেহেদি ছাড়া যেন অসম্পূর্ণ।
প্রাকৃতিক রং হিসাবে মেহেদির ব্যবহার-
উত্তর আফ্রিকা ও দক্ষিণ-পশ্চিম এশিয়ায় মেহেদির আদি প্রচলন হলেও প্রাকৃতিক রং হিসাবে ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশে মেহেদি অতি পরিচিত। হাত ও পায়ের ডিজাইনে, উলকি অঙ্কনে এবং চুলে রঞ্জক পদার্থ হিসাবে দিন দিন বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। মেহেদি প্রায় সব এলাকায় কম বেশি পাওয়া যায়।
মেহেদির বিশেষ ব্যবহার-
কন্ডিশনার হিসাবেও মেহেদির রয়েছে বিশেষ ব্যবহার। তাছাড়া, হেয়ার টনিক, হেয়ার কন্ডিশনার ও হেয়ার ক্লিণজার বা শ্যাম্পু হিসাবেও ব্যবহার হয়। মেহেদির ফুলের তেল ব্যবহৃত হয় পারফিউম হিসাবে। আর পাতা পেস্ট বা পাউডার দু’ভাবেই ব্যবহার করা যায়। তবে বেশি উপকার পেতে পাওডারের সাথে লেবুর রস, চা বা ইউক্যালিপটাস পাতা মিশিয়ে ব্যবহার করা যেতে পারে।
মেহেদির গুণাগুণ
মেহেদির গাছের পাতা ছাড়াও এর অন্যান্য অংশও যেমন-ছাল, পাতা, বীজ ও ফুল নানাভাবে ব্যবহার করা হয়।
এর বীজ হতে উচ্চ-সান্দ্রতার তৈল পাওয়া যায়। এই তেলে রয়েছে বিহেনিক, অ্যারাসিডিক, স্টিয়ারিক, পালমেটিক, ওলিক ও লিনোলিক এসিড। চর্ম -মলম তৈরিতে হেনার পাতা ও ফুলের তেল খুবই কার্যকর। এ মলম চামড়ায় ক্ষত, পোড়া ও চামড়ার ফ্যাকাসে হলুদ দাগ দূর করতে সাহায্য করে।এছাড়া আমাশয়, এর বীজের পাওডারের সাথে ঘি মিশিয়ে খেলে উপকার পাওয়া যায়।
তাছাড়া, হেনা পেস্ট স্কেবিস ও নখের ফাটার রোধে বেশ কার্যকর। পায়ের পাতার জ্বালা-পোড়ার ক্ষেত্রে দেহের তাপমাত্রা কমিয়ে স্বস্তি ফিরে আনতে এটি অনেক উপকারি। তাছাড়া চুলের যত্নে,বিশেষ করে টাক পড়া রোধে কাজ করে।
এর বাকল লিভারের বিভিন্ন জটিলতা রোধে সাহায্য করে। রৌদ্রজনিত কারণে মাথা ব্যাথা হলে মেহেদির ফুলের পেস্টের সাথে ভিনেগার মিশিয়ে কপালে লাগালে আরাম পাওয়া যায়।
তাছাড়াও, যদি হাড়ের কোন জোড়ায় ব্যাথা হয় বা ফোলে যায়, তাহলে এর পাতার পেস্ট লাগালে উপকার মেলে। গলা ব্যাথা হলেও এর পাতা দিয়ে গরম করা পানি কুলকুচা করা যায়, তবে ব্যাথা উপশম হয়।
বাণিজ্যিক আকারে মেহেদির চাষ-
মেহেদির এতো এতো গুণের কারণে বর্তমানে বাণিজ্যিক আকারে চাষের চিন্তাভাবনা শুরু হয়েছে। আর এরই ভিত্তিতে রাজধানীর অদূরে সাভারের সলমাসি গ্রামে মেহেদির চাষ শুরু হয়েছে। যে কারণে গ্রামটি এখন লোকমুখে ‘মেহেদি গ্রাম’ হিসেবে পরিচিত পেয়েছে। এ গ্রামের প্রায় অর্ধশত কৃষক মেহেদি চাষ করেই তাদের সংসার পরিচালনা করছে।
শীতে মেহেদি পাতার উৎপাদন কম হলেওে বছরে অন্তত ৫ বার মেহেদি পাতা বিক্রি করা যায়। আর পাইকাররা বাগান থেকেই কিনে নিয়ে যান। বর্তমানে সার-কীটনাশকের দাম বাড়ায় মেহেদি চাষিরা একটু হতাশাগ্রস্থ। তাছাড়া, হাউজিং, বাড়িঘর হওয়ায়, জমি কমে আসায় মেহেদি চাষ এখন দিন দিন কমে আসছে।
মেহেদি ব্যবহারে কিছু সতর্কতা-
এখন বাজারে টিউব, কোণ বিভিন্ন আকৃতির মেহেদি পাওয়া যায়। ঝামেলা ছাড়াই অল্প সময়ে ভাল রঙ্গের জন্য এগুলো বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে। এগুলোর মাঝে আসল নকল বিচার করে কেনা অনেকটা কষ্টকর। মেহেদি কেনার সময়ে যদি যাচাই-বাছাই করে কেনা যায়, তাহলে যেমন ভালো রং আসবে, তেমনি ত্বকেরও কোনো ক্ষতি হবেনা।
অবশ্যই কেনার আগে মেহেদির মোড়কে লেখা উপাদান ও ব্যবহারবিধি পড়ে নেবেন। বিশেষভাবে, উৎপাদন ও মেয়াদ উত্তীর্ণের তারিখ দেখে, মেহেদি কিনবেন। আর ‘ইনস্ট্যান্ট কালার’ দেয় এমন মেহেদি না কেনাই ভাল। কেননা, এগুলোতে কেমিক্যালের পরিমাণ এতো বেশি থাকে যে, ত্বকে এলার্জি, র্যাশ, চুলকানির মতো অনেক সমস্যা দেখা দিতে পারে।
আপনার ত্বকের জন্য মানানসই কি না? এটা যাচাই করার জন্য মেহেদি ব্যবহারের আগে, অল্প পরিমাণ কানের পেছনে লাগিয়ে দেখবেন। যদি কোনরকম চুলকানি হয়, তবে এই মেহেদি না লাগানোই ভাল। তাছাড়া, ফ্রিজে রাখা মেহেদি সঙ্গে সঙ্গে ব্যবহার করবেন না। আর শিশুদের জন্য বাজারের কেনা মেহেদি না দেওয়াই ভালো।
Only democratic country in the world that has no capital
পৃথিবীর প্রতিটি দেশেরই একটি রাজধানী আছে। কিন্তু আপনি কী জানেন পৃথিবীর এমন একটি দেশ আছে যার কোনো রাজধানী নেই? সবাই কী ভাবছেন? কোন সে দেশ আছে যার কোনো রাজধানী নেই!
বর্তমানে বিশ্বে মোট ১৯৫টি দেশ আছে প্রতিটি দেশেই একটি করে রাজধানী আছে। কিন্তু ‘‘নাউরু – Nauru’’ এমন একটি গণতান্ত্রিক দেশ যার কোন রাজধানী নেই, এবং তাদের নিজস্ব কোনো সেনাবাহিনীও নেই। যাতায়াতের জন্য পাবেন না কােনো স্থল পথ, ভরসা রাখতে হবে নৌ-পথ। কিন্তু পকেটে যদি পর্যাপ্ত অর্থ থাকে তাহলে যেতে পারবেন আকাশ পথে। আর আকাশ পথে যাতায়াতের জন্য এই দেশটিতে রয়েছে একটি বিমানবন্দর।
অবস্থান ও ইতিহাস
দেশটি দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরের মাইক্রোনেশিয়ায় অবস্থিত, যা আবার নোরু নামেও পরিচিত। আনুমানিক ২১ বর্গ কিলোমিটার জুড়ে বিস্তৃত বিশ্বের তৃতীয় ক্ষুদ্রতম স্বাধীন এবং গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র এটি। দেশটি ১৯৬৮ সালে স্বাধীনতা লাভ করে। এটি বিশ্বের একমাত্র গণতান্ত্রিক দেশ যার এখনও কোনো রাজধানী নেই, আকাশপথে পথে অস্ট্রেলিয়া (দেশটির সবচেয়ে নিকটবর্তী দেশ) থেকে দেশটিতে যেতে পাঁচ ঘণ্টা সময় লাগে। তবে এই দেশটির সবচেয়ে কাছাকাছি দীপ রাষ্ট্রটি হলো ‘‘পাপুয়া নিউগিনি – Papua New Guinea’’, যেখান থেকে যেতে আরো কম সময় লাগবে আপনার।
সম্পদ
এদের আয়ের প্রধান উৎস মূলত প্রাকৃতিক সম্পদ ফসফেট যা কৃষি কাজে ব্যবহৃত হয়। নাউরুতে ১৯০৭ সাল থেকে ফসফেট খনন করা শুরু হয় যা এখন সম্পূর্ণভাবে বন্ধ। কারণ এখন আর উত্তোলনের জন্য পর্যাপ্ত ফসফেট নেই দেশটিতে।
জার্মানি সর্বপ্রথম ১৯০৬ সালে নাউরুর ফসফেট খনির সন্ধান পায়। এবং ‘প্যাসিফিক ফসফেট কোম্পানি’ নামে এখান থেকে তারা ফসফেট উত্তোলন শুরু করে। এই অবস্থা প্রথম বিশ্বযুদ্ধ পর্যন্ত চলতে থাকে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে জার্মানরা পরাজিত হলে ব্রিটিশরা ‘ব্রিটিশ ফসফেট কমিশন’ নামে নাউরু থেকে ফসফেট উত্তোলন শুরু করে। এবং এর সুবিধা নেয় ব্রিটেন, নিউজিল্যান্ড এবং অস্ট্রেলিয়া।
জনগণ
নাউরুতে ২০০৫ সালের জরিপে মোট জনসংখ্যা ছিল ১৩,০৪৮ জন। এর মধ্যে ৫৮ শতাংশ নাউরুর আদি অধিবাসী, ২৮ শতাংশ অন্যান্য দ্বীপের, ৮ শতাংশ ইউরোপীয়, এবং ৮ শতাংশ চীনা,। ২০২৩ সালের এক জরিপে দেশটির মোট জনসংখ্যা ছিল ১৪ হাজার ৪০০ জন এবং দেশটির মোট জনসংখ্যার ৯৬ শতাংশ মানুষই শিক্ষিত।
ফসফেট বিক্রির টাকা থেকে ১৯৭৫ সালে নাউরুর সরকারি ব্যাংকে ২৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার জমা হয়েছিল! স্বাধীনতার পর এক যুগেরও কম সময়ে কোনো রাষ্ট্রের পক্ষে এত বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা এক বিরল ঘটনা। সে সময় নাউরুর জনসংখ্যা ছিল মাত্র সাত হাজার এর কাছাকাছি। নাউরুর জনগণের মাথাপিছু আয় এত বেশি ছিল যে, তাদের সামনে একমাত্র ধনী রাষ্ট্র ছিল কুয়েত। নাউরুকে তখন বলা হতো “প্যাসিফিকের কুয়েত”। তেল রাজ্য কুয়েতের মতোই সহজ অর্থ আয় করতে থাকে নাউরু।
দেশটিতে ১৯৭০-৮০-র দশকে ছিল ফসফেট রমরমা ব্যবসা। বর্তমানে নাউরুর অর্থনীতির মূল উৎস হলো মৎস্য শিকার ও বৈদেশিক সহায়তা। বর্তমানে দেশটিতে কোনো আবাদি জমি নেই, না আছে এখানকার জনগণের কোনো নিশ্চিন্ত জীবন। নাউরু মাত্র দুই দশকে আগে বিশ্বের দ্বিতীয় ধনী রাষ্ট্র ছিল কিন্তু আজ তারা অন্যান্য রাষ্ট্রের সহায়তায়ার উপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে শুধুমাত্র তাদের দুর্নীতির কারণে।
ফসফেট খনি
প্রশান্ত মহাসাগরের কয়েক লাখ বছর ধরে বিভিন্ন ধরনের সামুদ্রিক পাখির অভয়ারণ্য ছিল। এদের ফেলে যাওয়া বর্জ্য কয়েক লাখ বছর ধরে জমতে জমতে উৎকৃষ্ট মানের ফসফেট টিলায় পরিণত হয়। পরবর্তীকালে এই ফসফেট টিলা নাউরুর জন্য ‘স্বর্ণের খনি’ হয়ে ধরা দেয়। ফসফেট কৃষিকাজের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও প্রয়োজনীয় একটি উপাদান, এবং নাউরুতে যে ফসফেট পাওয়া যেত তা ছিল পুরো পৃথিবীতে সর্বোৎকৃষ্ট মানের। যেখানে এই দেশটিতে কোনো আবাদি জমি নেই বললেই চলে। কিন্তু সেই দেশটিতে ছিল চাষাবাদের কাজের জন্য সর্বোৎকৃষ্ট উপাদানটি।
১২টি উপজাতি দ্বারা এই স্থানটি ঐতিহ্যগতভাবে শাসিত ছিল। এর প্রতীক নাউরুর পতাকাতেও দেখা যায়। ৬০-৭০-এর দশক থেকেই নাউরুর আয়ের মূল উৎস ছিল ফসফেট খনি। অতিরিক্ত ও অপরিকল্পিত উত্তোলনের কারণে তাদের এই আয়ের প্রধান উৎস এই খনিগুলো নিঃশেষ হয়ে গেছে। বর্তমানে এখানে প্রচুর পরিমাণে নারিকেল উৎপন্ন হয়।
দেশটির সরকারি মুদ্রা হলো অস্ট্রেলিয়ান ডলার। নাউরুর জাতীয় ভাষা নাউরুয়ান কিন্তু ব্যবসা ও সরকারি দাপ্তরিক কাজে ইংরেজির চল আছে। স্বীকৃত রাজধানী না থাকলেও নাউরুর সরকারি দপ্তরগুলো অবস্থিত “ইয়ারেন – Yaren ” জেলায়। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য থাকলেও অনেক রকম সমস্যার কারণে দেশটি পর্যটকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করাতে পারেনি।
পৃথিবীর একমাত্র গণতান্ত্রিক দেশ ‘‘নাউরু – Nauru’’ যার নেই কোনো রাজধানী, এই ছিল তার আদ্যোপান্ত।
আপনি কী জানেন পৃথিবীতে এমন কিছু খাবার আছে যেটি খাওয়ার সাধ্য সবার হবেনা! বলা যায় Most expensive foods in the world.
খাদ্য মানুষের বেঁচে থাকার অন্যতম মৌলিক চাহিদা। তবে ভোজনরসিকদের কাছে খাদ্য হল জীবনের ভালবাসা। আপনি যদি একজন ভোজনরসিক হন, তাহলে কী আপনি এমন কোনো খাবার খেতে প্রস্তুত আছেন, যার জন্য আপনাকে ১ হাজার ডলার বা ১ লাখ টাকারও বেশি। তাহলে জেনে নেই বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল খাবারগুলোর সম্পর্কে।
এটুকু বলাই যায় যে আপনি কোটিপতি হলেই শুধুমাত্র এসব খাবারের স্বাদ নিতে পারবেন।
৫. ওয়াগু গরুর মাংস (Wagyu beef)
ওয়াগু বিফ বিশ্বের ব্যয়বহুল খাবারগুলোর মধ্যে অন্যতম। জাপানি ভাষায়, ‘ওয়া’ মানে হলো জাপান এবং ‘গিউ’ হলো গরু অর্থ হলো জাপানের গরু।
মাংসের পরতে পরতে ফ্যাট, নরম ও তুলতুলে মাংস এবং স্বাদের জন্য এটি সারাবিশ্বে খুবই সমাদৃত একটি খাবার।
এর পরতে পরতে চর্বি থাকে এবং নরম তুলতুলে মাংস হয় বলে খেতেও বেশ সুস্বাদু। জাপানের চারটি ভিন্ন প্রজাতির গরু থেকে এ মাংস পাওয়া যায়।
ওয়াগু গরুর মাংসের দাম এত বেশি হওয়ার কারণ, এসব গরু প্রতিপালনে খরচ অনেক বেশি হয়। সব গরুর মাংস ওয়াগু হিসেবে গণ্য হয় না। তাজিমা প্রজাতির গরু যা জাপানের কোবে, মাতসুকা এবং ওহমি অঞ্চলে বিশেষ যত্নে পালন করা হয়। অবশ্য সারা বিশ্বে এই মাংস কে ‘কোবে বিফ’ নামে ডাকা হয়।
প্রচুর নিয়মকানুন মেনে এই গরুগুলোকে লালনপালন করতে হয়। পেশির পরতে পরতে চর্বি জমা হওয়ার জন্য বাছুর অবস্থা থেকেই এদেরকে বিশেষ ধরনের খাবার খাওয়ানো হয়।
আপনাকে ‘কোবে বিফের’ স্বাদ নিতে হলে প্রতি কেজি ৬৪০ ডলার গুনতে হবে। যা বর্তমানে বাংলাদেশি টাকায় আনুমানিক ৭০,৪৬২ টাকা।
৪. মুজ পনির (Moose cheese)
দুগ্ধজাত পণ্যের মধ্যে পনিরের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। তবে এক ধরনের হরিণের দুধ থেকে তৈরি মুজ পনির বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল পনির। সুইডেনে গেলে এই পনিরের স্বাদ নিতে পারবেন। শুধুমাত্র এই দেশেই মুজ পনির তৈরি ও বিক্রি করা হয়। প্রতি কেজি মুজ পনিরের দাম প্রায় ১ হাজার মার্কিন ডলারের কাছাকাছি। যা বর্তমানে বাংলাদেশি টাকায় ১১০,০৯৭ টাকা (আনুমানিক)।
৩. সাদা ট্রাফলস (White truffles)
সাদা ট্রাফলস বিরল প্রজাতির তীব্র সুগন্ধযুক্ত এক ধরনের ভূগর্ভস্থ ছত্রাক। ইউরোপের ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চল, উত্তর আমেরিকার পশ্চিমাঞ্চল ও অস্ট্রেলিয়ার নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলের বনাঞ্চলে বসন্তকাল ও বর্ষাকালে এই ছত্রাক জন্মায়। বর্তমানে বিশ্বে ব্ল্যাক এবং হোয়াইট এই দুই ধরনের ট্রাফল পাওয়া যায়। এই ট্রাফল দুটো দামি খাবার হলেও এর স্বাদে আছে বেশ ভিন্নতা।
এটি রেফ্রিজারেটরে সংরক্ষণ করতে হয় না। স্বাভাবিক তাপমাত্রায় প্রায় ১০ দিন পর্যন্ত খাদ্য-উপযোগী থাকে। এক পাউন্ড হোয়াইট ট্রাফলের দাম সাধারণত ৩ হাজার মার্কিন ডলার হয়। যা বর্তমানে বাংলাদেশি টাকায় আনুমানিক ৩৩০,২৯১ টাকা।
সাধারণত প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কুকুর বা শূকর দিয়ে বনে মাটি খুঁড়ে ট্রাফল খোঁজা হয়।
২. পাখির বাসার স্যুপ (Swiftlet Bird’s Nest Soup)
সুইফটলেট পাখি লালা দিয়ে তার বাসা তৈরি করে। এই পাখির বাসা থেকে এক ব্যতিক্রমী স্যুপ তৈরি করে চীনা রন্ধনশিল্পীরা যা Bird’s Nest Soup নামে পরিচিত। এটি পৃথিবীর অন্যতম ব্যয়বহুল খাবারগুলোর একটি। চীন, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া, কম্বোডিয়া, ভিয়েতনাম ও মিয়ানমারে এই স্যুপের ভীষণ কদর আছে।
ভোজন রসিকদের কাছে জনপ্রিয় এই স্যুপটি লাল, হলুদ ও সাদা তিনটি ভিন্ন রঙে পরিবেশন করা হয়। এর মধ্যে লাল রঙের বার্ড নেস্ট স্যুপের দাম সবচেয়ে বেশি। এরকম এক বাটি স্যুপের দাম ১০ হাজার ডলার পর্যন্ত হয়। যা বর্তমানে বাংলাদেশি টাকায় ১১,০০,৯৭০ (আনুমানিক) টাকা।
১. আলবিনো ক্যাভিয়ার (Albino caviar)
ব্যয়বহুল খাবারের তালিকার শুরুর দিকেই থাকবে আলবিনো ক্যাভিয়ার। এটি এক ধরনের সামুদ্রিক মাছের ডিম। বিশ্বের সবচেয়ে সুস্বাদু খাবারের মধ্যেও ক্যাভিয়ারের নামও রয়েছে। বেলুগা স্টার্জেন মাছ থেকে সবচেয়ে সুস্বাদু ক্যাভিয়ার পাওয়া যায়। এই মাছটির ডিম সংগ্রহ করা খুব দুরূহ এবং মাছটি বর্তমানে বিলুপ্তির পথে। এই মাছটি শুধুমাত্র কৃষ্ণ সাগর ও কাস্পিয়ান সাগরেই পাওয়া যায়। তাছাড়া একটি বেলুগা স্টার্জেন পূর্ণবয়স্ক হতে প্রায় ২০ বছর পর্যন্ত সময় নেয়। এরপরই মাছটিকে হত্যা করে এর ডিম সংগ্রহ করা হয়।
এটি হলো বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল ক্যাভিয়ার, বিপন্ন প্রায় ইরানি আলবিনো বেলুগা স্টার্জেন মাছ থেকে সংগৃহীত হয়। এক কেজি অ্যালবিনো ক্যাভিয়ারের সর্বোচ্চ দাম সাড়ে ৩৪ হাজার ডলার পর্যন্ত উঠেছিল। যা বর্তমানে বাংলাদেশি টাকায় আনুমানিক ৩৭,৪৩,২৯৮ টাকা। এই জন্য এটি গিনেজ বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস এ স্থান পায়।
বিশ্বের ক্যাভিয়ার উৎপাদনের চীন সবার উপরে শতকরা ৩৫ শতাংশ।
আপনি কী এই খাবারগুলোর স্বাদ নিতে চাচ্ছেন?
এই খাবারগুলো বিশ্বের সব নামি-দামি রেস্টুরেন্ট এ পাওয়া যায়।
নোট: এখানে মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে মার্চ, ২০২৪ সালের আন্তর্জাতিক মুদ্রা বিনিময় হারে
রাস্তা দিয়ে চলার সময় আপনি কি কখনো খেয়াল করেছেন আমাদের দেশে কোন ধরনের traffic ব্যবস্থা চালু আছে? আর কখনো কি এটা ভেবে দেখেছেন, আমেরিকা ও ইউরোপের বেশিরভাগ দেশে ডানহাতি ট্র্যাফিক ব্যবস্থা চালু থাকলেও আমরা কেন বাঁ হাতে ট্র্যাফিক ব্যবস্থায় চলাচল করি?
এসব প্রশ্নের উত্তর জানাবো আজকে..
বর্তমানে পুরো বিশ্বের মাত্র ৩৫ শতাংশ দেশে হাতের বাম দিক দিয়ে গাড়ি চালানোর নিয়ম মেনে চলে। বামে গাড়ি চালানো দেখা যায় মূলত ইংল্যান্ড, ভারত, পাকিস্তান, বাংলাদেশ সহ আরো কয়েকটি দেশে। ইউরোপের অন্যান্য দেশগুলো ডান দিক দিয়ে গাড়ি চালানোর নিয়ম মেনে চললেও ইংল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড, সাইপ্রাস, মাল্টা এর বিপরীত। এ ছাড়াও আমেরিকা এবং আফ্রিকা মহাদেশের অধিকাংশ দেশেই একই নিয়ম দেখা যায়।
বতসোয়ানা, কেনিয়া, লেসোথো, মালাউই, মরিশাস, মোজাম্বিক, নামিবিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, সোয়াজিল্যান্ড, তানজানিয়া, উগান্ডা, জাম্বিয়া, জিম্বাবুয়ে, ইউরোপ, আকরোটিরি এবং ঢেকেলিয়া, সাইপ্রাস, গার্নসি, আয়ারল্যান্ড, আইল অফ ম্যান, জার্সি, মাল্টা, যুক্তরাজ্য দক্ষিণ আমেরিকা, গায়ানা, সুরিনাম
ক্যারিবিয়ান (Caribbean)
অ্যাঙ্গুইলা, অ্যান্টিগুয়া এবং বার্বাডোস, বাহামা, বার্বাডোস, ব্রিটিশ ভার্জিন দ্বীপপুঞ্জ, কেম্যান দ্বীপপুঞ্জ, ডোমিনিকা, গ্রেনাডা, জ্যামাইকা, মন্টসেরাট, সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিস, সেন্ট লুসিয়া, সেন্ট ভিনসেন্ট অ্যান্ড দ্য গ্রেনাডাইনস, ত্রিনিদাদ ও টোবাগো, তুর্কস অ্যান্ড কাইকোস দ্বীপপুঞ্জ, ইউএস ভিআরজিন। দ্বীপপুঞ্জ।
অন্যান্য দ্বীপপুঞ্জ (Other Islands)
বারমুডা, ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ, মালদ্বীপ, সেন্ট হেলেনা, অ্যাসেনশন, এবং ট্রিস্তান ডি কুনহা, সেশেলস, দক্ষিণ জর্জিয়া এবং দক্ষিণ স্যান্ডউইচ দ্বীপপুঞ্জ
একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে যে পৃথিবীর মোট জনসংখ্যার দুই-তৃতীয়াংশ (১৬৩ টি দেশ এবং অঞ্চল) ডানদিকের (আরএইচটি) ট্র্যাফিক পদ্ধতি মেনে চলে। বাকি ৭৬টি দেশ এবং অঞ্চলগুলো বামদিকের (LHT) ট্র্যাফিক পদ্ধতি মেনে চলে।
ট্রাইফ আইনের ইতিহাস:
ধারণা করা হয় traffic ব্যবস্থার ডান-বামে চলার প্রচলন শুরু হয় রোমান আমল থেকে। রাস্তায় চলাচলের এই নিয়মের প্রথম প্রত্নতাত্ত্বিক প্রমাণ পাওয়া গেছে রোমান সম্রাজ্যে। প্রাচীনকালে প্রায় সবখানেই হাতের “বামে চলার” নিয়ম চালু ছিল।.
রোমান সাম্রাজ্যকে আধুনিক সাম্রাজ্য বলা হত যোগাযোগের উন্নয়নের জন্য। তখন পুরো ইউরোপ জুড়েই ছিল সুপ্রশস্ত রাস্তাঘাট। এই সব রাস্তায় মাল ও যাত্রীবাহী বাহনের ছিল বিপুল সমাহার। এ কারণে তাদের এমন কিছু নীতিমালার বাস্তবায়নের প্রয়োজন ছিল যাতে রাস্তায় মানুষ এবং যানবাহন চলার সুষ্ঠু ব্যবস্থা থাকে।
প্রত্নতাত্ত্বিকগণ যে প্রমাণ পেয়েছিলেন তা রোমানদের রাস্তার বাম দিক দিয়ে চলাটাই নির্দেশ করে। কিন্তু সঠিকভাবে জানা যায় নি, কেন তারা বাম দিকটাই বেছে নিয়েছিলেন। তবে নিশ্চিতভাবে বলা যায়, তাদের এই নিয়মটাই মধ্যযুগ পর্যন্ত সব জায়গায় চালু ছিল।
প্রাচীন রোমানরা কেন বাম দিকে গাড়ি চালাত তা ইতিহাসের পাতা থেকে কিছুটা জানা যায়:
ঘোড়া নিয়ন্ত্রণ
প্রাচীন রোমের রাস্তা
একজন ডানহাতি চালক সবার বামে যে ঘোড়া থাকতো, তার উপর বসতো। চালক তার বাম হাতে ঘোড়ার লাগাম এবং ডান হাতে চাবুক নিয়ে একসাথে সবগুলো ঘোড়াকেই নিয়ন্ত্রণ করতো। দ্বিমুখী ট্রাফিকের মধ্যে রাস্তার বাম দিকে গাড়ি চালানোর সুবিধা এবং চাবুক ব্যবহার করে আগত ঘোড়াকে আঘাত করে নিয়ন্ত্রণ করতো।
চলাচলের সুবিধার্থে
পিছন বা সামনের দিক থেকে আগত ওয়াগনগুলিতে নজর রাখা সহজ। তাছাড়া মালামাল ও যাত্রী পরিবহণে তারা বাম পাশটাই ব্যবহার করতেন।
যুদ্ধের সুবিধার্থে
রোমানরা অধিকাংশ ডান হাতি হওয়ার কারণে তাদের অস্ত্র বামদিকে রাখতো। ফলে সহজেই অস্ত্র বের করে ডান দিক থেকে আগত শত্রুদের মোকাবেলা করতে সুবিধা হতো। তাছাড়া নিজেদের বহন করা অস্ত্রগুলো শরীরের বাম পাশে খাপের মধ্যে রাখা হত। যুদ্ধের সময় অশ্বারোহী তাদের বাম হাতে ঘোরার লাগাম ধরে ডান হাতে অস্ত্র ব্যবহার করে প্রতিপক্ষের সাথে যুদ্ধে লিপ্ত হতেন। তাই বাম দিকে ট্র্যাফিক ব্যবস্থায় তাদের জন্য সুবিধা হতো।
বিপরীত দিক থেকে আগত বাহনের চালকের সাথে যোগাযোগের সুবিধার্থে
Left-Hand Driving হওয়ার কারণে চালক সব সময় ডান দিকে বসতো। এর ফলে বিপরীত দিক থেকে যে সব যানবাহন আসতো এদের চালকের সাথে যোগাযোগ করা সহজ হতো।
প্রাচীন রোম বাঁ-দিক অনুসরণ করলেও আধুনিক রোম ডানদিকে ড্রাইভ করে।
যুদ্ধক্ষেত্র: রোম
১৮ শতাব্দীতে আমেরিকায় সর্বপ্রথম ডানে চলার উৎসটি খুঁজে পাওয়া যায়। সে সময় আমেরিকায় বড় বড় মালবাহী ঘোড়ার গাড়ির প্রচলন ছিল। যেহেতু গাড়িগুলো আকার বড় ছিল, তাই রাস্তাগুলোয় এদের দাপট বেশি ছিল। এই কারণে বাকি সব গাড়ি এদের চলার নিয়ম অনুযায়ী নিজেদের মানিয়ে নিতে বাধ্য হতো।
এই গাড়িগুলোর বৈশিষ্ট্য ছিল, প্রতিটা গাড়ির সাথেই ৪-৬ টি ঘোড়া যুক্ত থাকতো। তবে চালকের বসার জন্য কোন নির্দিষ্ট আসন ছিল না। এর ফলে একজন ডানহাতি চালক সবার বামে যে ঘোড়া থাকতো, তার উপর বসতো। আর ডান হাতে একটা চাবুক নিয়ে একসাথে সবগুলো ঘোড়াকেই নিয়ন্ত্রণ করতো।
এদিক দিয়ে ইংল্যান্ড আবার সম্পূর্ণ বিপরীত ছিল। আমেরিকানদের ডান দিক দিয়ে চলার পেছনে এই যে বড় বড় মালবাহী গাড়িগুলোর অবদান রয়েছে সেগুলো কিন্তু তেমন সুবিধাই করতে পারেনি ইংল্যান্ডে।
কারণ লন্ডনের রাস্তাগুলো ছিল সরু, এবং এ ধরনের গাড়ি চলার জন্য ছিল অনুপযুক্ত। তার সাথে ইংল্যান্ড কখনোই নেপোলিয়ন বা জার্মানির অধীনে ছিল না। তাই তারা তাদের শত বছরের পুরোনো “বামে চলার” নিয়মটাই মেনে চলেছে।
ইউরোপীয়দের মধ্যে ১০০ বছরের বেশি সময় ধরে Right-Left Driving সংশোধন করা হয়েছে। এখন মাত্র চারটি ইউরোপীয় দেশে Left-Hand Driving চালু রয়েছে। যেহেতু পৃথিবীর বেশির ভাগ অঞ্চলেই ব্রিটিশদের রাজত্ব ছিল, তাই এই নিয়মটি বিশ্বের অধিকাংশ দেশে এখনও প্রচলিত রয়েছে।
১৩০০ খ্রিস্টাব্দে, পোপ বোনিফেস অষ্টম আদেশ দিয়েছিল যে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে রোমে আসা লোকেরা তাদের ভ্রমণের সময় রাস্তায় বামে চলার নিয়মটি অনুসরণ করতে হবে। এর পরে, সপ্তদশ শতাব্দীর শেষে, প্রায় সমস্ত পশ্চিমা দেশগুলিতে রাস্তায় চলার এ নিয়মই অনুসরণ করা হয়েছিল।
১৭৫৬ সালে এটাকেই আইন হিসেবে জারি করে ব্রিটেন। তারপর যত ব্রিটিশ সাম্রাজ্য বিস্তার করতে শুরু করে পুরো বিশ্বে তত এই “বামে চলার” রীতির প্রসার হতে থাকে। তবে জার্মানির প্রসার লাভের সাথে সাথে “ডানে চলার” রীতির জনপ্রিয়তা বাড়তে থাকে। যে কারণে ব্রিটেনের অধীনে থাকা অনেক দেশেই “বামে চলা” রীতির প্রচলন উঠে যায়। তবে এখনো এশিয়া মহাদেশের কিছু দেশে রাস্তার বাম দিয়ে চলার রীতি চালু আছে।
আকাশ, সমুদ্র, রেলপথের ক্ষেত্রে
অনেক দেশ আবার সড়ক পথে একরকম এবং নদী ও সমুদ্র পথে অন্যরকম পদ্ধতি অনুসরণ করে। সাধারণত “সি কোলিসন” এড়ানোর জন্য অনেক দেশে সমুদ্র পথে ডানদিকের ট্র্যাফিক পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়। আন্তর্জাতিক নিয়মও তাই। একই ব্যাপার আকাশপথের ক্ষেত্রেও। যুক্তরাষ্ট্রের মিলিটারিরা তাই এয়ার্ক্রাফট সবসময় বায়ু এবং সমুদ্রের উভয়ের ডানদিকে চলাচল করতে বলে।
আবার অনেক দেশে যানবাহন ডানদিকগামী হলেও রেল বামদিকের হয় অথবা যান চলাচল বামদিকগামী হলে রেল চলাচল ডানদিকগামী হয়। চায়না এই পদ্ধতি অনুসরণ করে। তাদের এইরকম করার পিছনে আবার তেমন কোনো বিশেষ কারণ নেই। তবে এখনও বেশির ভাগ দেশে বামদিকগামী ট্র্যাফিক পদ্ধতিই বেশি সমাদৃত। কারণ মানুষ যখন চলাচল করে তখন তাদের মস্তিষ্কের ডানভাগ বেশি সচল থাকে। তাই বামদিকে ট্র্যাফিক চলাচলই বেশি নিরাপদ।
লেফট হ্যান্ড ড্রাইভের সুবিধা
বাম হাতের চালিত যানবাহনগুলো প্রধানত সেসব দেশে ব্যবহৃত হয় যেখানে রাস্তার ডান দিকে গাড়ি চালানো নিয়ম। বাম হাতের ড্রাইভ গাড়ি বেছে নেওয়ার কিছু সুবিধা রয়েছে
Enhanced Visibility and Safety: বর্ধিত দৃশ্যমানতা এবং নিরাপত্তা:
এসব যানবাহনে, চালক রাস্তার কেন্দ্ররেখার কাছাকাছি বসেন, যা সামনে থেকে আসা traffic এবং রাস্তার অবস্থা আরও ভালো করে দেখা যায়। বিশেষ করে ওভারটেকিং এবং ম্যানুভারিংয়ের সময় সাহায্য করে।
Wider Availability: (বিস্সৃত পরিসর)
লেফট হ্যান্ড ড্রাইভের যানবাহন সাধারণত বেশি পরিমাণে তৈরি হয় এবং মডেল সংখ্যাও অধিক। এর ফলে অনেক মডেলের মধ্যে থেকে আপনার প্রয়োজন অনুসারে পছন্দের গাড়িটি সহজেই বেছে নিতে পারেন।
পুনবিক্রয় মূল্য (Resale Value)
যে-সব অঞ্চলে বাম হাতের ড্রাইভ প্রচলিত, সেখানে এসকল যানবাহনের পুনবিক্রয় চাহিদাও অনেক বেশি থাকে। যদি ভবিষ্যতে আপনার গাড়ি বিক্রি করতে বা ব্যবসা করার পরিকল্পনা করেন তবে এটি গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনা হতে পারে।
রাইট হ্যান্ড ড্রাইভের সুবিধা (Advantages of Right Hand Drive)
বাম হাতে গাড়ি চালানোর মতো ডান হাতেও অনেকটা স্বাভাবিক যেখানে এ ধরনের নিয়ম প্রচলিত আছে। আসুন ডান হ্যান্ড ড্রাইভ গাড়ি বেছে নেওয়ার কিছু সুবিধা জেনে নেই
পরিচিতি (Familiarity)
আপনি যদি ডান হাতি হয়ে থাকেন তাহলে RHD আপনার জন্য বিশেষ সুবিধা পাবেন। এক্ষেত্রে গাড়ি নিয়ন্ত্রণের বিভিন্ন সরঞ্জামের অবস্থান, যেমন গিয়ারশিফ্ট এবং ইন্ডিকেটর, ইত্যাদি ব্যবহার করতে চালকের বেশ সুবিধা হয় যদি তিনি ডানহাতি হন।
সহজ সড়ক যোগাযোগ (Easier Road Communication)
ডান হাতে চালিত যানবাহনে, চালককে রাস্তার ধারের কাছাকাছি অবস্থান করতে হয়, যা পথচারী, সাইকেল চালক এবং অন্যান্য রাস্তা ব্যবহারকারীদের সাথে সহজ যোগাযোগের সুবিধা হয়।
আমদানি বাজারে প্রবেশ সহজ (Access to Import Markets)
আপনার দেশের উপর নির্ভর করে, ডান হাতি ড্রাইভ গাড়ি বেছে নেওয়ার ফলে RHD প্রচলিত দেশগুলি থেকে অনন্য মডেল আমদানি করার সম্ভাবনা আরো উন্মুক্ত হতে পারে। এটি বিশেষ করে গাড়ি উৎসাহীদের জন্য বিশেষভাবে লোভনীয় হতে পারে যারা ব্যতিক্রম মডেলের গাড়ি সংগ্রহে রাখেন।
পরিশেষে বলা যায়, প্রাচীনকালে এভাবেই কিছু সাধারণ নীতির মাধ্যমে ট্রাফিকের নিয়ম গুলো পালন করা হতো। তবে আধুনিক সমাজে উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে যানবাহন ও মানুষের চলাচল নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা চালু আছে। এমনকি কোন কোন ক্ষেত্রে স্যাটেলাইট ব্যবহার করেও এসব গাড়ি অবস্থান নির্ণয় ও নিয়ন্ত্রণ করা হয়। আর AI প্রযুক্তি আসার পর থেকে অনেক উন্নত শহরে মনুষ্যবিহীন যানবাহন চলাচল করতে দেখা যায়।
গুগলকে বলা যায় এক জ্ঞানের ভাণ্ডার। যে কোনো তথ্য জানতে ও খুঁজতে সকলে গুগলের উপর ভরসা রাখেন। কথ্য আছে, এম কোন কিছু নেই যা গুগলে পাওয়া যায় না। তবে সাবধান! কিছু স্পর্শকাতর তথ্য আছে যেগুলো জানতে গুগলে সার্চ দিলেই পরতে হবে বিপদে, এমনকি হতে পারে জেল। চলুন তাহলে দেখে নেই গুগলে নিষিদ্ধ জিনিসগুলো।
পৃথিবীর প্রতিটা দেশের জন্যই গুগলের নিজস্ব নীতি রয়েছে। আবার গুগল সেই নীতিগুলো সে সব দেশের উপর জারি করে। গুগলে সার্চ করার সময় আমাদের সকলকেই একটু সতর্ক থাকতে হবে। কারণ গুগলে এমন কিছু স্পর্শকাতর বিষয় রয়েছে, সেগুলো সার্চ করলে আপনার জন্য মহাবিপদের কারণ হতে পারে। এই জন্য গুগলে কোনো কিছু সার্চ করার আগে একটু চিন্তা ভাবনা করবেন।
খুব সাধারণ ভুলের কারণে ভিয়েতনামের এক ব্যক্তিকে গত বছরে পুলিশ গ্রেফতার করেছিল। এ জন্যই, গুগল সার্চিংয়ের সময় কোন কোন জিনিস খুঁজবেন আর কোন কোন জিনিস খুঁজবেন না এই বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে।
চলুন সে সব বিষয় একবারে জেনে নেই।
১. বোমা কীভাবে তৈরি হয়
আমাদেরকে গুগলে সার্চ দেওয়ার সময় সচেতন থাকতে হবে। আপনি যদি ‘‘বোমা কীভাবে তৈরি করে ’’ এই ধরনের বিষয়ের অনুসন্ধান করেন, তাহলে এটি আপনার জন্য ভয়ংকর হতে পারে। এই বিষয়টা গুগলে সার্চ করলে সরাসরি সরকারি নিরাপত্তা কর্মী এবং গুগলে সার্চ ইঞ্জিনের কর্মীদের টার্গেট হতে পারেন। শুধু বোমা তৈরি নয়, এমন কোন বিষয় যা মানুষের ক্ষতি করতে পারে, এই সকল বিষয় সার্চ করা আপনার জন্য বিপজ্জনক হতে পারে।
২. ব্যাংকিং সংক্রান্ত যে কোনও লিঙ্ক
আপনি যদি গুগলে সার্চ দিয়ে কোন ব্যাংকের ওয়েবসাইটে ঢুকতে চান, তাহলে আগেই সাবধান হন। অনলাইনে ডুপ্লিকেট ও ভুয়ো অনেক ওয়েবসাইট থাকে। এই ওয়েবসাইট গুলো আপনাকে সর্বস্বান্ত করে দিতে পারে। অনেক সময় ব্যাংকের ওয়েবসাইটের আদলে ফিশিং সাইট তৈরি করে রাখে দুর্বৃত্তরা। আপনি ভুলে এমন কোনো সাইটে গিয়ে নিজের আইডি-পাসওয়ার্ড দিয়ে ফেললেই সর্বনাশ। তাই ব্যাংকিং-এর ক্ষেত্রে অবশ্যই সরাসরি ওয়েব অ্যাড্রেস টাইপ করে খুলুন। অনলাইন লেনদেনের সময় থাকুন সতর্ক। বাংলাদেশের ব্যাংকগুলোর ওয়েবসাইট ভিজিট করুন এখানে।
৩. গর্ভপাত সংক্রান্ত কোনও শব্দ লিখবেন না
গুগল সার্চে নিয়মিত গর্ভপাত সংক্রান্ত যে কোনও বিষয়ের অনুসন্ধান ভয়ংকর হতে পারে। বিভিন্ন দেশে গর্ভপাত নিয়ে যেমন আইন আছে তেমনি গুগলও এ বিষয়ে বেশ সতর্ক। সেই দিকটা মাথায় রেখেই গুগলে গর্ভপাত নিয়ে আপনারও অত্যন্ত সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
৪. শেয়ারবাজার সংক্রান্ত তথ্য
গুগলে শেয়ারবাজার সার্চ করলেই হাজারও ওয়েবসাইটে পাবেন নানান পরামর্শ। কিন্তু নির্দিষ্ট ও নামি কিছু ওয়েবসাইট ছাড়া শেয়ারবাজার সংক্রান্ত বুদ্ধি না নেওয়াই শ্রেয়। একইসঙ্গে বিভিন্ন ভুয়া সংস্থা ‘ট্রেডিং’-এর নাম করে প্রতারণার ফাঁদ পেতে থাকে। তাই এ বিষয়ে গুগল সার্চের ওপর বেশি নির্ভর না করাই ভালো।
৫. চাইল্ড পর্ন সংক্রান্ত যে কোনও বিষয়ের অনুসন্ধান
পৃথিবীর বিভিন্ন জায়গায় শিশু পর্নোগ্রাফিক সংক্রান্ত যে কোন বিষয়ের অনুসন্ধান করাকে গুগল একবারেই ভালো চোখে দেখে না, এক কথায় নিষিদ্ধ। সহজ ভাবে বলতে গেলে, এই সব স্পর্শকাতর বিষয়গুলো গুগলে সার্চ করা বেআইনি। আপনি যদি অন্য কোন ভাবে গুগলের কাছ থেকে এই ধরনের কিছু অনুসন্ধান করেন, তা-ও কিন্তু ধরে ফেলতে পারে গুগল। এই জন্য, আপনার বাড়িতে পুলিশ যাতে কড়া না নাড়ে, তা নিশ্চিত করতে হলে এই বিষয়গুলো খেয়াল রাখতে হবে।
৬. অপরাধমূলক কার্যকলাপ সম্পর্কিত প্রশ্ন
এমন যে কোনো বিষয়, যা আপনার নজরে অপরাধমূলক, সে সংক্রান্ত কোনো প্রশ্ন গুগলকে করবেন না। কারণ, অপরাধমূলক তথ্যের অনুসন্ধান সব সময়ই বিপজ্জনক হতে পারে। যেমন ধরুন, কাউকে ভয় দেখাতে বা কাউকে আক্রমণ করার জন্য আপনি গুগলে গিয়ে বন্দুকের দাম দেখছেন, বা বন্দুকের মডেল দেখছেন, সার্চ করলেই আপনার জেল যাত্রাও হতে পারে। পাশাপাশি এমন কিছু মাদকদ্রব্য, যা আপনার দেশে বেআইনি বা নিষিদ্ধ, তার অনুসন্ধানেও আপনার জন্য অনেক ঝুঁকি হতে পারে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিরে কিন্তু ওত পেতে বসে আছে আপনার এই কার্যকলাপ ধরার জন্য। তাই সাবধান।
৭. ই-মেইল আইডি
আপনি কখনোই গুগল দিয়ে নিজের ই-মেইল আইডি খোঁজা চেষ্টা করবেন না। কারণ হ্যাকাররা সব সময় অপেক্ষায় থাকে, কে বা কারা তাদের ফাঁদে পা দেয়। হ্যাকাররা যদি আপনার মেইল পেয়ে যায় তাহলে সে আপনার গুপ্ত তথ্যগুলো সেখান থেকে বের করে নেয়ার চেষ্টা করবে। আর এটি আপনার জন্য বড় ধরনের ক্ষতির কারণ হতে পারে। তাই সকলের সাবধানতা অবলম্বন করা উচিত।
৮. ওষুধ ও চিকিৎসা
আপনি যদি কোনো সমস্যায় ভুগেন তাহলে সরাসরি চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলুন। গুগলে দেওয়া বিভিন্ন তথ্য সব সময় সঠিক হয় না। গুগলে যেমন সঠিক তথ্য আছে ঠিক অপরপক্ষে ভুল তথ্যেরও ছড়াছড়ি। টুকটাক শরীর খারাপে ওষুধ, প্রাথমিক চিকিৎসা ইত্যাদি দেখতে পারেন। কিন্তু শরীর খারাপের ক্ষেত্রে গুগল সার্চ করে কোন ওয়েবসাইট দেখে ডাক্তারি করা মোটেও বিচক্ষণতার কাজ নয়। গুগলে দেখা তথ্য অনুযায়ী ওষুধ কিনে বিপদে পড়তে পারেন। তাই স্পর্শকাতর বিষয়গুলোতে গুগল সার্চের ওপর নির্ভর করা উচিত নয়। ওষুধ এবং চিকিৎসার জন্য অবশ্যই একজন রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
৯. কাস্টমার কেয়ার নম্বর
অনেকেই বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের জন্য কাস্টমার কেয়ারের নম্বর গুগল এ খুঁজে থাকেন। এটি অবশ্যই করবেন না। অনেক ক্ষেত্রেই সেখানে হ্যাকাররা ভুলভাল নম্বর দিয়ে রাখে। সেই নম্বরে ফোন করলেই হতে পারেন ক্ষতিগ্রস্ত। এমনকি অ্যাকাউন্ট থেকে সব টাকা ছিনিয়ে নিয়ে সর্বশান্তও হতে পারেন।
১০. অ্যাপ ও সফটওয়্যার
অনেকেই বিভিন্ন অ্যাপ ও সফটওয়্যার সরাসরি গুগল সার্চ করে খোঁজেন। এমন কিছু অ্যাপও থাকে যা গুগল প্লে স্টোরে থাকে না। কিন্তু এভাবে ডট এপিকে ফাইল ডাউনলোডের ক্ষেত্রে সবসময়েই ঝুঁকি থেকে যায়। অজানা সাইট থেকে অ্যাপের আকারে ডাউনলোড হতে পারে ম্যালওয়্যার। ইনস্টল করার সঙ্গে সঙ্গেই আপনার প্রাইভেসির দফারফা। স্মার্টফোনের বারোটাও বাজতে পারে। আপনার ফোনের নিয়ন্ত্রণ চলে যেতে পারে হ্যাকারদের কাছে।
১১. গুগলে বিভিন্ন অফারের খোঁজ
বিভিন্ন ডিসকাউন্ট অফার পেতে অনেকেই গুগলের আশ্রয় নেন। সার্চ রেজাল্টে হাজারো অফারের লিংক পাবেন। অপরিচিত এসব লিংকে ক্লিক করলেই বিপত্তি, দুর্বৃত্তরা হাতে নিতে পারে আপনার সকল গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। তাই অফারের ফাঁদে না পড়ে যে সাইটে কেনাকাটা করতে চান সরাসরি তাদের ওয়েবসাইট থেকে পণ্য কিনুন। এতে আপনি সুরক্ষিত থাকবেন।
১২. ফ্রি অ্যান্টিভাইরাস পেতে
সাধারণত কম্পিউটারের নিরাপত্তা রক্ষার জন্য আমরা এন্টিভাইরাস ব্যবহার করে থাকি। সুবিধা ভেদে এসব অ্যান্টিভাইরাসের দাম ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে। অনেকেই বিনামূল্যে এসব অ্যান্টিভাইরাস কিনতে google এ সার্চ দিয়ে থাকেন। ‘ফ্রি অ্যান্টিভাইরাস’ খোঁজ করলে জানা এবং নাম না জানা অনেক অ্যান্টিভাইরাস পাবেন যেগুলো আসলে ভুয়া। এসব অ্যান্টিভাইরাসের বিভিন্ন তথ্য আকর্ষণীয় হলেও ইনস্টল করার পর দেখা দিতে পারে বিপত্তি। আপনার ডিভাইসের জন্য ক্ষতির কারণ হতে পারে। তাই গুগলে ফ্রি এন্টিভাইরাস সার্চ না দিয়ে জনপ্রিয় অ্যান্টিভাইরাসগুলোর ওয়েবসাইট থেকে বা কোন রিটেইলার সব থেকে অ্যান্টিভাইরাস কিনে তারপর ব্যবহার করুন, এতে আপনার তথ্য নিরাপদ থাকবে।
১৩. নানা ধরনের ছাড়ের কুপন
কিছুটা খরচ বাঁচাতে অনেকেই কেনাকাটার জন্য কুপন সার্চ দিয়ে থাকেন। তবে সাবধান, এসব কুপনের আড়ালে অনেক ভুয়া ওয়েবসাইট পাবেন যেগুলোতে প্রবেশ করলেই আপনার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য চুরি হয়ে যেতে পারে। তাই ছাড়ের জন্য এসব থার্ড পার্টি ওয়েবসাইটের উপর নির্ভর না করে সরাসরি কেনাকাটার সাইট ভিজিট করুন। তাদের দেয়া ছাড়গুলো নিতে পারেন।
১৪. সরকারি নানান তথ্য ও সেবা
বিভিন্ন দাপ্তরিক কাজে ও নাগরিক প্রয়োজনে অনেকেই সরকারি ওয়েবসাইটগুলোতে প্রবেশ করেন। তবে এসব ওয়েবসাইটের ক্ষেত্রে গুগলে সার্চ দেয়ার ক্ষেত্রে সাবধানতা অবলম্বন করবেন। যেহেতু এসব ওয়েবসাইটে ভিজিটর বেশি সেহেতু দুর্বৃত্তরা হুবহু ওয়েবসাইট ক্লোন করে রাখে। এসব ক্লোন ওয়েবসাইটে প্রবেশ করলেই আপনার তথ্য চুরি হয়ে যেতে পারে। গুগল সার্চে দেখা অনেক ওয়েবসাইট প্রকৃত মনে হলেও তা আসলে প্রতারণার বিশাল ফাঁদ। সে কারণে সতর্কতার সাথে এসব সরকারি ওয়েবসাইটের ওয়েব ঠিকানা লিখে প্রবেশ করুন।
এসব আলোচনা থেকে বুঝতেই তো পারছেন গুগল যে রকম আমাদের অনেক দীর্ঘ কাজকে সহজ করে দেয় ঠিক তেমনি ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয় অনেক গুণ। তাই গুগলে তথ্য খোঁজার ক্ষেত্রে নিশ্চিন্ত হয়ে এবং সময় নিয়ে তারপর ওয়েবসাইটগুলোকে পর্যবেক্ষণ করুন। আপনার ছোট্ট একটি ভুলে সহজেই চুরি হয়ে যেতে পারে আপনার মূল্যবান তথ্য। এবং এই তথ্য দিয়েই আপনি প্রতারিত হতে পারেন দুর্বৃত্তদের কাছে।
আর বিভিন্ন ফিশিং ওয়েবসাইট এবং অনলাইন স্প্যামারদের থেকে নিরাপদ থাকতে আপনার কম্পিউটার বা মোবাইলের অপারেটিং সিস্টেমের নিরাপত্তা সংস্করণ সবসময় আপডেট রাখুন।
আমাদের শিকরের বাংলা ভাষায় আঞ্চলিকতার মাধুর্য অতুলনীয়। দেশের বিভিন্ন স্থানে অনেক জিনিসই ভিন্ন ভিন্ন নামে ডাকা হয় যা আমরা জানিনা। এক অঞ্চলের বুলি তো অন্য অঞ্চলের গালি। অনেক সময় অন্য অঞ্চলে বেড়াতে গেলে তাদের আঞ্চলিক ভাষা বোধগম্য হয় না, তৈরি হয় নানা সমস্যা।
এ কথা চিন্তা করেই আপনাদের জন্য আমাদের এই আয়োজন। পুরনো সে নস্টালজিক নাম গুলো ফিরিয়ে আনতেই আমাদের প্রয়াস।
জ্ঞান সীমাহীন। তাই অনুরোধ রইল যদি কোন নাম আপনার জানা থাকে তাহলে অনুগ্রহ করে কমেন্টে জানান। আমরা আপডেট করে দেব। আপনাদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ একান্ত কাম্য।
বিভিন্ন ফলের আঞ্চলিক নাম-
কাঁঠাল- হাট্টল, এঁচোর
পেয়ারা- গইয়াম, গোঁয়াছি, সপরি, হবরি
পেঁপে- হইয়্যে, পাপি, কোম্বা, কয়ফল
নারকেল- নাইকল্, নাইজ্জল,নারিকেল,নারকল, নাহোইল
টিপা ফল- লুকলুকি, পাইন্যাগুলা
আমড়া- আঁরাঁ গুলা
গাব- গাগগুলা,
কলা- কেলা,ক্যালা
কামরাঙা- হঁওঁরা,কারাঙ্গা
খেজুর- হাজুগুলা,
পেয়ারা- সফরি/হফরি
বাতাবি লেবু- মাত্তু,জাম্বুরা,তোমপুরা
বিভিন্ন শস্যের আঞ্চলিক নাম-
ভুট্টা- মক্কাগুলা
আঁখ- আউক, কুসের
সুপারি– গুয়া
বিভিন্ন পোকা- মাকড় ও পশু-পাখির আঞ্চলিক নাম-
পাখি- পকি
শালিক- হালিক
কাক- কাউয়া
ঝিনুক- খাফনা, ঝিনেই
ষাঁড়- দামা
কুকুর- কুত্তা
বিড়াল– বিলাই/মেকুর, বিলেই
কেঁচো– জির, কেউচ্চা, চেরা
মহিষ– ভইস, ভোস
ছাগল– বকরি, হাইলন
ইঁদুর– এন্দুর, উন্দুর
হাঁস– আস
মুরগী– চড়াই, মুরহা, ডেকি
মোরগ– রাওয়া
তেলাপোকা– ত্যালাচোরা, তেলচাটা
পাতিশিয়াল– পাতিহাল, খেকশিয়াল
মাকড়সা- মাহর, মাকড়া, মাকরাসা
গুঁই সাপ- গুইল
শকুন- হগুন
বানর- বান্দর
পিঁপড়া- পিরা, পিকড়ে
শুকর- হুয়ার, শুয়োর
শামুক- হামুক, টোকরাই
হনুমান- অলুমান
পুরুষজাতীয় বিড়াল- ওলা বিলই
বিভিন্ন শাক-সবজির আঞ্চলিক নাম-
শাক- হাগ্
বরবটি- লবিউড়ি, লুবুড়ি
পাটশাক- নালি হাগ, নাইল্যা, পাটা শাক
টমেটো- আম বাগুন, লাল বাগন
ডাল- কালাই
মিষ্টি কুমড়া- মিষ্টি লাউ, লাল কদু
ডাটা শাক- ডুগি, ডাঙ্গা শাক, ডাউঙ্গা
চাল কুমড়া- জালি কদু, জালি কুমড়া
শশা- হোয়া, শোয়াস
সীম- উসসি, সিমে
লেবু- লেমু, কাকজি
ঢেঁরস- ভেন্ডি
শিম- উড়ি, শিমে
বিভিন্ন মাছের আঞ্চলিক নাম-
চিংড়ি- ইছা,ইচলে, জালি মাছ
টাকি মাছ- ছেং মাছ,গড়াই,শাটি,ভুলেই,ভুরকুটি,চ্যাং
বোয়াল মাছ- গুয়াল মাছ
শিং মাছ- হিঙ্গি, শিংঙ্গি, কানছ মাঝারি চিংড়ি- মটকা মাছ
মা, মানেই যেন সকল শান্তির আশ্রয়স্থল। মা ছাড়া যেকোন প্রাণীর জন্ম, বেড়ে ওঠা কল্পনাই করা যায় না। সেখানে যদি বলা হয়, সেই বাচ্চাই জন্মের পর মাকে খেয়ে ফেলে। তখন কেমন হবে? হ্যাঁ, এমনি কিছু প্রাণী আছে যারা জন্মের পর নিজেদের ক্ষিদে মিটাতে মাকেই খেয়ে ফেলে। কাঁকড়া, বিছা, মাকড়শা এবং নেমোটেড পোকারা এ ধরণের প্রাণী।
প্রাণীজগতে মাঝে মাঝে শুনতে পাওয়া যায়, মায়েরা তাঁদের বাচ্চা কিংবা ডিম খেয়ে ফেলে। তবে, পৃথিবীতে ৩৭ হাজার ২৯৬ প্রজাতির মাকড়সার মধ্যে কিছু প্রজাতি রয়েছে, যাদের মাঝে এর ব্যতিক্রম লক্ষ্য করা যায়। যেমন-ক্র্যাব স্পাইডারদের মা নিজেই সন্তানকে অপরিপক্ক ডিম খাওয়ার সুযোগ করে দেয় এবং একটা সময় সন্তান নিজের মাকেই খেয়ে ফেলে। এটা চলতে থাকে মায়ের শরীর পুরোপুরি শেষ না হওয়া পর্যন্ত বা মার শরীর অসাড় হয়ে না পড়া পর্যন্ত।
অনেকে মনে করেন, এই প্রজাতির সন্তানরা নিজেদের খেয়াল নিজেরাই রাখতে সক্ষম বলে এমনটা হয়। তাছাড়া, জন্মের পর তাঁদের চিবিয়ে খাওয়ার ক্ষমতা থাকে বলেও এ ঘটনা ঘটে।
ব্ল্যাক লেক ওয়েভার নামে একধরনের মাকড়সা ভূমধ্যসাগরীয় এলাকার কয়েকটি দেশে পাওয়া যায়। যেখানে মা-মাকড়সা ডিম পেড়ে নিজের দেহেই বহন করে বেড়ায়। যতক্ষণ না ডিম ফুটে বাচ্চা বের হয়। একসময় এ ডিম ফুটতে শুরু হয়। ছোট ছোট বাচ্চারা ক্ষুধার জ্বালায় মায়ের দেহই খেতে শুরু করে। মা মাকড়সা সন্তানদের মুখের দিকে চেয়ে সব কষ্ট নীরবে সহ্য করে। খেতে খেতে একসময় বাচ্চারা মায়ের পুরো দেহই খেয়ে ফেলে। পড়ে থাকে শুধু মৃত মায়ের ছিন্নবিচ্ছিন্ন দেহটা। পুরুষ মাকড়সাই তখন তাদের সন্তান লালন-পালন করে থাকে।
প্রাণীবিজ্ঞানীরা ব্রাজিলিয়ান ম্যানেগিয়া পোরাসিয়া বা অক্ষিগোলক মাকড়সার গবেষণা করে বলেন, এ প্রজাতির নারী মাকড়সা শিকারি হতে ডিম রক্ষা করতে বৃক্ষাচ্ছাদিত পরিবেশে পাতার তলে মরার মতো পড়ে থাকে। অথবা নিজ ঘরের অন্ধকার কোণে জালে বসে ডিম ফোটানোর কাজ করে। আর পুরুষ মাকড়সা, স্ত্রী মাকড়সার আশপাশেই থাকে ডিম পাড়া থেকে শুরু করে ফোটানো পর্যন্ত। কেননা, এ প্রজাতির স্ত্রী মাকড়সার জীবন ঝুঁকিতে থাকে। বাচ্চা জন্মের আগে বা পরে স্ত্রী মাকড়সা মারা যায়। তাই বাচ্চা জন্মের সঙ্গে সঙ্গে পুরুষ মাকড়সা নিজের আয়ত্বে নিয়ে নেয়। বেশিই ভাগ ক্ষেত্রে মায়েরা বাচ্চা বড় হওয়া পর্যন্ত দেখ-ভাল করলেও এই ম্যানেগিয়া পোরাসিয়া বাবারা সে দায়িত্ব পালন করে থাকে। পিতা-মাতার দায়িত্ব ভাগ করার ঘটনা এ প্রজাতির মাকড়সার মধ্যে অনন্য ও অদ্বিতীয়।
তবে প্রায় সব প্রজাতির স্ত্রী মাকড়সাই ডিম পাড়ে রেশম থলেতে। আর সেটি বয়ে বেড়ায় ডিম না ফোটা পর্যন্ত।
প্রবাদ-প্রবচন লোক সংস্কৃতির এক অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। এ দুইটি প্রায় একই অর্থে প্রয়োগ হলেও এদের মধ্যে সামান্য ভিন্নতা রয়েছে। প্রবাদ হচ্ছে লোকসমাজ বা কালের সৃষ্টি। আর ‘প্রবচন’ হল সমাজের সৃজনশীল মানুষের সৃষ্টি যেমন কবি,সাহিত্যিক ইত্যাদি।
যা শুধু মুখে মুখেই প্রচলিত, কোন লিখিত রূপ নেই সেটাই প্রবাদ।কিন্তু প্রবচনের লিখিত রূপ আছে এবং কালক্রমে সেটা সবাই মুখে মুখে ব্যবহার করে। প্রবাদ আকারে ছোট হলেও প্রবচন কিন্তু বড়।
তবে প্রবাদে উপমা, বক্রোক্তি, বিরোধাভাস প্রভৃতি অলংকারযোগে গঠিত হয়।
কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রবাদ-প্রবচন জেনে নেই-
অ
অকর্মা নাপিতের ধামা ভরা ক্ষুর– অক্ষমতার দুর্বলতা ঢাকতে অকর্মারা বেশি ভড়ং দেখায়; অকস্মাৎ/বিনামেঘে বজ্রাঘাত- অপ্রত্যাশিতভাবে কোন বিপদের সংঘটন।
অকারণে হৈ চৈ– অহেতুক চিন্তা;
অকালকুষ্মাণ্ড– অকালে জাত চালকুমড়ার পূজায় বলি হয় না ভাবার্থে- অকর্মণ্য; অকেজো; কোন কাজের নয় ইত্যাদি।
অকালে খেয়েছ কচু, মনে রেখ কিছু কিছু– মানুষের জীবনে সুখের দিন আসলে দুঃখের দিনগুলি ভুলে যায়, এটা ঠিক নয়।
অকাল গেল সুকাল এল পাকল কাঁটাল কোষ, আজ বন্ধু ছেড়ে যাও, দিয়ে আমার দোষ- অসময়ে উপকার পেয়ে নানা অজুহাতে সুসময়ে উপকারীকে ভুলে যাওয়া।
অকালে না নোয় বাঁশ পাকলে করে ট্যাঁশট্যাঁশ- কচি অবস্থায় বাঁশ না নোয়ালে পাকলে তা কটকট শব্দ করে; অর্থাৎ শিশুকালে নীতিশিক্ষা না দিলে বয়সকালে হাজার উপদেশ দিলেও তা বৃথা যায়।
অগা লোকের কাজ ঝকমারি- অকাজের লোকেরা কাজের ক্ষেত্রে বিভ্রাট সৃষ্টি করে।
অগুণ মানুষ গুণ না চিনে, মূষা না চিনে বিড়ালী;
অপ্রেমী যে প্রেম না চিনে, কাঠ না চিনে কুড়ালি- বুদ্ধিশুদ্ধি কম থাকা মানুষের বড় অভাব চেতনার।
অগুরু চন্দন ফেলে চায় শেওড়া কাঠ, কোকিলের ধ্বনি ফেলে বানরের নাট- ভালো ছেড়ে মন্দের প্রতি মানুষের অহেতুক আকর্ষণ থাকে; স্বভাবশতঃ মানুষ মন্দের প্রতি আকৃষ্ট হয়।
অগ্নি, ব্যাধি ও ঋণ, রেখো না তিনের চিন (চিহ্ন)- আগুন, ব্যাধি ও ঋণের শেষ রাখতে নেই; থাকলে এগুলি ক্রমশ বাড়তে থাকে; আগুন নিভিয়ে ফেলা, রোগ সারিয়ে ফেলা এবং ঋণ শোধ করে ফেলা আশু কর্তব্য।
অজার যুদ্ধে আঁটুনি সার-; আড়ম্বরপূর্ণ আয়োজনে ফললাভের সম্ভাবনা সামান্য ।
অজীর্ণে ভোজনং বিষমং- হজমের না হতেই পুনরায় ভোজন বিষ তুল্য।
অজীর্ণে ভেষজং বারি; জীর্ণে বারি বলপ্রদম্- জল হলো বদহজমের একমাত্র ওষুধ; জল দুর্বলকে শক্তি যোগায়।
অজ্ঞতাই ভক্তি করে, ভক্তি হলো অজ্ঞতার কন্যা- অজ্ঞান ও ভয় থেকে মানুষের মনে ভক্তিভাবের উদয় হয়।
অজ্ঞাতকুলশীলস্য বাসো দেওয়া ন কস্যচিৎ- কখনো অচেনা লোককে গৃহে স্থান দিতে নেই।
অজ্ঞানে করে পাপ জ্ঞান হলে মনস্তাপ- শিশুবয়সে না বুঝে ভুল হয়ে যায়; বয়স বাড়লে জ্ঞান হলে সেগুলি শুধরে নেওয়া সম্ভব; কিন্তু স্বজ্ঞানে করা পাপ কখনো শুধরানো যায় না;
অজ্ঞানে বাপান্ত করে জ্ঞানবানে তাই কি ধরে?- অজ্ঞরা যদি কিছু দোষ করে থাকে; জ্ঞানীরা সেই দোষ সবসময় ধরে না
অজ্ঞানের কালে জানে না, অমানুষের কালে মানে না- শিশুরা বুঝতে পারে না বলে দোষ করে; বয়স্করা কিন্তু দোষকে অগ্রাহ্য করে; অপকর্মকে অপকর্ম বলে স্বীকার করে না; মানুষের স্বভাবই হল দোষ করা; স্বভাবদোষে মানুষ অপকর্ম করে।
অতি আশ সর্বনাশ- অতি আশা প্রবঞ্চনা করে;– বেশি লোভ করলে বেশি ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে; সমতুল্য- ‘অতি লোভে তাঁতি নষ্ট’;’খাচ্ছিল তাঁতী তাঁত বুনে কাল হল তার এঁড়ে/হেলে গরু কিনে’ ইত্যাদি; পাঠান্তর- ‘অতি আশায় মরে চাষা’।
অতিকথায় বার্তা নষ্ট- বাকচাতুর্যে মূল বক্তব্য হারিয়ে যায়;
অতি ক্ষুধা যার হাড় কাটা তার- অতিরিক্ত ভোজনে শরীর নষ্ট হয়।
অতি ঘরন্তি না পায় ঘর অতি বরন্তী না পায় বর- ভাগ্যদোষে অতি নিপুণা ঘরণীও সংসার পাততে পারে না এবং পতি কর্তব্য সম্পর্কে শিক্ষাপ্রাপ্ত বরাঙ্গনাও বর পায়।
অতি চতুরের ভাত নেই, অতি সুন্দরীর ভাতার নেই– বেশি চালাক হলে খাবার জোটে না, দেখতে বেশি সুন্দরী হলে বাছবিচারে সময় চলে যায়; বর জোটানো মুশকিল হয়ে যায়;
অতি চালাকের গলায় দড়ি, অতি বোকার পায়ে বেড়ি- বেশি চালাক ও বেশি বোকা- উভয়ই ব্যক্তিই বিপদে বেশি পড়ে;
অতি জ্বালে ব্যঞ্জন নষ্ট- বেশি জ্বাল দিলে দ্রব্যগুণ নষ্ট হয়; কোন কিছুতেই বাড়াবাড়ি ভাল নয়।
অতি চেনার কদর নেই- সহজে যে জিনিস পাওয়া যায়, তার মূল্য থাকে না;
অতিদর্পে হত লঙ্কা- অহংকার পতনের মূল কারণ;
অতি পিরিত যেখানে অতি বিচ্ছেদ সেখান- ভালবাসা বেশি হলে বিচ্ছেদের আশঙ্কা থাকে তাড়াতাড়ি।
অতি পিরিত যেখানে, নিত্য যাবে না সেখানে;
যদি যাবে নিত্যি, ঘটবে একটা কীর্তি- ভালোবাসা যেখানে বেশি থাকে সেখানে প্রতিদিন না যাওয়াই ভালো; না হলে কলঙ্ক বা বিরোধ ঘটার আশঙ্কা থাকে।
অতিবড় ঘরণী না পায় ঘর, অতিবড় সুন্দরী না পায় বর- কোন বিষয়ে অনন্যসাধারণ হলে সবসময় তার জুড়ি খুঁজে পাওয়া যায় না।
অতিবুদ্ধির হাভাত- চালাকি করতে গিয়ে ভুলের কারণে ভাত জোগাড় করতে ব্যর্থ হয়;
অতিবড় সোদর (সহোদর ও সহোদরা) তিনদিন করবে আদর– যত ভাল সম্পর্কই হোক না কেন তার কাছ থেকে বেশি পাওয়া গেলেও আদর ক্রমশ কমতে থাকে।
অতি ভালো, ভালো নয়- বেশি বাড়াবাড়ি শেষপর্যন্ত বিপদ ডেকে আনে;
অতিবাড় বেড়ো না ঝড়েতে উড়াবে, অতি ছোট হয়ো না ছাগলে মুড়োবে- অহংকার যত বাড়তে থাকে পতন ততই নিকটে আসে; আবার বেশি নম্র হলেও অবহেলিত হবে;
অতিভক্তি চোরের লক্ষণ- খারাপ উদ্দেশ্য সবার সামনে প্রকাশ হয়ে যাওয়ার ভয়ে সাধু সাজার চেষ্টা।
অতিমন্থনে বাসুকীর বিষ- উৎস কাহিনি- ক্ষীরোদসাগর মন্থনে প্রথমে অমৃত ওঠে; কিন্তু অমৃত নিয়ে দেবাসুরে ঝগড়া শুরু হলে দ্বিতীয়বার সমুদ্রমন্থন করা হয়; এবার ওঠে বিষ; কোন ভাল দ্রব্য নিয়ে বেশি ঘাঁটাঘাঁটি করলে দ্রব্যগুণ নষ্ট- অনেকসময় বারবার শোনা ভাল কথাও মন্দ মনে হয়; সমতুল্য- ‘লেবু চটকালে তেতো হয়’; পাঠান্তর- ‘অতিমন্থনে বিষ উঠে’; ‘অতিমন্থনে মিঠা তিতা’।
অতিযত্নে মরণফাঁদ- বেশি যত্ন নিলে শরীরের রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়; কথায় আছে, যত্ন করলে রত্ন মেলে।
অতিশয় ভালো নয় বুদ্ধি হলেই পড়তে হয়- বেশি বুদ্ধি খাটালে বিনাশ অনিবার্য; একই অর্থ বোঝায়- ‘অতি চালাকের গলায় দড়ি’।
অতি সাধ অতি বিষাদ- বেশি আশা করলে তা যদি পূর্ণ না হয় মনে তখন বিষাদে ভরে যায়; ক্রিয়ার সমান প্রতিক্রিয়া।
অতীত থেকে শিক্ষা নাও, ভবিষ্যতে ভুল হবে না- অতীতকে জানার চেষ্টা করলে ভবিষ্যৎ জানা যায়।
অতুভুক্তিরতীবোক্তি সদ্য তীব্র প্রাণাপহারিণী- অপরিমিত খাদ্য গ্রহণে স্বাস্থ্যহানি হয়।
অত্তাস কুত্তা বত্তাস ভূঁকৈ- ভীতু কুকুর বাতাসের শব্দে ভয় পেয়ে ঘেউঘেউ করে;অনাবশ্যক ভয় পেয়ে ভীতু লোকেরা চিৎকার জুড়ে দেয়; সমতুল্য- ‘ঘরপোড়া গরু সিঁদুরে মেঘ দেখলে ভয় পায়’।
অদন্তের দাঁত হল, কামড় খেতে খেতে প্রাণটা গেল- শিশুদের যখন প্রথম দাঁত উঠে তখন কামড়ে পাগল করে দেয়; কোন নতুন দ্রব্য পেয়ে অত্যধিক ব্যবহার করলে এই প্রবাদটি ব্যবহৃত হয়;
অদৃষ্টের ফল কে খণ্ডাবে বল- কপালে যা লিখা থাকে তা কেউ খণ্ডাতে পারে না; সেটা তো ঘটবেই;
অধর্মের পথ বড়ই পিচ্ছিল- অধর্মের অর্থাৎ ভুল পথে চলতে গিয়ে একবার পড়লে সোজা হয়ে দাঁড়ানো কঠিন; নরকে গেলে সেখান থেকে আর ফেরা আসা যায় না।
অধিক খেতে করে আশা, তার নাম বুদ্ধিনাশা- অধিক খাদ্য গ্রহণ স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকর; যারা পেটুক তারাই বেশি খায়।
অধিক গর্জনে অল্প বর্ষণ- আড়ম্বর অনুসারে কার্য হয় না; যে বেশি বকে, সে কাজে বেশিদূর এগোয় না; সমতুল্য- ‘অতিমেঘে অনা/ফোঁটা বৃষ্টি’;’অনেক গর্জনে ফোঁটা বৃষ্টি’;’ঘেউঘেউ করা কুত্তা কদাচিৎ কামড়ায়’; ইত্যাদি।
অধিক দিন থাকলে গাজন কে করত শিবের ভজন?– আধিক্যে সোনার মূল্যও হ্রাস পায়।
অধিক/অনেক সন্ন্যাসীতে গাজন নষ্ট- এক কাজে অনেক লোক জুটে গেলে মতভেদের কারণে কাজ পণ্ড হয় সমতুল্য- ‘অনেক রাঁধুনীতে ব্যঞ্জন নষ্ট’; ‘এক হেঁসেলে দুই রাঁধুনি, পুড়ে গেল তার ফেনগালুনি’;’ঘরের মধ্যে ঘর, সবাই মাতব্বর’;’ঠেলাঠেলির ঘর, খোদায় রক্ষা কর’;’দশ পাগলের ঘর, খোদায় রক্ষা কর’;’সাত সতীনের ঘর খোদায় রক্ষা কর’ ইত্যাদি। বিরুদ্ধ উক্তি- ‘দশে মিলে করি কাজ হারি জিতি নাহি লাজ’।
অনটনের সংসারে দুনো ব্যয়- অভাবগ্রস্তের সংসার খরচ নানাকারণে বেড়ে যায়। কথায় আছে, অভাব যখন আসে, একের পর এক আসতেই থাকে।
অনভ্যাসের ফোঁটা কপাল চড়চড় করে- যে কাজে অভ্যস্ত না, তাতে হাত দিলে প্রথমে একটু অস্বস্তিবোধ হয়;
অনাবৃষ্টে রাজ্য মজে, পাপে মজে ধর্ম;
কোটালে গৃহস্থ মজে, আলস্যে মজে কর্ম।-দেশের ক্ষতি হয় বৃষ্টি না হলে; ধর্ম বিপদগ্রস্ত হয় পাপে; লোকালয় বিপদগ্রস্ত হয় নদীর বাড়ে ; আর কর্ম নষ্ট হয় অলসতায়।
অনুপস্থিতি হৃদয়কে অনুরাগী করে তোলে- দূরত্ব বেড়ে গেলে আকর্ষণের তীব্রতা বেড়ে যায়; কালিদাস তাঁর মেঘদূত কাব্যে তা ছত্রে ছত্রে বর্ণনা করে গেছেন। বিরুদ্ধ উক্তি- ‘চোখের আড়াল হলেই মনের আড়াল’।
অনুরাগ বিনে গৌর আসবে কেনে?- প্রীতি ও প্রেমের পুণ্য বাঁধনে স্বর্গ রচিত হয়।
অনুশীলনে পাথর ক্ষয় হয়– পরিশ্রম করলে অনেক কঠিন কাজও সম্ভব হয়;
অনুরোধে ঢেঁকি গেলা- নিতান্ত বাধ্য হয়ে কোন কাজ শেষ করা।
অনেক কালের ছিল পাপ ছেলে হল সতীনের বাপ- পাপ করলে শাস্তি পেতেই হবে; পাপ বাপকেও ছাড়ে না; পাপের ফল কোন-না-কোনভাবে ভোগ করতেই হয়;
অনেক রাঁধুনিতে ব্যঞ্জন নষ্ট- এক কাজে অনেক লোক একসাথে হলে মতভেদের কারণে সে কাজ পণ্ড হয়;
অনেক যদি মাছ পায় বিড়াল কাঁটা বেছে খায়- প্রয়োজনের বেশি উপলব্ধ হলে নির্বাচনের প্রশ্ন আসে।
অনেক হল পাপ এবার ছাড়ো বাপ- ভোগবিলাস সারাজীবনে অনেক হয়েছে; দিন শেষে সব ছেড়ে ধর্মে কর্মে মন দাও।
অনেক সুখ যদি কপালে ছেঁড়া কাঁথা কেন বগলে- কপালের দোষ দিয়ে লাভ নেই; মানুষ কর্মদোষে দুঃখ কষ্ট ভোগ করে।
অন্তরে এত খলতা, মুখে তোর অতি শীলতা- বেশি প্রশংসা সন্দেহের সৃষ্টি করে; কথায় আছে অতিভক্তি চোরের লক্ষণ।
অন্ধকার ঘরে কালো বেড়াল খোঁজা- বৃথা চেষ্টা করা, যা হওয়ার নয়;
অন্ধের কিবা রাত্রি কিবা দিন- দিন ও রাত্রির প্রভেদ যে বোঝে না তার কাছে দিন রাত্রি দুই সমান।
অন্ধের দোকানে কালা খরিদ্দার- সমান অপদার্থ;
অন্ধের নড়ি, কৃপণের কড়ি- কৃপণের কাছে টাকাকড়ি আর অন্ধের কাছে লাঠি-সমান মূল্যবান।
অন্ধের হস্তী দর্শন- পরিষ্কার ধারণা না নিয়ে শুধু অংশবিশেষ পর্যালোচনা করে কোন বিষয় সম্পর্কে সম্পূর্ণ মতামত ব্যক্ত করা ভুল।
অন্নজলের নাড়ি কোটা- শিশুর মুখে ভাত দেয়া তথা অন্ন প্রাসনের বয়স হওয়া।
অন্ন নাই যার ঘরে, তার মানে কি বা করে- হাড় হাভাতের কোন মানসম্মান নেই।
অন্ন বিনা চর্ম গড়ি, তৈল বিনা গায়ে খড়ি– পেটে খাবার না পড়লে শরীরে সৌন্দর্য আসে না;
অন্নপূর্ণা যার ঘরে, সে কাঁদে অন্নের তরে- দুরদৃষ্টের অভাবে চাষির মুখে অন্ন জোটে না।
অন্নের জ্বালা বড় জ্বালা একদিনে লাগে তালা- পেটে ভাত না থাকলে জীবন দুর্বিষহ হয়ে ওঠে, সবকিছু এলোমেলো হয়ে যায়;
অপদার্থ যেখান থেকে শুরু করে সেখানেই ফিরে আসে- অপদার্থের কাজের ফল শূন্যআ হয়।
অপমানের পরাণ সম্মানকে ডরান- অতি নম্র প্রকৃতির মানুষ সম্মানকে সামান্য জ্ঞান করে।
অপরের মন্দ নিজের হিত, না করিও কদাচিৎ- নিজের ভাল করতে গিয়ে অন্যের ক্ষতি করার চিন্তাভাবনা পাপবোধের জন্ম দেয়।
অপ্রিয় সত্য কথা বলিও না- অপছন্দের কথা কেউ শুনতে চায় না।
অবলা বোলে দড়, অফলা ফলে দড়– শারীরিক বল যার কম থাকে, তার মুখ চলে বেশি;
অবস্থা বুঝে ব্যবস্থা- সামর্থ্যের বাইরে কখনো যেও না; সমতুল্য়- ‘আয় বুঝে ব্যয় করা’; ‘ওজন বুঝে চলা’; খাট ভাঙলে ভূমিশয্যা’; ‘কাপড় বুঝে জামা কাটা’; ‘যখন যেমন তখন তেমন’ ইত্যাদি।
অবাক্ কল্লে নাকের নখে, কাজ কি আমার কানবালাতে- নাকের নথেই রূপ খুলেছে তখন কান পাশার আর প্রয়োজন নেই; কুরূপার সাজসজ্জার প্রতি ব্যঙ্গোক্তি।
অবাক কলির অবতার, ছুঁচোর গলায় চন্দ্রহার- অযোগ্যের হাতে উৎকৃষ্ট দ্রব্য দেখে খেদ বিস্ময় বা বেদনা প্রকাশ।
অবিশ্বাস করে ঠকা থেকে বিশ্বাস করে ঠকা অনেক ভাল- অবিশ্বাস করে ঠকলে একটি বিশ্বাসী লোককে হারাতে হয়; বিশ্বাসী লোক হাজারে একটা হয়; সুতরাং কোনোভাবেই অবিশ্বাসকে মনে স্থান দেওয়া নেই।
অবোধারে মারে বোধায়, বোধারে মারে খোদায়- চালাক বোকাকে ঠকায়; আর বিধাতার চালাক লোককে শাস্তি দেয়।
অবোধের সাত খুন মাপ- অজ্ঞানকৃত অপরাধ ক্ষমার যোগ্য; পাগলের শাস্তি হয় না।
অবোলা চলে বড় অফলা ফলে বড়- কথা না বলে পথ চলতে থাকলে, অনেকটা পথ যায়; যে গাছে ফল ধরে না সে গাছে একবার ফল ধরলে প্রচুর পরিমাণে ফলে।
অভাগা যায় বঙ্গে, কপাল যায় সঙ্গে- কপাল খারাপ হলে, যেখানে যাবে সেখানেই সঙ্গে সঙ্গে যাবে; সমতুল্য- ‘অভাগা যেদিকে চায় সাগর শুকায়ে যায়’;
অরসিকেষু রসস্য নিবেদনম- রসিককেই শুধু রসের কথা বোঝে; অরসিকের কাছে বলা অর্থহীন; নির্গুণের কাছে গুণের কোন কদর নেই;
অর্থ থাকলে অভাবের অভাব হয়- সম্পদের প্রয়োজনীয়তা সেই বোঝে, যার অভাব সম্পর্কে জ্ঞান রয়েছে;
অর্থশালীর কাছে আইন আকাশের মত,
অর্থহীনের কাছে আইন মাকড়সার জালের মত- যার অর্থ আছে আইন তার কাছে মনে হবে খোলা আকাশ; গরীব লোকেরাই আইনের জালে আটকে যায়।
অর্ধসত্য মিথ্যা অপেক্ষা ভয়ংকর- অপূর্ণ সত্য, মিথ্যার থেকে বেশি ভয়াবহ।
অলক্ষ্মীর নিদ্রা বেশি কাঙালের ক্ষুধা বেশি- অলক্ষ্মীদের ঘুম বেশি হয়; কাঙালরা শুধু খেয়েই যায়।
অলস ভেড়া ভাবে তার পশম বড় ভারী- অলস লোক এতটাই অলস যে পাশ ফিরে শুতেও কষ্ট তার।
অলভ্যের বাণিজ্যে কচকচিই সার– অকাজে ঝগড়া বিবাদ লেগেই থাকে ।
অল্প শোকে কাতর অধিক শোকে পাথর- অল্প শোকে মানুষ হা-হুতাশ করে, কিন্তু বেশি শোকে শোক প্রকাশের পথ না পেয়ে দুঃখী মূক, নিথর বা নিঃসাড় হয়ে যায়।
অশুভস্য কালহরনম– অশুভ কাজে কালক্ষেপণ কর্তব্য।
অশ্বত্থের ছায়াই ছায়া, মায়ের মায়াই মায়া– অশ্বত্থ গাছ বিরাট ও বিশাল; তার ছায়া সুশীতল; আশ্রয় নিতে হলে অশ্বত্থ গাছে মত মহতের কাছে নিতে হয়; মায়ের স্নেহ ও মমতারও কোন তুলনা হয় না; আসলের কাছেই আসল জিনিস পাওয়া যায়।
অসৎ সঙ্গে সর্বনাশ; সৎসঙ্গে স্বর্গবাস- সঙ্গদোষে মানুষ নষ্ট হয়; সঙ্গগুণে সম্মান বৃদ্ধি পায়।
অসময়ে সকলে সই, শোনরে দুঃখ তোরে কই- দুর্ভাগ্যের সব ব্যথা গায়ে সয়ে গেছে।
খেজুর বা Dates পুষ্টিগুণে ভরপুর ছোট আকৃতির একটি ফল। প্রাচীন যুগ থেকেই বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রধান খাবার হিসেবে এই ফলটি বিবেচিত হয়ে আসছে। মহানবি হজরত মুহাম্মদ (সা.) এর খাবারের তালিকার বিশেষ স্থানে ছিল খেজুর। বাংলাদেশে বিশেষ করে রমজান মাসে এর চাহিদা ব্যাপক বৃদ্ধি পায়। বিশ্বের সব দেশেই কমবেশি খেজুর উৎপাদন হলেও সৌদি আরব, ইরান, মিশর, আলজেরিয়া সহ বেশ কিছু দেশ বিখ্যাত।
স্বাদ, বৈশিষ্ট্য ও গুণগত মানের বিবেচনায় খেজুরের মধ্যে আছে নানা বৈচিত্র্য। পৃথিবী জুড়ে ৩০০০ প্রজাতির খেজুর পাওয়া যায়। বাংলাদেশের বাজারে ১০০ টির বেশি প্রজাতির খেজুর রয়েছে। বাংলাদেশের খেজুর উৎপাদন হলেও স্বাদে ও গন্ধে রয়েছে ভিন্নতা।
প্রতিদিনের ক্যালরির চাহিদা পূরণে খেজুর স্বাস্থ্যকর খাবার হিসেবে বিবেচিত। সুমিষ্ট ফল হওয়ায় একে চিনির বিকল্প হিসেবেও ব্যবহার করা হয়। চলুন জেনে নেয়া যাক- বিশ্বের কয়েকটি জনপ্রিয় খেজুরের প্রজাতি সম্পর্কে।
আজওয়া
মরিয়ম
মাবরুম
আম্বার
সুক্কার
কালমি
এছাড়াও আরও জানতে পারবেন এসব খেজুরের উপকারিতা ও বৈশিষ্ট্য ।
আজওয়া খেজুর (Ajwa dates)
বিশ্বের সবচেয়ে দামি ও জনপ্রিয় খেজুর হলো আজওয়া। এই খেজুর উৎপাদনে সৌদি আরবের মদিনা শহর বিখ্যাত। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) এর প্রিয় খাবার ছিল আজওয়া খেজুর। এটিতে থাকা প্রচুর ভিটামিন ও ক্যালোরি আমাদের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে।
আজওয়া খেজুর চেনার উপায়-
বৈশিষ্ট্য
১. আসল আজওয়া খেজুর দেখতে কুচকুচে কালো।
২. খেজুরের বোঁটা গোলাপি রঙের হয়।
৩. মাথার দিকে সোনালি রঙের দাগ দেখতে পাওয়া যায়।
৪. খেজুরের ওপরের চামড়ায় কিছুটা সাদা দাগ দেখতে পাওয়া যায়।
৫. তবে ভেতরটা খুবই নরম আর খেতেও বেশ সুস্বাদু।
এ সকল বৈশিষ্ট্য বিবেচনা করলে অন্যান্য খেজুর থেকে আজওয়া খেজুর সহজেই আলাদা করা যায়।
আজওয়া খেজুর খাওয়ার উপকারিতা
১. আজওয়া খেজুরে ৭৭ দশমিক ৫ শতাংশ কার্বোহাইড্রেট রয়েছে যা শরীরের শক্তির জোগাতে সাহায্য করে।
২. এতে থাকা ভিটামিন এ, বি, সি এবং কে শরীরে পুষ্টির জোগায় ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।
৩. এতে থাকা ক্যালসিয়াম ও আয়রন দাঁত ও হাড়ের গঠন নিশ্চিত করে, দাঁতের ক্ষয় রোধ করে।
৪. এটি রক্তের কোলেস্টেরল এর মাত্রা ঠিক রাখতে সাহায্য করে। ফলে উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি কমতে সহায়তা করে।
৫. খেজুরে থাকা প্রয়োজনীয় ফাইবার লিভার ও পাকস্থলীর সমস্যার সমাধানে সাহায্য করে এবং হজম শক্তি বৃদ্ধি করে। আজোয়া খেজুর কিনতে এখানে ক্লিক করুন।
মরিয়ম খেজুর (Mariam dates)
শুকনো খেজুরের মধ্যে মরিয়ম খেজুর সবচেয়ে সুস্বাদু। আর পুষ্টিগুণের দিক থেকে অন্যতম। বাংলাদেশে ইফতারে সাধারণত মরিয়ম খেজুরের চাহিদা বেশি। ইরানে ব্যাপক হারে মরিয়ম খেজুরের চাষ হয়। এছাড়াও ইরাক, আলজেরিয়া, পাকিস্তান এবং মিশরেও বাণিজ্যিক ভাবে মরিয়ম খেজুরর চাষ হয়। তবে অন্যান্য দেশে উৎপাদিত খেজুরের থেকে মদিনায় উৎপাদিত মরিয়ম খেজুর স্বতন্ত্র।
মরিয়ম খেজুর চেনার উপায়-
বৈশিষ্ট্য
১. মরিয়ম খেজুর সাধারণত দেখতে লম্বাটে আকৃতির হয়।
২. কিছুটা শক্ত এবং শুকনো হয়।
৩. খেজুরের গায়ের রং খয়েরি থেকে কালচে বর্ণের হয়।
৪. খেজুরের উপরিভাগ কোঁচকানো থাকে এবং উপরের অংশ কালচে বর্ণ ধারণ করে।
মরিয়ম খেজুরের উপকারিতা :
১. মরিয়ম খেজুরে থাকা ক্যালরি শরীরের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি করতে সহায়তা করে। এর ১০০ গ্রাম খেজুরে ২৮২ মিলিগ্রাম ক্যালরি পাওয়া যায়।
২. মরিয়ম খেজুরে পর্যাপ্ত পরিমাণ আয়রন আছে যা রক্তশূন্যতা দূর করতে সহায়তা করা।
৩. এতে থাকা ক্যালসিয়াম হাড় ও দাঁতের গঠন নিশ্চিত করে এবং মানবদেহকে শক্তিশালী করে।
৪. ভিটামিন বি১, বি২, বি৩, বি৫ এবং বি৬ শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে ও দৃষ্টি শক্তির ভারসাম্য রক্ষা করতে সহায়তা করে।
৫. নিয়মিত মরিয়ম খেজুর খাওয়া শরীরকে পানিশূণ্যতা রোধে সহায়তা করে।
৬. এটি ফুসফুসের সুরক্ষায় এবং মুখগহ্বরের ক্যান্সার রোধে বিশেষ সহায়তা করে।
মাবরুম খেজুর (Mabroom dates)
মাবরুম হলো পৃথিবীর প্রাচীনতম খেজুরের প্রজাতি গুলোর মধ্যে অন্যতম। এটি সৌদি আরবের মদিনায় উৎপাদিত বিশেষ প্রজাতির খেজুর। যা চাবানোর সময় চুইংগামের মতো অনুভব হয়। মাবরুম খেজুর খুবই মিষ্টি এবং কিছুটা ক্যারামেল এর মতো। তিন প্রজাতির মাবরুম খেজুর পাওয়া যায়। যথা-
১. অ্যাম্বার মাবরুম
২. লাল মাবরুম এবং
৩. ব্লাক মাবরুম।
তিন প্রজাতির মাবরুম স্বাদ ও আকৃতির দিক থেকে আলাদা।
মাবরুম খেজুর চেনার উপায়-
বৈশিষ্ট্য
অ্যাম্বার মাবরুম খেজুর
১. অ্যাম্বার খেজুর লাল খেজুরের থেকে কিছুটা বেটে
২. চামড়া মোটামুটি পাতলা
৩. এই খেজুর খাওয়ার সময় অনেকটা বাদামের স্বাদ পাওয়া যায়
৪. অ্যাম্বার খেজুরের একটি হালকা মিষ্টি গন্ধ আছে
লাল মাবরুম খেজুর
১. লাল মাবরুম খেজুর তুলনামূলক বড় এবং উপরিভাগ শক্ত হয়ে থাকে
২. এর রং লাল খয়েরি এবং
৩. খেতে অনেকটা মিষ্টি, স্বাদ কিছুটা চুইংগাম এর মতো
ব্লাক মাবরুম খেজুর
১. কালো মাবরুম খেজুর সাইজে ছোট ও কিছুটা গোলাকৃতির
২. ক্যারামেল এর স্বাদ পাওয়া যাবে এবং
৩. একটা চমৎকার সুগন্ধি আছে
এ সকল বৈচিত্র্য বিবেচনা করলে আসল মাবরুম খেজুর সহজেই চেনা যেতে পারে।
মাবরুম খেজুর খাওয়ার উপকারিতা
১. মাবরুম খেজুর বাচ্চাদের ব্রেইন এর বিকাশে সহায়তা করে।এজন্য তাদের খাদ্য তালিকায় প্রতিদিন ৩/৪ টা মাবরুম খেজুর রাখতে পারেন।
২. এটি রক্তে থাকা কোলেস্টেরল এর মাত্রা কমিয়ে উচ্চ রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে। পাশাপাশি শ্বাসকষ্ট জনিত সমস্যা সমাধানে সহায়তা করে।
৩. মাবরুম খেজুরে প্রচুর পরিমাণে এন্টিঅক্সিডেন্ট থাকার কারণে ক্যানসারসহ বিভিন্ন মারাত্মক রোগের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।
৪. ডায়াবেটিস রোগীরা রক্তে সুগারের ব্যালেন্স ঠিক রাখতে চিনি বা গুড়ের পরিবর্তে মাবরুম খেজুর খেতে পারেন।
৫. মাবরুম খেজুরটিতে থাকা উচ্চমাত্রার ফাইবার কোষ্ঠকাঠিন্য সহ বিভিন্ন পেটের সমস্যা দূর করতে সহায়তা করে। মাবরুম খেজুর কিনতে এখানে ক্লিক করুন
আম্বার খেজুর (Ambar dates)
মদিনার বৃহত্তম খেজুরের একটি প্রজাতি আম্বার। সৌদি আরবে এটি আনবারা নামে পরিচিত। এটি শুধুমাত্র সৌদি আরবের মদিনা শহরেই উৎপাদিত হয়। আম্বার খেজুরটি বেশিরভাগ সময়েই চিনির বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করতে দেখা যায়। ডেজার্ট এর স্বাদ বৃদ্ধি করতে এবং বিচিত্রতা আনতেও আম্বার খেজুরটি ব্যবহার করা হয়।
আম্বার খেজুর চেনার উপায়
বৈশিষ্ট্যঃ
১. আম্বার খেজুরটি তুলনামূলক বড়
২. আকৃতি কিছুটা চারকোনা হয়ে থাকে।
৩. এই খেজুরের চামড়া খুবই পাতলা এবং মিষ্টি হীন হয়।
৪. এটি খুবই মোলায়েম এবং মিষ্টি সুগন্ধের অধিকারী হয়ে থাকে
৫. এর রং গাঢ় বাদামি থেকে কালচে বাদামি রং এর হয়ে থাকে
৬. এই খেজুরের পুরোটাই নরম মাংসে ভর্তি থাকে, ফলে খেতেও বেশ সুস্বাদু হয়।
এসকল বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান থাকলে বুঝতে হবে আপনার সংগ্রহে থাকা খেজুরটি আসল আম্বার খেজুর।
আম্বার খেজুরের খাওয়ার উপকারিতা
১. আম্বার খেজুরে থাকা উচ্চ মাত্রার ক্যালরি শরীরের ক্লান্তি দূর করে শরীরকে কর্মক্ষম রাখতে সহায়তা করে।
২. এতে থাকা প্রয়োজনীয় কোলেস্টেরল দেহের ক্ষতিকর কোলেস্টেরল কমাতে সহায়তা করে।
৩. ঠান্ডা বা কাশির সমস্যায় নিয়মিত আম্বার খেজুর খেলে তাড়াতাড়ি উপশম হতে সাহায্য করে।
৪. এতে থাকা ম্যাগনেসিয়াম এবং পটাসিয়াম হৃৎপিণ্ডের কার্যকারিতার সঠিক ব্যালেন্স বজায় রাখতে সাহায্য করে।
৫. এই খেজুর নিয়মিত খেলে মুখের যে কোনো সমস্যা সমাধানে সহায়তা করে।
সুক্কারি খেজুর
চিনির থেকেও বেশি মিষ্টি স্বাদযুক্ত সুক্কারি। আরবি ভাষায় সুক্কারি অর্থ মিষ্টি। এই খেজুরের মিষ্টতা অনেক বেশি বলে এর নামকরণ করা হয়েছে সুক্কারি। সৌদি আরবের প্রায় সব জায়গাতেই সুক্কারি খেজুর উৎপাদন করা হয়। বিকেলের নাশতায় বা দুপুরের খাবারের পরে ডেজার্ট আইটেম হিসেবে সাধারণত এই খেজুর খাওয়া হয়। এটা খেতে অনেকটা ক্যান্ডির মতো, তাই বাচ্চাদের মুখরোচক খাবার হিসেবেও সুক্কারি খেজুর বেশ সমাদৃত।
সুক্কারি খেজুর চেনার উপায়
বৈশিষ্ট্য
১. সুক্কারি খেজুর ভেজা অবস্থায় মোলায়েম থাকে এবং স্বাদ কিছুটা ক্রিমি টেক্সচারের মতো
২. এটা সাধারণত শুকনো অবস্থায় বাজারজাত করা হয়
৩. শুকনো সুক্কারি খেজুরের ওপরের অংশটা হালকা শক্ত কিন্তু ভেতরের দিকটা মোলায়েম হয়
৪. তবে সুক্কারি খেজুর চেনার আসল উপায় হলো এর রং
৫. এটি সাধারণত চোখ ধাঁধানো উজ্জ্বল সোনালি রঙের হয়ে থাকে
৬. আকৃতির দিক থেকে এটি কিছুটা গোলাকার ও মাঝারি সাইজের হয়
এসকল বৈশিষ্ট্য বিবেচনা করে সুক্কারি খেজুর চেনা যায়।
সুক্কারি খেজুর খাওয়ার উপকারিতা :
১. এতে উচ্চ মাত্রায় কার্বোহাইড্রেট থাকায় সুক্কারি খেজুর আমাদের শরীরে কর্মক্ষমতা জোগাতে সাহায্য করে। পাশাপাশি শরীরের তাপমাত্রা ও শক্তি বৃদ্ধি এবং ক্লান্তি দূর করতে সাহায্য করে।
২. চুল ও ত্বকের মসৃণতা ও সৌন্দর্য ধরে রাখতে সুক্কারি খেজুর সাহায্য করে।
৩. সুক্কারি খেজুর রক্তের কোলেস্টেরল এর মাত্রা কমায় ও তার পাশাপাশি উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে।
৪. নিয়মিত সুক্কারি খেজুর খেলে আপনার শরীরের অতিরিক্ত চর্বি কমিয়ে রোগা হতে সহায়তা করে।
৫. মাথার প্রদাহ ও অনিদ্রা নিয়ন্ত্রণ করে মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে।
৬. অতিরিক্ত তাপমাত্রায় শরীরে প্রদাহ নিয়ন্ত্রণ করে এবং পানির মাত্রা ঠিক রাখে ফলে শরীর ডিহাইড্রেটিং হওয়া থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করে।
কালমি খেজুর (Kalmi dates)
সৌদি আরবে উৎপাদিত সুস্বাদু ও উৎকৃষ্ট মানের আরেকটি খেজুর কালমি। দেশের বাজারে কালমি খেজুরের বেশ চাহিদাও রয়েছে। বিশেষ করে রমজান মাসে এটির চাহিদা সবার শীর্ষে। সৌদি আরবে এই খেজুর সাফাওয়ি নামে পরিচিত হলেও অন্যান্য প্রায় সকল দেশে এটি কালমি খেজুর নামেই বেশি পরিচিত। ইফতারে নাশতা হিসাবে এই খেজুর খাওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন খাবারকে স্বাস্থ্যকর করে তুলতে এই খেজুর ব্যবহার করা হয়।
কালমি খেজুর চেনার উপায়
বৈশিষ্ট্যঃ
১. কালমি খেজুর কিছুটা মরিয়ম খেজুরের মতো দেখতে হয়
২. এই খেজুর গাঢ় বাদামি রং অথবা লাল খয়েরি রঙের হয়ে থাকে
৩. দেখতে কিছুটা লম্বাটে । তবে খেজুরের ভেতরটা খুব মোলায়েম হয়
৪. শুকনো এবং নরম দুই ধরনের খেজুরই বাজারে পাওয়া যায়
৫. কালমি খেজুরের স্বাদ কিছুটা বাদাম ও ক্যারামেল এর টেক্সচার যুক্ত এবং খুব মিষ্টি
এই সকল বৈশিষ্ট্য বিবেচনা করে কালমি খেজুর চিনে নিতে হবে।
কালমি খেজুর খাওয়ার উপকারিতা :
১. কালমি খেজুর শরীরের প্রয়োজনীয় ক্যালরির চাহিদা পূরণ করতে সহায়তা করে।
২. কালমি খেজুর শরীরকে হাইড্রেট রাখতে এবং দেহকে সতেজতা প্রদান করতে সহায়তা করে ।
৩. কালমি খেজুরে থাকা এন্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে সহায়তা করে। ফলে সহজেই কোনো রোগ শরীরে আক্রমণ করতে পারে না।
৪. এতে থাকা ভিটামিন এ দৃষ্টিশক্তি স্বাভাবিক রাখতে সহায়তা করে। ফলে রাতকানা রোগ প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে।
৫. কালমি খেজুর পেটের যে কোনো সমস্যা সমাধান করতে ও হজম ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে সহায়তা করে এর ফলে কোষ্ঠকাঠিন্য রোগ কমে যায়।
ভালো মানের খেজুর চেনার উপায়
যে কোনো খেজুরের জাতের মধ্যেই ভালো খারাপ রয়েছে। খুব ভালো জাতের খেজুরও কোয়ালিটির দিক থেকে খারাপ হতে পারে। সঠিক মানের খেজুর বাছাই করতে না পারলে খেজুরের স্বাদ, গুণগত মান আশানুরূপ হয় না। তাই খেজুর কেনার সময় কিছু বিষয় মাথায় রেখে, ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করে খেজুর কেনা উচিত।
তাহলে কীভাবে চিনবো ভালো মানের খেজুর? সেটাই জেনে নেয়া যাক-
১. ভালো মানের খেজুরের উপরিভাগ পরিষ্কার এবং চকচকে থাকবে। চামড়া কিছুটা কোঁচকানো ও শুকনো থাকবে। কোনো ধরনের চিনির দানা বা আঠালো মিষ্টি ভাব থাকলে ধরে নিতে হবে এতে ভেজাল রয়েছে।
২. ভালো মানের খেজুরের সবগুলো একই টেক্সচারের হবে। একটির থেকে আরেকটির স্বাদে কোনো তারতম্য থাকবে না।
৩. খেজুরের আশেপাশে পিঁপড়া, মাছি, ও মৌমাছির উপস্থিতি লক্ষ্য করলে বুঝতে পারবেন কোনোটাতে অতিরিক্ত মিষ্টি জাতীয় উপাদান ব্যবহার করা হয়েছে। খেজুরে এক্সট্রা কোনো চিনি, গুড় বা মধু ব্যবহার করলে এতে পিঁপড়ার আক্রমণ বাড়বে। খেজুরের প্রাকৃতিক মিষ্টি পিঁপড়া বা মৌমাছিকে আকর্ষণ করে না।
৪. ভালো মানের খেজুরের এক প্রজাতির সাথে অন্য প্রজাতির খেজুর মিক্সড করা থাকবে না। এবং সবগুলো খেজুরের সাইজ মোটামুটি একই রকম থাকবে।
খেজুর খুবই সুস্বাদু ও পুষ্টিকর একটি ফল। শরীরের সুস্থতা ও সঠিক পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ করতে চাইলে নিয়মিত খেজুর খেতে পারেন। নিয়মিত খেজুর খাওয়ার পাশাপাশি ভালো মানের খেজুর বাছাই করাটাও খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। বিভিন্ন প্রজাতির খেজুরের স্বাদের ও রঙের বৈচিত্র্য থাকলেও এর গুণগত মানের দিক দিয়ে সকল প্রজাতির খেজুরই প্রায় সমান সুস্বাদু ও পুষ্টিকর।