Wednesday, November 4, 2026
spot_imgspot_img
Home Blog Page 6

Bangla Grammar: সমাস (পর্ব: ৩)

৩. তৎপুরুষ সমাস

যে সমাসে পূর্বপদে বিভক্তি লোপ পায় এবং পরপদের অর্থই প্রাধান হয় তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে।

যেমন- বিপদকে আপন্ন = বিপদাপন্ন।

তৎপুরুষ সমাস বিভিন্ন প্রকার হয়। যথা-

নঞ্ তৎপুরুষ সমাস 

যে সমাসের পূর্বে  না বাচক নঞ অব্যয় (না, নেই, নাই, নয়) বসে তাকে নঞ্ তৎপুরুষ সমাস বলে।

তাহলে কিছু নঞ্ তৎপুরুষ সমাস জেনে নেয়া যাক-

  • না আচার = অনাচার
  • না কাতর = অকাতর
  • না লৌকিক = অলৌকিক
  • নয় ধর্ম = অধর্ম
  • ন আদর = অনাদর
  •  নয় স্থির = অস্থির
  • নাই সুখ যার = অসুখ
  • ন অশন = অনশন
  • ন চেনা = অচেনা
  • নাই তমিজ = বেতমিজ
  • ন কাল = অকাল
  • নাই কাঁড়া = আকাঁড়া

উপপদ তৎপুরুষ সমাস 

উপপদের সঙ্গে কৃদন্ত পদের যে সমাস হয় তাকেই উপপদ তৎপুরুষ সমাস বলে।

তাহলে কিছু উপপদ তৎপুরুষ সমাস জেনে নেয়া যাক-

  • জলে চরে যা = জলচর
  • জল দেয় যে = জলদ
  • পঙ্কে জন্মে যা = পঙ্কজ
  • সত্য কথা বলে যে = সত্যবাদী
  • ইন্দ্রকে জয় করেছেন যে = ইন্দ্রজিৎ
  • ছেলে ধরে যে = ছেলেধরা
  • পকেট মারে যে = পকেটমার
  • হাড় ভাঙ্গে যাতে = হাড়ভাঙ্গা
  • মাছি মারে যে = মাছিমারা
  •  গৃহে থাকে যে = গৃহস্থ
  • ধামাধরে যে = ধামাধরা
  • পাতা চাটে যে = পাতাচাটা
  • ছার পোকা যা = ছারপোকা
  • ঘর পুড়েছে যার = ঘরপোড়া
  •  বর্ণ চরি করে যে = বর্ণচোরা
  • গলা কাটে যে = গলাকাটা
  •  পা চাটে যে = পা – চাটা
  •  পাড়া বেড়ায় যে = পাড়াবেড়ানি
  • ছা পোষে যে = ছা – পোষা

দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাস

পূর্বপদে বিভক্তি যুক্ত(কে, রে) ইত্যাদি লোপ পায় যে সমাসে, তাকে দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাস বলে।

তাহলে কিছু দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাস জেনে নেয়া যাক-

  • দুঃখকে প্রাপ্ত = দুঃখপ্রাপ্ত
  • পদকে আপন্ন = বিপদাপন্ন
  • বইকে পড়া = বই-পড়া
  • চিরকাল ব্যাপিয়া সুখী = চিরসুখী
  • ক্ষণকাল ব্যাপীয়া স্থায়ী(ব্যাপ্তি অর্থে) = ক্ষণস্থায়ী
  • পরলোকে গত= পরলোকগত
  • পুঁথিতে গত= পুঁথিগত
  • চিরদিন ধরিয়া শত্রু = চিরশত্রু
  • সাহায্যকে প্রাপ্ত = সাহায্যপ্রাপ্ত
  • লোককে অতীত = লোকাতীত 
  • স্বৰ্গকে প্রাপ্ত = স্বর্গপ্রাপ্ত 
  • ধর্মকে সংক্রান্ত = ধর্মসংক্রান্ত 
  • অশ্বকে আরুঢ় = অশ্বারুঢ় 
  • সংখ্যাকে অতীত = সংখ্যাতীত 
  • বিস্ময়কে আপন্ন = বিস্ময়াপন্ন 
  • স্মরণকে অতীত = স্মরণাতীত 
  • গৃহকে প্রবিষ্ট = গৃহপ্রবিষ্ট 
  • ক্ষমতাকে প্রাপ্ত = ক্ষমতাপ্রাপ্ত
  • শরণকে গত = শরণাগত 
  • দেশকে আশ্রিত = দেশাশ্রিত 
  • ভারকে প্রাপ্ত = ভারপ্রাপ্ত

তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস

পূর্বপদে তৃতীয়া বিভক্তি (দ্বারা,দিয়া, কর্তৃক ইত্যাদি) লোপ পায় যে সমাসে তাকে তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস বলে।

তাহলে কিছু তৃতীয়া  তৎপুরুষ সমাস জেনে নেয়া যাক-

  • মধু দিয়ে মাখা = মধুমাখা
  • বস্ত্র দ্বারা আচ্ছাদিত = বস্ত্রাচ্ছাদিত
  • লাঠি দ্বারা খেলা = লাঠিখেলা
  • রক্ত দ্বারা সিক্ত = রক্তসিক্ত
  • স্নেহ দ্বারা অন্ধ = স্নেহান্ধ
  • ধামা দ্বারা চাপা = ধামাচাপা
  • অস্ত্র দ্বারা উপচার = অস্ত্রোপাচার
  • জরা দ্বারা জীর্ণ = জরাজীর্ণ
  • স্বনাম দ্বারা ধন্য = স্বনামধন্য
  • ইন্দ্রিয় দ্বারা = গ্রাহ্য = ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য
  • দৃষ্টি দ্বারা হীন = দৃষ্টিহীন
  • বিনয় দ্বারা অবনত = বিনয়াবনত
  • বাগ দ্বারা দত্তা = বাগদত্তা
  • মন দ্বারা গড়া = মনগড়া
  • শোক দ্বারা আর্ত = শোকার্ত
  • গুণ দ্বারা মুগ্ধ = গুণমুগ্ধ
  • তৈল দ্বারা আক্ত = তৈলাক্ত
  • শোক দ্বারা আকুল = শোকাকুল
  • মধুতে মাখা = মধুমাখা
  • বিপদ দ্বারা সঙ্কুল = বিপদসঙ্কুল
  • জন, দ্বারা আকীর্ণ = জনাকীর্ণ
  • পুষ্প দিয়া অঞ্জলি = পুষ্পাঞ্জলি
  • মন দিয়ে গড়া = মনগড়া
  • শ্রম দ্বারা লব্ধ = শ্রমলব্ধ

চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস

পূর্বপদে চতুর্থী বিভক্তি (কে, জন্য, নিমিত্ত ইত্যাদি) লোপ পায় যে সমাসে তাকে চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস।

তাহলে কিছু চতুর্থী  তৎপুরুষ সমাস জেনে নেয়া যাক-

  • বসতের নিমিত্ত বাড়ি = বসতবাড়ি
  • বিয়ের জন্য পাগলা = বিয়েপাগল
  • তপের নিমিত্ত বন = তপোবন
  • গুরুকে ভক্তি = গুরুভক্তি
  • গুরুকে ভক্তি = গুরুভক্তি,
  • আরামের জন্য কেদারা = আরামকেদারা,
  • বসতের জন্য বাড়ি = বসতবাড়ি,
  • বিয়ের জন্য পাগলা = বিয়েপাগলা,
  • হজ্বের জন্য যাত্রা = হজ্বযাত্রা,
  • পাগলের নিমিত্তে গারদ = পাগলাগারদ,
  • মরণের নিমিত্তে কাঠি = মরণকাঠি,
  • শিশুর জন্য সাহিত্য = শিশুসাহিত্য,
  • শয়নের নিমিত্তে কক্ষ = শয়নকক্ষ,
  • রান্নার জন্য ঘর = রান্নাঘর,
  • ছাত্রের জন্য আবাস = ছাত্রাবাস,
  • ছাত্রীর জন্য নিবাস = ছাত্রীনিবাস,
  • জীবনের নিমিত্তে কাঠি = জীবনকাঠি,
  • ডাকের জন্য মাশুল = ডাকমাল 
  • বালিকাদের জন্য বিদ্যালয়= বালিকা বিদ্যালয়

পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস

পূর্বপদে পঞ্চমী বিভক্তি (হতে,থেকে ইত্যাদি) লোপ পায় যে সমাসে তাকে পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস।

তাহলে কিছু পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস জেনে নেয়া যাক-

  • খাঁচা থেকে ছাড়া = খাঁচাছাড়া
  • বিলাত হতে ফেরত = বিলাতফেরত
  • ইতি হতে আদি = ইত্যাদি
  • প্রাণের চেয়ে অধিক = প্রাণাধিক
  • সত্য থেকে ভ্রষ্ট = সত্যভ্রষ্ট
  • প্রাণের চেয়ে প্রিয় = প্রাণপ্রিয়
  • জেল থেকে মুক্ত = জেলমুক্ত
  • জেল থেকে খালাস = জেলখালাস
  • পণ হতে মুক্তি = পণমুক্তি
  • আগা থেকে গোড়া = আগাগোড়া
  • স্কুল থেকে পালানো = স্কুলপালানো
  • বোটা হতে খসা = বোঁটাখসা
  • শাপ থেকে মুক্ত = শাপমুক্ত
  • মৃত্যু হতে উত্তীর্ণ = মৃত্যুত্তীর্ণ
  •  ঋণ হতে মুক্ত = ঋণমুক্ত
  • পরাণের চেয়ে প্রিয়= পরাণপ্রিয় 

ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস

পূর্বপদে ষষ্ঠী বিভক্তির (র, এর) লোপ পায় যে সমাসে তাকে ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস।

তাহলে কিছু ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস জেনে নেয়া যাক-

  • চায়ের বাগান = চাবাগান
  • রাজার পুত্র = রাজপুত্র
  • বিশ্ব বিদ্যার আলয় = বিশ্ববিদ্যালয়
  • পুষ্পের সে․রভ = পুষ্পসৌরভ
  • দিল্লীর রাজা = দিল্লীরাজ
  • গজনীর রাজা = গজনীরাজ
  • পিতার ধন = পিতৃধন
  • মাতার সেবা = মাতৃসেবা
  • ভ্রাতার পুত্র = ভ্রাতুষ্পুত্র
  • পত্নীর সহ= পত্নীসহ বা সপত্নীক
  • কন্যার সহ = কন্যাসহ
  • সহোদরের প্রতিম= সহোদরপ্রতিম
  • ছাত্রের বৃন্দ = ছাত্রবৃন্দ
  • গুণের গ্রাম = গুণগ্রাম
  • হস্তির যূথ = হস্তিযূথ 
  • ফুলের গাছ = ফুলগাছ
  • খেয়ার ঘাট = খেয়াঘাট
  • চায়ের দোকান = চাদোকান
  • সূর্যের আলোক = সূর্যালোক
  • পিতার তুল্য = পিতৃতুল্য
  • জাতিদের সংঘ = জাতিসংঘ
  • যমের আলয় = যমালয়
  • নাটকের অভিনয় = নাটকাভিনয়
  • মনের রথ = মনোরথ
  • দীনের বন্ধু = দীনবন্ধু
  • বাদরের নাচ = বাদরনাচ
  • বিড়ালের ছানা = বিড়ালছানা
  • নদীর জল = নদীজল
  • শিক্ষার মন্দির = শিক্ষামন্দির
  • দূতের আবাস = দূতাবাস
  • ভাইয়ের পো = ভাইপো
  • ঠাকুরের বাড়ি = ঠাকুরবাড়ি
  • কবিদের গুরু = কবিগুরু 

সপ্তমী তৎপুরুষ সমাস

পূর্বপদে সপ্তমী বিভক্তি (এ, য়,তে) লোপ পায় যে সমাসে তাকে সপ্তমী তৎপুরুষ সমাস। 

তাহলে কিছু ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস জেনে নেয়া যাক-

  • রঙ্গে ভরা = রঙ্গভরা
  • পূর্বে ভূত = ভূতপূর্ব
  • পূর্বে অদৃষ্ট = অদৃষ্টপূর্ব
  • গাছে পাকা = গাছপাকা
  • অকালে মৃত্যু = অকালমৃত্যু
  • দিবায় নিদ্রা = দিবানিদ্রা
  • ভোজনে পটু = ভোজনপটু
  • দানে বীর = দানবীর
  • বস্তাতে পচা = বস্তাপচা
  • বনে বাস = বনবাস
  • পাপে আসক্ত = পাপাসক্ত
  • বাক্সতে বন্দী = বাক্সবন্দী
  • তালে কানা = তালকানা,
  • মনে মরা = মনমরা
  • অকালে পক্ক = অকা
  • নামাযে রত = নামাযরত,
  • গোলায় ভরা = গোলাভরা
  • বাকে পটু = বাকপটু

অলুক তৎপুরুষ সমাস 

পূর্বপদে কোন প্রকার বিভক্তি লোপ না পেয়েই যে তৎপুরুষ সমাস হয়, তাকে অলুক তৎপুরুষ সমাস বলা হয়। 

তাহলে কিছু অলুক তৎপুরুষ সমাস জেনে নেয়া যাক-

  • ঘানি তেল = ঘানিতেল,
  • ঘি দিয়ে ভাজা = ঘিয়ে ভাজা,
  • গোড়ায় গলদ = গোড়ায়গলদ,
  • তেলে ভাজা = তেলেভাজা,
  • হাতে কাটা = হাতেকাটা,
  • হাতের পাঁচ = হাতের পাঁচ
  • মামার বাড়ি =  মামার বাড়ি
  • সাপের পা = সাপের পা
  • মনের মানুষ = মনের মানুষ
  • কলের গান = কলের গান
  • গরুর গাড়ি = গরুর গাড়ি
  • গায়ে পড়া = গায়ে পড়া
  •  কিন্তু, ভ্রাতার পুত্র = ভ্রাতুষ্পুত্র (নিপাতনে সিদ্ধ)

আরো দেখুন

চাকরি ও বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষায় আসা গুরুত্বপূর্ণ সমাস- পর্ব ২

চাকরি ও বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষায় আসা গুরুত্বপূর্ণ সমাস- পর্ব ১

Cloud seeding: ক্লাউড সিডিং নিয়ে কেন এত আলোচনা?

0

ক্লাউড সিডিং Cloud seeding

প্রচণ্ড গরমে সবার যখন ত্রাহি অবস্থা, তখন স্বস্তি হয়ে দেখা দেয় বৃষ্টি। চাইলেই কী আর বৃষ্টি পাওয়া যায়, সেটা যদি সম্ভব হতো তাহলে কেমন হত? বিজ্ঞানীরা সেই চেষ্টাই দশকের পর দশক ধরে করে যাচ্ছেন। 

ক্লাউড সিডিং কি 

ক্লাউড সিডিং বলতে এক ধরনের আবহাওয়া পরিবর্তনকেই বুঝায়। বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বা ধরন পরিবর্তন করাই  যার লক্ষ্য। আরও সহজ করে বলতে গেলে, শিলাবৃষ্টি প্রশমিত করা বা কুয়াশা ছড়িয়ে দেওয়া। অর্থাৎ বৃষ্টি বা তুষার বাড়ানো অথবা বৃষ্টিপাত রোধ করা। মোটকথা, কৃত্রিম বৃষ্টিপাত হল প্রকৃতির উপর জোর করে বৈজ্ঞানিক প্রভাব খাটিয়ে বৃষ্টি নামানোর একটি প্রক্রিয়া মাত্র। 

আবিষ্কারের ইতিহাস

১৮৯১ সালে সর্ব প্রথম লুই গাথমান কৃত্রিম বৃষ্টি সৃষ্টিতে তরল কার্বন ডাই অক্সাইড ব্যবহার করার প্রস্তাব করেন। বার্গারন- ফাইন্ডিসন ১৯৩০ এর দশকে বরফের স্ফটিক কণার উপস্থিতিতে অতীব ঠান্ডা পানি দিয়ে একটি পরীক্ষামূলক গবেষণা করেন। যাতে করে পানি-কণা জমে এবং বৃষ্টি নামে। বিজ্ঞানীরা এই ধারণার ওপর ভিত্তি করে এই তত্ত্বটি তৈরি করেন। জেনারেল ইলেকট্রিকের গবেষক ভিনসেন্ট শিফার এই তত্ত্বটিকে প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৪৬ সালের জুলাইতে তিনি কৃত্রিম বৃষ্টির মূলনীতি আবিষ্কার করেন। পরে নোবেলজয়ী বিজ্ঞানী আরভিং ল্যাংমুর সঙ্গে যৌথভাবে কৃত্রিম বৃষ্টি সৃষ্টির কৌশল নিয়ে গবেষণা করেন। 

ক্লাউড সিডিং এর উপাদান

ক্লাউড সিডিং এ সাধারণ সিলভার আয়োডাই্‌জ্‌ড, পটাশিয়াম আয়োডাই্‌জ্‌ড অথবা শুষ্ক বরফ বা কঠিন কার্বন ডাই-অক্সাইড রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়। এছাড়া তরল প্রোপেন গ্যাসও ব্যবহার করা হয়। এ গ্যাস সিলভার আয়োডাই্‌জ্‌ড এর চেয়ে বেশি তাপমাত্রায় বরফের স্ফুটিক তৈরি করতে পারে। তবে অনেক সস্তা ও বেশ কার্যকর প্রমাণিত হওয়ায় এ কাজে এখন সোডিয়াম ক্লোরাইড বা খাবার লবণের ব্যবহার বাড়ছে। 

ব্যবহারের প্রক্রিয়া

মেঘের ভেতরের তাপমাত্রা ক্লাউড সিডিং এর সময় ২০ থেকে -৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে আসে। তুষারপাতের পরিমাণ এ সময় বেড়ে যেতে পারে। এই রকম পরিস্থিতিতে রাসায়নিক হিসেবে সিলভার আয়োডাইড ব্যবহার করা হয়। ক্লাউড সিডিং এর উপাদানগুলো উপযুক্ত স্থানে ছড়িয়ে দেওয়া হয় উড়োজাহাজে করে অথবা বিশেষ যন্ত্রের মাধ্যমে। যখন উড়োজাহাজটি মেঘের ভেতর দিয়ে যায় তখন সিলভার আয়োডাই্‌জ্‌ড ছড়িয়ে দেওয়া হয়। মেঘের- সিড হিসেবে রাসায়নিকের ক্ষুদ্র স্ফটিক দানাগুলোই কাজ করে। অর্থাৎ ভাসমান জলীয় বাষ্পে পানির কণাগুলো এসব দানায় জড়ো হয়ে বড় ফোঁটায় পরিণত হয়। ওজন বেড়ে গিয়েই একসময় মহাকর্ষের টানে বৃষ্টি ঝরে পড়ে। সাধারণত রকেটে বা বিমানে করে এই ড্রাই-আইস গুলো মেঘের উপর ছেড়ে দেওয়া হয়। মিসাইল পদ্ধতিও বর্তমানে বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে। 

ক্লাউড সিডিং এর ধাপ

ক্লাউড সিডিং করতে গিয়ে এমন পদার্থগুলিকে বাতাসে ছড়িয়ে দেয়া হয়,যেগুলো মেঘকে ঘনীভূত করতে বা বরফের নিউক্লিয়াস হিসাবে কাজ করে। 

এই প্রক্রিয়াটি ঘটানোর জন্য তিনটি ধাপ পার করতে হয়। 

প্রথমত: মেঘ সৃষ্টি করতে হয় বা আকাশে মেঘ থাকতে হবে। 

দ্বিতীয়ত: বৃষ্টিপাতের উপযোগী অবস্থায় আনতে হলে মেঘকে ঘনীভূত করতে হয়। 

তৃতীয়ত: সবশেষে বৃষ্টি ঝরানো হয়। 

আকাশের ভাসমান মেঘকে পানির ফোটায় পরিণত করে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই কৃত্রিম বৃষ্টিপাত ঘটানো হয়। এই ক্লাউড সিডিং কনসেপ্ট হিসেবে কয়েক দশক ধরে প্রচলিত আছে।

ক্লাউড  সিডিং বৃদ্ধির কারণ

বিশ্বের অনেক দেশেই এখন ক্লাউড সিডিং ঘটানো হচ্ছে। কেননা যতদিন যাচ্ছে, পানির অভাব যেন বেড়েই যাচ্ছে। বিশ্বের প্রায় ৪৫ শতাংশ জনসংখ্যাই প্রচণ্ড পানির সংকটে ভুগছেন। পানি সেচের কারণে পানির অভাব যেন আরও বাড়ছে। ধারণা করা হচ্ছে, আগামী ২০-২৫ বছরের মাঝে বিশ্বের প্রায়ই দেশ তীব্র পানির সংকটে ভোগার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই এই প্রযুক্তির মাধ্যমে খরা প্রবণ এলাকায় কৃত্রিম ভাবে বৃষ্টিপাত ঘটানো বা নামানো হচ্ছে। তাছাড়া যে সব এলাকাতে অতি দৃষ্টিজনিত কারণে বন্যা  হচ্ছে, তার ক্ষয়ক্ষতি থেকে রক্ষা করতেও এই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। এগুলোর পাশাপাশি যে সব স্থানের ভূগর্ভস্থ পানি লবণাক্ত, কৃত্রিম বৃষ্টিপাত সেসব স্থানের জন্য খুবই প্রয়োজনীয়। এ কারণেই কৃত্রিম বৃষ্টিপাত ঘটানোর জন্য সেসব স্থানে সার্বক্ষণিক মেঘ পর্যবেক্ষণ করা হয়ে থাকে। যেমন মেঘ থাকলে বৃষ্টিপাত ঘটানো সম্ভব হয় তেমন খুঁজে পেলেই ক্লাউড সিডিং অপারেশন শুরু করা হয়। 

কৃত্রিম বৃষ্টিপাত বা ক্লাউড সিডিং বিশ্বের যে সব দেশ এখন পর্যন্ত ঘটিয়েছে তার মাঝে চীন একাই তার চেয়ে বেশি করিয়েছে। বেইজিং অলিম্পিকে চীন  ২০০৮ সালে এই পদ্ধতিতে বৃষ্টিপাত ঘটিয়েছিল। ক্লাউড সিডিং এর মাধ্যমে খেলার মাঠে মেঘ জড়ো হওয়ার আগেই খেলার মাঠ থেকে দূর কৃত্রিম বৃষ্টিপাত ঘটিয়েছিল। ফলে বৃষ্টি খেলার মাঝে বিঘ্ন ঘটায়নি।

ক্লাউড  সিডিং এর প্রভাব

আমরা জানি, প্রত্যেক ক্রিয়ারই একটি সমান ও বিপরীত প্রতিক্রিয়া আছে। তাই এক জায়গায় কৃত্রিম বৃষ্টিপাত ঘটালে অন্য জায়গায় তার প্রভাবে বৃষ্টির অভাব সৃষ্টি হবে।

কেননা, অনেক এলাকায় কৃত্রিম বৃষ্টিপাত করানোর জন্য আকাশে সিলভার আয়োডাই্‌জ্‌ড ছিটানো হতো। এর পরিমাণ  যদি অতিরিক্ত হয়, তাহলে মাটি দূষিত হবে। শুধু তাই নয়, এর প্রভাবে উদ্ভিদ ও প্রাণীকূলেও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এক কথায়, বাস্তুসংস্থানেও ওপরেও বিরূপ প্রতিক্রিয়া পড়বে। এ কারণেই অভিজ্ঞ বিজ্ঞানীদের দ্বারা খুব সাবধানে এ প্রযুক্তি ব্যবহার করতে হয়।

ক্লাউড সিডিং নিয়ে আধুনিক বিজ্ঞানীদের ধারণা

তবে এই প্রযুক্তি অনেক ব্যয়বহুল। এজন্য  ব্যয়ভার কমানোর জন্য বিজ্ঞানীরা গবেষণা করেই যাচ্ছেন। তাদের ধারণা, বিমান বা রকেটের পরিবর্তে লেজার রশ্মির ব্যবহার করে যদি ক্লাউড সিডিং করানো হয় তবে ব্যয় কমে যাবে। যদি লেজার রশ্মির ব্যবহার আবিষ্কৃত হয়, তাহলে কৃত্রিম বৃষ্টিপাতের প্রযুক্তিকে আরও সহজ ও সুলভ করতে কার্যকরী ভূমিকা পালন করবে।

মানুষ সভ্যতার শুরু থেকেই প্রকৃতির ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করে এসেছে। এরই ফলে কখনো ডেকে এনেছে আশীর্বাদ আবার কখনো বা ডেকে এনেছে চরম বিপর্যয়। দিনে দিনে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির যে উন্নয়ন ঘটছে তাতে ধারণা করাই যায়, ভবিষ্যতে প্রকৃতির উপর মানুষের নিয়ন্ত্রণ বহুলাংশে বৃদ্ধি পাবে। 

Nobel Prize 2023| নোবেল পুরস্কার ২০২৩

Nobel Prize বা নোবেল পুরস্কার হলো একটি আন্তর্জাতিক পুরস্কার। যাকে সুয়েডীয় ভাষায় Nobelpriset বলে। এটি ১৯০১ খ্রিষ্টাব্দে প্রবর্তিত হয়ে ঐ বছর থেকে চালু করা হয়। সারা বিশ্বের সফল ও অনন্য সাধারণ গবেষণা ও উদ্ভাবন বা মানবকল্যাণমূলক তুলনারহিত কর্মকাণ্ডের জন্য বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে এই পুরস্কার প্রদান করা হয়। 

এই পুরস্কারটি মোট ছয়টি বিষয়ে প্রদান করা হয়। যথা- 

  1. পদার্থবিজ্ঞান
  2. অর্থনীতি
  3. রসায়ন
  4. চিকিৎসা শাস্ত্র
  5. সাহিত্য ও
  6. শান্তি।

নোবেল পুরস্কার ঘোষণার সময়

যে প্রতিষ্ঠানগুলো পুরস্কার প্রদানের দায়িত্বে নিয়োজিত তারা লরিয়েটদের নাম ঘোষণা করেন ঠিক অক্টোবর মাসে। আর ১০ ডিসেম্বরে অর্থাৎ আলফ্রেড নোবেলের মৃত্যুবার্ষিকীতে আনুষ্ঠানিকভাবে পদক প্রদান করা হয়।

পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, চিকিৎসা বিজ্ঞান: সাধারণত অক্টোবর মাসের প্রথম সপ্তাহে।

সাহিত্য: সাধারণত অক্টোবর মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে।

শান্তি: সাধারণত অক্টোবর মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহের শেষে।

অর্থনীতিতে স্মারক পুরস্কার: অক্টোবর মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহের শেষে সাধারণত।

নোবেল পুরস্কার প্রদানের ধাপ

চারটি ধাপে নোবেল পুরস্কার দেয়ার কাজ চলে। যথা-

  1. মনোনয়ন
  2. মূল্যায়ন
  3. ঘোষণা ও 
  4. পুরস্কার প্রদান।

১. মনোনয়ন 

পৃথিবীর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এবং ব্যক্তি নোবেল পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন জমা দিতে পারেন।

২. মূল্যায়ন 

প্রতিটি শাখার জন্য নোবেল কমিটি বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি কমিটি গঠন করে। এই কমিটির কাজ হলো মনোনয়নগুলো পর্যালোচনা করা এবং পুরস্কারের জন্য বিজয়ী নির্বাচন করা।

৩. ঘোষণা

অক্টোবর মাসেই নোবেল পুরস্কারের বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়।

৪. পুরস্কার প্রদান

নোবেল পুরস্কার প্রদান করা হয় ডিসেম্বর মাসের ১০ তারিখে। আলফ্রেড নোবেল-এর মৃত্যুবার্ষিকীতে স্টকহোম, সুইডেনে একটি আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানে। তবে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার প্রদান করেন নরওয়ে নোবেল কমিটি।

২০২৩ সালে যারা নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন

চিকিৎসাবিজ্ঞান

চিকিৎসাশাস্ত্রে এ বছর নোবেল পেয়েছেন যৌথভাবে ক্যাটালিন কারিকো এবং ড্রু উইসম্যান।

যে কারণে এই পুরস্কার পান:

তারা কোভিড-১৯ রোগের বিরুদ্ধে কার্যকর নিউক্লিওসাইড বেস পরিবর্তন সংক্রান্ত এমআরএনএ টিকা আবিষ্কারের করার জন্য এই পুরস্কারটি পান। সুইডেনের ক্যারোলিনস্কা ইনস্টিটিউট সোমবার (২ অক্টোবর) চিকিৎসা বিজ্ঞানে বিজয়ী হিসেবে তাঁদের নাম ঘোষণা করে।

বিজয়ীদের সম্পর্কে নোবেল কমিটির মন্তব্য:

মানবদেহের ইমিউন সিস্টেমের সঙ্গে এমআরএনএ কীভাবে যোগাযোগ করে সে সম্পর্কে এতদিনের ধারণা মৌলিকভাবে পরিবর্তন হয়েছে তাদের যুগান্তকারী আবিষ্কারের মাধ্যমে। আধুনিক সময়ে মানব স্বাস্থ্যের জন্য একটি হুমকির ভ্যাকসিন বিকাশে তাদের অবদান অভূতপূর্ব।

বর্তমানে কর্মরত আছেন:

ক্যাটালিন কারিকোর ১৯৫৫ সালে হাঙ্গেরির জোলনকে জন্মগ্রহণ নেন। আর ড্রু উইসম্যান জন্মগ্রহণ করেন ১৯৫৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের লেক্সিংটনে। দুজনই যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত  আছেন। 

পদার্থবিজ্ঞান

পদার্থবিজ্ঞানে এ বছর নোবেল পেয়েছেন যৌথভাবে পিয়েরে অ্যাগোস্টনি, ফিরেন্স ক্রাসজ ও অ্যান লরিয়েল।

যে কারণে এই পুরস্কার পান:

সবচেয়ে কম সময়ে আলোকে ধারণ করার ব্যাপারে গবেষণার জন্য তারা এই পুরস্কারটি পান। মঙ্গলবার (৩ অক্টোবর) রয়েল সুইডিশ একাডেমি অব সায়েন্স পদার্থবিজ্ঞানে বিজয়ী হিসেবে তাদের নাম ঘোষণা করে।

বিজয়ীদের সম্পর্কে রয়েল সুইডিশ অ্যাকাডেমির মন্তব্য:

মানবতাকে তিনজনের গবেষণা, পরমাণু ও অণুর ভিতরে ইলেকট্রনের জগৎ অন্বেষণের জন্য নতুন সরঞ্জাম তৈরি করে দিয়েছে।

বর্তমানে কর্মরত আছেন:

পিয়েরে অ্যাগোস্টনি যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও স্টেট ইউনিভার্সিটিতে, ফিরেন্স ক্রাসজ জার্মানির ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক ইনস্টিটিউট অব কোয়ান্টাম অপটিকসে এবং অ্যান লরিয়েল সুইডেনের লন্ড ইউনিভার্সিটিতে।

রসায়ন

রসায়নে এ বছর নোবেল পেয়েছেন যৌথভাবে মুঙ্গি জি বাউইন্ডি, লুইস ই ব্রাস এবং আলেক্সি ই.ইকিমভ।

যে কারণে এই পুরস্কার পান:

কোয়ান্টাম ডটের আবিষ্কার ও উন্নয়ন এবং ন্যানোপার্টিকলের আকার ও বৈশিষ্ট্য নির্ধারণে তাদের অবদান রাখার জন্য এই পুরস্কারটি পান। বুধবার (৪ অক্টোবর) রয়েল সুইডিশ একাডেমি অব সায়েন্স রসায়নে বিজয়ী হিসেবে তাদের নাম ঘোষণা করে।

বিজয়ীদের সম্পর্কে নোবেল কমিটির মন্তব্য:

টেলিভিশন এবং এলইডি লাইট থেকে তাদের আলো ছড়িয়ে দেয় এবং অন্যান্য অনেক জিনিসের মধ্যে টিউমার টিস্যু অপসারণ করার সময় ন্যানোটেকনোলজির এই ক্ষুদ্রতম উপাদানগুলি সার্জনদেরও নির্দেশনা দিতে সাহায্য করতে পারে।

বর্তমানে কর্মরত আছেন:

মুঙ্গি জি বাউইন্ডি ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলোজিতে, লুইস ই ব্রাস কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটিতে এবং আলেক্সি ই.ইকিমভ ন্যানোক্রিস্টালস টেকনোলজির ইনকরপোরেশনে।

সাহিত্য

সাহিত্যে এ বছর নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন নরওয়ের লেখক ও নাট্যকার ইয়োন ফসে।

যে কারণে এই পুরস্কার পান:

ইয়োন ফসে নরওয়েতে বেড়ে ওঠার অভিজ্ঞতাকে লেখায় তুলে ধরেছেন শিল্পিত সুষমায়। শুধু তাই নয়, অনুচ্চারিত থেকে যাওয়া বহু কথা তিনি তার লেখায় তুলে এনেছেন। এসব কারণে রয়্যাল সুইডিশ একাডেমি বৃহস্পতিবার (৫ অক্টোবর) বিজয়ী হিসেবে তার নাম ঘোষণা করে।

বিজয়ী সম্পর্কে রয়েল সুইডিশ অ্যাকাডেমির মন্তব্য:

ইয়োন ফসে বর্তমান সময়ের সবচেয়ে বেশি মঞ্চস্থ হওয়া নাট্যকারদের মাঝে অন্যতম। তিনি মানুষের উদ্বেগ ও দ্বিধাকে নিজ মুনশিয়ানায় উপস্থাপন করে প্রশংসিত।

বিজয়ী সম্পর্কে নোবেল কমিটির মন্তব্য:

নির্দিষ্ট কোনো কোনো লেখার জন্য তাকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়নি। বরং  বিপুল সাহিত্যকর্ম রচনার জন্যই তাকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। তার রচনা এত বিশাল যে, যার তালিকা করা অসম্ভব কঠিন।

বিজয়ী সম্পর্কে নোবেল কমিটির চেয়ারম্যান আন্দ্রেয়াস ওলসন-এর মন্তব্য:

‘তার লেখার বিশেষত্ব হচ্ছে মানব–ঘনিষ্ঠতা। সেসব আপনার গভীরতর অনুভূতিগুলোকে স্পর্শ করে যাবে। উদ্বেগ, নিরাপত্তাহীনতা, জীবনের অর্থ ও মৃত্যু-এ রকম নানা বিষয়, মানুষকে আসলে যার প্রতিটির মুখোমুখি হতে হয়।’

ইয়োন ফসের রচনা:

তিনি নাটক, উপন্যাস, প্রবন্ধ, কবিতা, শিশুতোষ বই ছাড়াও অনুবাদের বইও রচনা করেছেন। তার এই লেখাগুলো বিশ্বজুড়ে নানা ভাষায় অনূদিত হয়েছে। নাটকে তিনি ৪০টির মতো লিখেছেন।

তবে  উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্ম উপন্যাস ‘বোটহাউস’ (১৯৮৯) এবং ‘মেলাংকলি’ ১ ও ২ (১৯৯৫–১৯৯৬) হলেও সাহিত্যিক হিসেবে আত্মপ্রকাশ ঘটে ১৯৮৩ সালে উপন্যাস  ‘রেড, ব্ল্যাক’ এর মাধ্যমে। পরবর্তী সাহিত্যকর্মের সুর বেঁধে দিয়েছিলো তার এই উপন্যাসটিই।

শান্তি

শান্তিতে এ বছর নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন ইরানের নার্গিস মোহাম্মদী। তিনি একজন মানবাধিকারকর্মী।

যে কারণে এই পুরস্কার পান: 

ইরানে নারী নিপীড়নের বিরুদ্ধে লড়াই এবং মানবাধিকার ও সবার জন্য স্বাধীনতার পক্ষে প্রচেষ্টার জন্যই তিনি এই পুরস্কারটি পান। শুক্রবার (৬ অক্টোবর) নোবেল কমিটি শান্তিতে বিজয়ী হিসেবে তার নাম ঘোষণা করে।  

বিজয়ী সম্পর্কে নোবেল কমিটির ওয়েবসাইটের মন্তব্য:

নার্গিস মোহাম্মদী একাধারে  নারী,  মানবাধিকারকর্মী ও স্বাধীনতা যোদ্ধা। এ কাজের জন্য তাকে অনেক ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছে। ইরানের শাসক দ্বারা ১৩ বার গ্রেপ্তার ও ৫বার  দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। শাস্তি হিসেবে ১৫৪টি বেত্রাঘাত ও ৩১ বছরের কারাদণ্ড হয়েছে। যে কারণে এখনও তিনি কারাগারে।

’এনজিও  ডিফেন্ডার্স অব হিউম্যান রাইটস সেন্টার’ এর উপপ্রধান হিসেবে কাজ করছেন নার্গিস মোহাম্মদী। এই এনজিওটি শান্তিতে নোবেলজয়ী আরেক ইরানি নারী শিরিন এবাদির নেতৃত্বাধীন। 

অর্থনীতি

অর্থনীতিতে এ বছর নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন অধ্যাপক ক্লদিয়া গোল্ডিন।

রয়েল সুইডিশ একাডেমি অব সায়েন্সেস সোমবার ( ৯ অক্টোবর ) অর্থনীতিতে  বিজয়ী হিসেবে তার নাম ঘোষণা করে।

বিজয়ী সম্পর্কে নোবেল কমিটির মন্তব্য:

ক্লদিয়া গোল্ডিন প্রথম ব্যাপক বিবরণ প্রদান করেছেন শতাব্দীজুড়ে নারীদের উপার্জন এবং শ্রমবাজারে অংশগ্রহণের ব্যাপারে। তার গবেষণা পরিবর্তনের কারণ, সেইসাথে বিদ্যমান লিঙ্গ ব্যবধানের মূল উৎস প্রকাশ করে।

বর্তমানে কর্মরত আছেন:

ক্লদিয়া গোল্ডিন বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হিসেবে আছেন।

আরো দেখুন – ফ্রিল্যান্সিং এর জন্য সেরা ১০ টি স্কিল

ফ্রিল্যান্সিং এর জন্য সেরা ১০ টি স্কিল

আধুনিক প্রযুক্তি নির্ভর বিশ্বে মানুষ নিজেকে সবকিছুর সাথে খাপ-খাইয়ে নেওয়ার জন্য প্রতিনিয়ত চেষ্টা করে যাচ্ছে। আর প্রযুক্তির মাধ্যমেই সকল কাজ করার প্রচেষ্টা চলছে। আর যুগের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে গেলে, প্রযুক্তি নির্ভর বিশ্বে সকলেরই কোন না কোন বিষয়ের উপর অভিজ্ঞতা থাকা দরকার। 

কয়েক বছর আগেও ফ্রিল্যান্সিং সবার কাছে তেমন পরিচিত ছিলোনা। কিন্তু বর্তমানে ডিজিটাল যুগে ফ্রিল্যান্সিং এর  চাহিদা, পেশাগত চাকরির সাথে পাল্লা দিয়ে শুধু বাড়ছেই না, বরং একটি জনপ্রিয় ক্যারিয়ার হয়ে উঠছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মত বাংলাদেশেও এর চাহিদা প্রতিনিয়ত বাড়ছে। বিশেষ করে তরুণ সমাজের আগ্রহ দেখা যাচ্ছে, এই পেশার উপর।

ফ্রিল্যান্সিং জনপ্রিয় হওয়ার কারণ

  • এর জন্য নির্দিষ্ট কোন জায়গা বা অফিস লাগে না।
  • ঘরে বসেই কাজ করা যায়।
  • এর কোন ধরাবাঁধা সময় নেই।

যদি আপনি ফ্রিল্যান্সিংয়ে নতুন হয়ে থাকেন, তাহলে ভাবছেন কোথা হতে বা কীভাবে শুরু করবো? আর এক্ষেত্রে নিশ্চয়ই, সবচেয়ে সহজ যে কাজ তা দিয়েই শুরু করবেন। তবে সহজ বা কঠিন যেটাই হোক, স্কিল ছাড়া কোন কাজই সম্ভব না। 

আজকের আলোচনায় আমরা স্কিল নিয়েই জানবো। যেগুলো একজন অভিজ্ঞ ফ্রিল্যান্সা বা অনভিজ্ঞ ফ্রিল্যান্সা সবার জন্যই সহায়ক হবে। শুধু তাই নয়, আপনাকে একজন দক্ষ ফ্রিল্যান্সার হিসাবে গড়ে উঠতেও সাহায্য করবে।

তাহলে কথা না বাড়িয়ে আলোচনা শুরু করা যাক—

  • ডাটা অ্যানালাইসিস
  • ডিজিটাল মার্কেটিং 
  • ওয়েব ডেভেলপমেন্ট 
  • ইউ-এক্স ইউ-আই ডিজাইন 
  • সাইবার সিকিউরিটি   
  • আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্ট এন্ড এন্ড মেশিন লার্নিং 
  • ভিডিও প্রোডাকশন এন্ড এডিটিং 
  • ডিজিটাল প্রজেক্ট ম্যানেজার  
  • ই–কমার্স এক্সপার্টি 
  • কনটেন্ট ক্রিয়েশন এন্ড কপি-রাইটিং 

ডাটা অ্যানালাইসিস 

এই লিস্টের এক নম্বরে রয়েছে ডাটা অ্যানালাইসিস। সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য কোন ডাটাকে পরিবর্তন বা রূপান্তরের প্রক্রিয়াকে ডাটা অ্যানালাইসিস বলে। ব্যবসায়িক বা ব্যক্তিগত উন্নয়নের জন্য অতীতের ভুল আর ভবিষ্যৎ এর স্বপ্ন দুই মিলিয়ে, এই পরিস্থিতিতে কি করলে বর্তমান ও  ভবিষ্যৎ ভালো হবে সে সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রক্রিয়াটাকেই ডাটা অ্যানালাইসিস বলে। 

বর্তমান সময়টাকে বলা চলে, ডাটা যুগ বা ডাটার স্বর্ণযুগ। যে প্রতিষ্ঠানের কাছে যত বেশি ডাটা আছে সে প্রতিষ্ঠানটি তত বেশি শক্তিশালী। Google ও ফেসবুকেআমরা যাকিছু দেখি সব ডাটার উপর নির্ভর করে বানানো হয়। ইন্টারনেটেও যা কিছু চলে তার সবকিছুই ডাটার উপর ভিত্তি করে। ফেসবুক এবং google এর কাছে প্রায় প্রত্যেক ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর ব্যবহৃত ডাটা সংরক্ষিত আছে। 

আপনি যদি গুগলে ঘড়ি দিয়ে সার্চ দেন, কিছুক্ষণ পর ফেসবুকে নোটিফিকেশন চেক করতে  গিয়ে দেখলেন কোন একটি ঘড়ির অ্যাড দেখাচ্ছে বা ঘড়ি বিক্রি করে এমন কোন পেজ সাজেস্ট করছে। চিন্তা করে দেখুন ফেসবুক আপনার মাইন্ড রিড করলো কীভাবে, যে আপনি ঘড়ি খুঁজছেন? আসলে, ফেসবুক আপনার সার্চ করা ডাটাগুলোকে কিনে নিয়ে তাদের অ্যালগরিদম দিয়ে এই কাজটি করেছে। 

facebook এবং google ডাটা অ্যানালাইসিস করে আপনার প্রোফাইলের জন্য বিশেষভাবে এক ক্যাম্পেইন চালু করে। আর অনলাইনে আমরা যে সকল এড দেখি, তার উপর ডাটা অ্যানালাইসিস করে নতুন বিজ্ঞাপন তৈরি করা হয়। এসব কাজ করে থাকেন একজন ডাটা এনালিস্ট। হয় তো ভাবছেন, ডাটা এনালিস্টের ক্যারিয়ার আবার কি রকম? ডাটা এনালিস্ট এর ক্যারিয়ার কেমন তা জানার আগে আপনাকে জানতে হবে এটি কোন কোন  ইন্ডাস্ট্রিতে ব্যবহৃত হয়, তা নিচে দেওয়া হল— 

  1. ব্যবসা  
  2. চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য 
  3. গবেষণা প্রতিষ্ঠান 
  4. গোয়েন্দা সংস্থা ইত্যাদি।  

একজন ডাটা এনালিস্ট এই সকল  ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করতে পারবেন। এই ধরনের ইন্ডাস্ট্রিতে প্রতিটি পথ উচ্চ পর্যায়ের হয়ে থাকে। এর কারণ এনালিস্টেড করা ডেটা বা তথ্যের উপর ভিত্তি করে তাদের কার্যক্রম পরিচালিত হয়। কোন কারণে যদি ডেটা বা তথ্য সঠিক না হয় তাহলে তাদের অনেক অর্থ অপচয় হবে। 

একজন ডাটা এনালিস্ট এর বেতন আমেরিকা সহ বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতে ৫০ থেকে ৮০ হাজার টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে। আধুনিক বিশ্বে যে হারে ডাটার চাহিদা বাড়ছে, যদি ডাটা এনালিস্টের স্কিল থাকে তবে আপনার জন্য একটি ভালো সুযোগ হতে পারে। ডাটা অ্যানালাইসিসের কাজের বেতন এবং চাহিদা দিনকে দিন বাড়তেই থাকবে। তাই বলা যায় যে, একজন ডাটা এনালিস্টের ক্যারিয়ার অনেক উজ্জ্বল। 

ডিজিটাল মার্কেটিং  

ডিজিটাল মার্কেটিং হচ্ছে ইন্টারনেট, মোবাইল ফোন এবং সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করে এমন মানুষের কাছে পণ্যের জানান দেওয়ার একটি পন্থা বা পদ্ধতি। মার্কেটিং এর মূল কাজ মানুষের নিকট পণ্য সঠিক সময়ে পৌঁছে দেওয়া বা পণ্য সম্পর্কে যাবতীয় তথ্য জানানো। বর্তমান সময়ে মানুষ বেশিরভাগ সময় ব্যয় করে সোশ্যাল মিডিয়ায় বা অনলাইনে। করোনার সময়ে এর স্থায়িত্ব কয়েক গুণ হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশাল পরিমাণের এই অডিয়েন্স এর কাছে আপনার পণ্য সম্পর্কে তুলে ধরার সহজ এবং কার্যকরী পদ্ধতি হচ্ছে ডিজিটাল মার্কেটিং। 

আরো সহজ করে বলতে গেলে, ডিজিটাল মার্কেটিং হচ্ছে প্রোডাক্ট মার্কেটিং এর একটি দিক। যেটি ইলেকট্রনিক্স ডিভাইস, সোশ্যাল মিডিয়া এবং ইন্টারনেটের মাধ্যমে বা সাহায্যে পরিচালনা করা হয়। তবে ডিজিটাল মার্কেটিং অনেক ধরনের হয়। যেমন–

  1. অনলাইন মার্কেটিং 
  2. সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন 
  3. কনটেন্ট মার্কেটিং 
  4. সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং 
  5. অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং 
  6. ই-মেইল মার্কেটিং 
  7. অফলাইন মার্কেটিং 
  8. সার্চ ইঞ্জিন মার্কেটিং 
  9. টেলিভিশন মার্কেটিং 
  10. ফোন মার্কেটিং 
  11. রেডিও মার্কেটিং 

এগুলোর পাশাপাশি আরো বেশ কয়েক ধরনের কাজ বা সেক্টর আছে ডিজিটাল মার্কেটিং এর। 

মানুষ যে হারে সোশ্যাল মিডিয়ার উপর নির্ভর করছে, এতে করে ডিজিটাল মার্কেটিং এর ডিমান্ড আগামীতেও থাকবে আকাশচুম্বে। 

আমেরিকাতে একজন ডিজিটাল মার্কেটারের মান্থলি স্যালারি প্রায় ৪৮৬২ ডলার। যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় সাড়ে চার লক্ষ টাকার বেশি। পাশের দেশ ইন্ডিয়াতে একজন ডিজিটাল মার্কেটারের মান্থলি স্যালারি গড়ে 15 থেকে ৮৮ হাজার রুপি। 

ডিজিটাল মার্কেটিং এর দ্বার, সম্ভাবনাময় ও সুবিশাল। আপনি চাইলেই ফ্রিল্যান্সিং করতে পারেন বা কোন সংস্থার জন্য কাজ করতে পারেন। আবার বড় কোন মিডিয়ার জন্যেও কাজ করতে পারবেন। তাছাড়া নির্বাচনী প্রচার করেও আয় করতে পারবেন। এটি একটি সম্ভাবনাময় সেক্টর। 

ওয়েব ডেভেলপমেন্ট 

একটি ওয়েবসাইট তৈরি করার জন্য যে সকল কাজ করতে হয় তা একজন ওয়েব ডিজাইনার বা ডেভলপার করে থাকেন। একজন ডেভলপারের কাজ হল একটি ওয়েবসাইট তৈরি করা থেকে শুরু করে ইন্টারনেটে লাইভ করা থেকে এর সিকিউরিটি প্রদান করা পর্যন্ত। একজন ডেভলপার তার সুনির্দিষ্ট কাজ এবং দায়িত্বের মাধ্যমে একটি ওয়েবসাইট দাঁড় করায়। ক্লায়েন্টের চাহিদার উপর নির্ভর করে একজন ডেভলপার ওয়েবসাইট তৈরি করে। 

ওয়েব ডেভেলপমেন্টের একটি বড় অংশ ক্রমাগত আপডেটের সাথে সাইডের বাক্যগুলো পর্যবেক্ষণ করে এবং ফিক্সিংয়ের চারদিকে ঘুরতে থাকে। ডেভলপার এই সমস্যাগুলো নিয়মিত সমাধান করে এবং সাইটগুলো যাতে কোনোরকম বাস ছাড়া সহজে চলতে পারে তা নিশ্চিত করে। 

ওয়েব ডেভলপমেন্টকে কয় ভাবে বিশ্লেষণ করা হয়। 

  1. ফ্রন্ট এন্ড 
  2. ব্যাক এন্ড 
  3. ফুল স্ট্যাক 

1. ফ্রন্ট এন্ড 

আমরা যখন একটি ওয়েবসাইটে ভিজিট করি, তখন ওয়েবসাইটটির প্রথম পেজে আমরা কিছু নকশা, লেআউট, ছবি, বা লেখা এর সাথে UI (ইউজার ইন্টারফেস) UX (ইউজার এক্সপেরিয়েন্স) ডিজাইন দেখতে পাই। ওয়েবসাইটের ফ্রন্ট এন্ড এটিকেই সাধারণত বলে। ভিজিটরদের আকর্ষণ ধারে রাখার জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। 

2. ব্যাক এন্ড 

সার্ভার সাইডের development করাকে ব্যাট এন্ড ওয়েব ডেভেলপমেন্ট বলে। অন্যভাবে বলা যায়, ওয়েবসাইটের ফাংশনাল কাজ করার জন্য সাইটের ভেতরের অংশে যে কাজ করা হয়। যেমন- ওয়েব ডিজাইন ও থিম ডিজাইন, দেট অ্যান্ড সার্ভার, ডাটাবেজ এবং অ্যাপ্লিকেশন লজিং দ্বারা গঠিত ওয়েবসাইট সঠিকভাবে কাজ করছে কিনা তা নিশ্চিত করার জন্য ব্যাক এন্ড ডিজাইন অপরিহার্য। 

3. ফুল স্ট্যাক 

একটি ওয়েবসাইট ডিজাইন করা থেকে ওয়েবসাইটের সম্পূর্ণ ওয়েব ডেভেলপমেন্ট কাজ করার প্রক্রিয়াই হল ফুল স্ট্যাক development। সাধারণভাবে বলতে গেলে, ওয়েব ডিজাইন, ফ্রন্ট এন্ড, বেড এন্ড, ওয়েবসাইটের সার্ভার, গঠন ও কাঠামো তৈরি করা থেকে সকল কাজই একজন ফুল স্ট্যাক ডেভেলপার করে থাকে। 

ডিবাগিং, ডাটাবেজ ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম সিকিউরিটি সবকিছুই একজন ফুলস্টপ ওয়েব ডেভেলপমেন্ট ম্যানেজ করে থাকেন। তাছাড়া ই-কমার্স ওয়েবসাইট গুলো একজন ফুলস্টপ ওয়েব ডেভলপার সম্পাদন করে থাকেন। ওয়েব ডেভেলপমেন্ট শিখতে হলে আপনাকে মূলত যে জিনিসগুলো জানতে হবে সেগুলো হল— 

  1. HTML 
  2. CSS 
  3. Javascript 
  4. Git 
  5. WordPress 
  6. Seo 

আপনাকে এর পাশাপাশি আরও কিছু বিষয় জানতে হবে। 

কোন কাজ করার আগে তার ভবিষ্যৎ সম্পর্কে জেনে নেওয়াটা হলো বুদ্ধিমানের কাজ। সেজন্য আমরা বলতে পারি, একজন দক্ষ ডেভলপার হতে চাইলে আপনাকে ওয়েব ডেভেলপমেন্টকে ক্যারিয়ার হিসেবে বেছে নিতে পারবেন। বর্তমানে ওয়েব ডেভেলপমেন্ট এর চাহিদা বেড়ে যাচ্ছে। প্রতিদিন গড়ে মিনিটে প্রায় ৫৭১ টি নতুন ওয়েবসাইট তৈরি হচ্ছে। এই সংখ্যা দিনে দিনে বাড়তেই থাকবে। শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর মতে, ওয়েব ডেভেলপমেন্ট কর্মসংস্থানের গ্রুপ করছে ৩০.৩ শতাংশ হারে। 

UI/UX (ইউ এক্স ইউ আই) ডিজাইন 

ইউ আই এর সম্পূর্ণরূপ হল ইউজার ইন্টারফেস। বিভিন্ন ওয়েবসাইট অ্যাপ্লিকেশনের ক্ষেত্রে একজন ইউজার হিসাবে আমরা যে ইউজার ইন্টারফেসটি ব্যবহার করছি, তা ইউ আই ডিজাইন হিসাবে পরিচিত। কোন অ্যাপ্লিকেশন বা ওয়েবসাইট ব্যবহারের ক্ষেত্রে স্বচক্ষে যে ইন্টারফেস দেখতে পাই সেটা ইউ আই ডিজাইন দ্বারা সম্পন্ন করা হয়।  বর্তমানে আপনি যে মোবাইল কিংবা ল্যাপটপ এর মাধ্যমে একটি ব্লগ পড়ছেন সে ব্লগটি পড়ার ক্ষেত্রে যে ইন্টারফেস দেখা যাচ্ছে, সে ওয়েবসাইটের ইন্টারফেসটিও ইউ আই / ইউ এক্স ডিজাইন করেছে। একজন ইউজারকে তার ইউজার এক্সপেরিয়েন্স বৃদ্ধির লক্ষ্যে উন্নত পরিষেবা প্রদান করায় এর মূল উদ্দেশ্য।  

অন্য যেকোনো প্রফেশনের তুলনায় একজন ইউআই ইউএস ডিজাইনারের প্রফেশন বেশ চ্যালেঞ্জিং হয়ে থাকে। এই সেক্টরে আপনাকে গৎবাঁধা কাজ করতে হয় না, বরং প্রতিনিয়ত চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়ে ক্রিয়েটিভিটির মাধ্যমে এগিয়ে যেতে হয়। এটা শুধুমাত্র একক কোন কাজ নয় বরং প্রতিনিয়ত ভিন্ন ভিন্ন ডিজাইনের মাধ্যমে গ্রাহকদের কাছে নতুন নতুন কাজ তুলে ধরতে হয়। 

ভিয়েতনামের একটি সার্কুলারে দেখা গেছে, একজন দক্ষ ইউ আই/ ইউ এস ডিজাইনারের মাসিক বেতন ১,৫০০ ডলার। যা বাংলাদেশি টাকায় দেড় লক্ষ টাকার বেশি। 

সাইবার সিকিউরিটি (Cyber Security)  

ডিজিটাল জগতে যে-সব কাজ কমান্ডের মাধ্যমে, তথ্যের এবং নেটওয়ার্কের নিরাপত্তা দিয়ে থাকে তাকে সাইবার সিকিউরিটি বলে। হ্যাকিং বা ম্যালওয়্যার অ্যাটাক থেকে বাঁচার জন্য যে-সব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়, সে বিষয়গুলো সাইবার সিকিউরিটির অন্তর্গত। 

হ্যাক বলতে আপনার সিস্টেম থেকে আপনার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য অন্য কেউ হাতিয়ে নেওয়াকে বুঝানো হয়েছে। সাইবার অ্যাটাক বিভিন্ন রকমের হয়ে থাকে। ইন্টারনেটের বিস্তার যত বাড়ছে হ্যাকিংও ততো বেশি হারে বাড়ছে। 

যেভাবে আপনার একাউন্ট হ্যাক হতে পারে-

Attack on Availability : 

হ্যাকার যখন আপনার অ্যাকাউন্ট হ্যাক করবে তখন সে আপনার অ্যাক্সেস অবরুদ্ধ করে নিজে অনুপ্রবেশ করবে। সেক্ষেত্রে আপনি যদি আপনার ফাইলের ব্যাকআপ না রাখেন তাহলে আর এক্সেস করতে পারবেন না। 

Malware : 

আপনারা অনেক সময় ভিন্ন ভিন্ন ওয়েবসাইটে ভিজিট করেন বা লিংকে প্রবেশ করেন। এগুলোর মাধ্যমে হ্যাকাররা আপনাদের জন্য জাল বিছিয়ে রাখে। আর সামান্য কিছু ভুলের কারণেই আপনারা ধরা খেয়ে যান। ম্যালওয়্যার দিয়ে সাধারণত অনেক হ্যাকাররাই ইন্টারনেটে ব্যবহৃত অ্যাপস বা লিংক দিয়ে তথ্য চুরি করে যাচ্ছে। 

ফিশিং : 

ফিশিং সম্পর্কে আপনারা কম বেশি সকলেই জানেন। যদি এর নাম নাও শুনে থাকেন, তবুও অজান্তেই আপনারা অনেকেই এর কবলে পড়েছেন। আপনারা ব্রাউজারের প্রবেশ করলে অনেক সময় কিছু সাইডে লগইন করতে বলে। এর মধ্যে কিছু সাইট হ্যাকাররা আপনাকে ফাঁদে ফেলার জন্য তৈরি করে। আপনি যদি সেই সাইডে লগইন করেন তাহলে হ্যাকার আপনার পার্সোনাল তথ্যগুলো সহজেই হাতিয়ে নিবে। 

এর পাশাপাশি হ্যাকাররা অনেক সময় বিভিন্ন জি-মেইল অ্যাকাউন্ট দিয়েও কিছু লিংক পাঠায়। হ্যাকারটি যে লিংকটি আপনাকে পাঠিয়েছে লিংকে ভিতর সে ভাইরাস সেট করে দেয়। আর অপেক্ষা করতে থাকে কখন কোন ব্যক্তি তার ফাঁদে পা দিবে। আর সেই লিঙ্কে ঢোকার পরপরই হ্যাকার আপনার সব তথ্য দিয়ে নিবে। এছাড়াও আরো অনেকভাবে হ্যাকিংয়ের কাজ করে থাকে হ্যাকাররা।  

বিভিন্ন পদে অভিজ্ঞতার তারতম্যের পরেও একজন সাইবার সিকিউরিটি বিশেষজ্ঞের বেতন ৬,৫০০–৮,৫০০ হাজার ডলার। যা বাংলাদেশি টাকায় ৬৫ হাজার থেকে ৮৫ হাজার টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে। 

একজন সাইবার সিকিউরিটি বিশেষজ্ঞ কোন বড় প্রতিষ্ঠানের হয়ে কাজ করতে পারে। সে যদি চায় ফ্রিল্যান্সিংও করতে পারে। পাশাপাশি সরকারি আইটি সেক্টরেও কাজ করতে পারবে। আধুনিক প্রযুক্তির বিশ্বে যে হারে প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বাড়ছে, একই হাড়ে প্রযুক্তির নির্ভরতাও দিনকে দিন বেড়েই চলেছে। এ কারণে একজন সাইবার সিকিউরিটি বিশেষজ্ঞের কাজের অফারের সম্ভাবনা আগামীতেও রয়েই যাচ্ছে। 

আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্ট এন্ড এন্ড মেশিন লার্নিং 

আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) এবং মেশিন লার্নিং আধুনিক কম্পিউটার বিজ্ঞানের একটি অংশ। এটি একে অপরের সাথে সম্পর্কিত। এই দুই প্রযুক্তি হলো সর্বাধিক ট্রেন্ডিং প্রযুক্তি। কৃত্রিম বুদ্ধিমান সিস্টেম তৈরিতে ব্যবহার করা হয়। এটি যদিও সম্পর্কিত প্রযুক্তি কিন্তু কখনো কখনো লোকেরা একে অপরের প্রতিশব্দ হিসেবে ব্যবহার করে থাকে। তবে এখনো উভয়ই ভিন্ন ক্ষেত্রে দুটি পৃথক পথ। 

এআই একটি বৃহত্তর ধারণা, যা কৃত্রিম বুদ্ধিমান মেশিন তৈরি করার জন্য ব্যবহৃত হয়। এটি মানুষের চিন্তা ভাবনা এবং আচরণের অনুকরণ করতে সক্ষম। অন্যদিকে মেশিন লার্নিং এআইয়ের একটি অ্যাপ্লিকেশন বা সাব-সেট, যা মেশিন গুলো-কে স্পষ্ট ভাবে প্রোগ্রাম না করেই সেটা থেকে তথ্য সংগ্রহ করে নেয়। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কম্পিউটার বিজ্ঞানের এমন একটি ক্ষেত্র, যা কম্পিউটার সিস্টেম তৈরি করে মানুষের বুদ্ধি অনুকরণ করতে সক্ষম। 

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবস্থায় প্রাক–প্রোগ্রামিং এর প্রয়োজন হয় না। এর পরিবর্তে তারা এক জাতীয় অ্যালগরিদম ব্যবহার করে যা তাদের নিজস্ব বুদ্ধি দিয়ে কাজ করতে সক্ষম। মেশিন লার্নিং অ্যালগরিদমের রি-ইনফোর্সমেন্ট লার্নিং অ্যালগরিদম এবং গভীর লার্নিং নিউরাল নেটওয়ার্ক জড়িত। আপেলের সিরি, গুগলের বার্ডস, চেটজিবিটি, গুগলের আলফাগো, দাবা খেলা ইত্যাদির মত একাধিক জায়গায় এ আই ব্যবহার হচ্ছে। 

এ আই কে দক্ষতার ভিত্তিতে তিনটি শ্রেণীবদ্ধ করা যেতে পারে: 

  1. দুর্বল এআই 
  2. জেনারেল এআই 
  3. শক্তিশালী এআই 

মেশিন লার্নিং অ্যালগরিদম কাজ করে, হিস্টিরিকাল ডেটা ব্যবহার করে। এটি কেবলমাত্র নির্দিষ্ট ডোমেনের জন্য কাজ করে। যেমন- আমরা যদি বিড়ালের ছবি শনাক্ত করার জন্য একটি মেশিন লার্নিং মডেল তৈরি করি তবে এটি কেবলমাত্র বিড়ালের ছবিগুলোর জন্য ফলাফল দেবে। কিন্তু আমরা যদি কুকুরের চিত্রের মত একটি নতুন ডেটা সরবরাহ করি তবে এটি প্রতিক্রিয়াহীন হয়ে যাবে। 

বর্তমানে যে হারে মানুষ এ আই এবং মেশিন লার্নিং ব্যবহার করছে ভবিষ্যতেও এ কাজগুলো আরো বৃদ্ধি পাবে। পাশাপাশি এর চাহিদা দিনকে দিন বাড়তেই থাকবে কেননা মানুষ নিজের জীবনকে সহজলভ্য করার জন্য এআই এবং মেশিন লার্নিং প্রযুক্তি গুলো প্রতিনিয়তই আপডেট করে কাজে লাগাবে। আগামীতে এআই এবং মেশিন লার্নিং মানুষের আধুনিক জীবনের একটি অংশ হয়ে উঠতে পারে। 

ভিডিও প্রোডাকশন এন্ড এডিটিং 

ভিডিও এডিটিং এমন একটি পেশা যা সৃজনশীলতার পাশাপাশি একটি উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ এর সুযোগ প্রদান করে।  এই কাজটিতে রয়েছে খ্যাতি মর্যাদা এবং পরিচিতি। অনেক আনন্দের একটি পেশা হলো ভিডিও এডিটিং। এখানে আপনি আপনার মত ক্রিয়েটিভ কাজ করতে পারবেন। তাছাড়া ভিডিও কনটেন্ট এর চাহিদা দিনকে দিন বেড়েই যাচ্ছে। এই সেক্টরে পর্যাপ্ত অভিজ্ঞ লোক না থাকায় দেশে এবং বিদেশের ভিডিও এডিটিং প্রফেশনালদের পদ। প্রতিনিয়তই মানুষ নতুন নতুন ভিডিও বা নতুন নতুন জায়গায় ভিডিও করে এটিকে সোশ্যাল মিডিয়ায় বা বিভিন্ন সাইডে দেয়াড় জন্য ভিডিওটিকে এডিট করার প্রয়োজনবোধ করে। কিন্তু সকলেই তো এডিট করতে পারে না, এর কারণেই একজন ভিডিও এডিটরের প্রয়োজন হয়। 

একজন ভিডিও এডিটর কোন ভিডিও ফুটেজকে পছন্দ মত এডিট করে একটি গল্পে ফুটিয়ে তোলে। স্মৃতি ধরে রাখার জন্য এবং কোন বিষয় বাস্তবের মত ফুটে তোলার জন্য ভিডিও অনেক কাজের একটি মাধ্যম। 

একজন ভিডিও এডিটর হতে গেলে আপনাকে এই জিনিসগুলোতে স্কিল ফুল হতে হবে— 

  1. ক্রিয়েটিভ হতে হবে 
  2. ধৈর্যশীল হতে হবে 
  3. এডিটিং সফটওয়্যার সম্পর্কে জানতে হবে 
  4. এডিটিং সিক্রেটস সম্পর্কে জানতে হবে 
  5. স্ক্রিপ্ট সম্পর্কে ধারণা থাকতে হবে 
  6. স্পেশাল ইফেক্ট জানতে হবে 
  7. প্রজেক্ট করতে হবে 
  8. আপটুডেট থাকতে হবে 

ভিডিও এডিটিং একটি গতিশীল ইন্ডাস্ট্রি যা সময়ের সাথে সাথে বেড়েই চলেছে। বর্তমানে youtube ফেসবুক টিক টক জাতীয় সোশ্যাল মিডিয়ার জন্য মানুষের নতুন নতুন কর্মক্ষেত্র সূচনা হচ্ছে। ভিডিও এডিটিং শেখার পর জুনিয়র তারপর সিনিয়র এডিটর হওয়া যায়। আপনার পারফরম্যান্সের মান যদি দিনে দিনে উন্নত হতে থাকে তবে খুব সহজেই হেড অফ ভিডিও এডিটর হওয়ার সম্ভবনা বাড়তে থাকবে। 

ভিডিও এডিটিং শিখলে আপনি অনলাইন এবং অফলাইনে প্রচুর কাজের সুযোগ পাবেন। ভিডিও এডিটিং একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্যারিয়ার চয়েজ হিসাবে প্রতিষ্ঠিত হয়ে আছে আপনার জন্য। 

ডিজিটাল প্রজেক্ট ম্যানেজার 

অনলাইনে প্রকল্প ব্যবস্থাপনা করতে ডিজিটাল সরঞ্জামগুলির উপর নির্ভর করতে হয়।  এটি একটি প্রকল্পের লাইফ লাইনের সকল পর্যায়কে সমর্থন করে। যেমন- পরিকল্পনা, বাস্তবায়ন, পর্যবেক্ষণ এবং সমাপ্তি। প্রকল্প পরিচালকদের সম্পাদন, বাজেট, বরাদ্দ, সময়সূচি, গুণগত মান এবং যোগাযোগের প্রত্যাবর্তন।  যা ভিডিও কনফারেন্সিংকে প্রকল্পের অগ্রগতির জন্য একটি মূল্যবান সম্পদ গড়ে তোলে। 

যে যত বেশি দক্ষ হবে এবং বায়ারকে কনভেন্স করার ক্ষমতা যত বেশি হবে সে তত দ্রুত সময়ে এখানে ভালো করতে পারবে। প্রকল্প পরিচালকদের মুখোমুখি অন্যের চ্যালেঞ্জ যা একটি প্রকল্পের অগ্রগতি এবং বৃদ্ধিকে ধীর গতিতে চালাতে পারে। 

প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট ভিডিও কনফারেন্সিং সফটওয়্যার আপনার প্রকল্প চালানোর জন্য একটি বড় হাতিয়ার হিসেবে কাজ করে। 

ডিজিটাল প্রজেক্ট ম্যানেজারের ক্যারিয়ার সুউচ্চ। সময়ের সাথে মানুষ যে পরিমাণ প্রযুক্তি নির্ভর হচ্ছে তাতে করে আগামী দিনগুলোতেও ডিজিটাল প্রজেক্ট ম্যানেজারের চাহিদা বৃদ্ধির পেতেই থাকবে। এরই সাথে প্রতিটি কোম্পানি বা সংস্থাগুলো তাদের কাজগুলোকে ডিজিটালাইজেশন করার ফলে এর চাহিদা থাকবে অনেক বেশি।  

ই–কমার্স এক্সপার্ট

ই কমার্স এর অর্থ হচ্ছে ইলেকট্রনিক কমার্স বা ইন্টারনেট বাণিজ্য। বর্তমান যুগ হচ্ছে তথ্য ও প্রযুক্তির যুগ, তথা ইন্টারনেট যুগ। ইন্টারনেটের কল্যাণে আমাদের এই বিশ্ব অনেক এগিয়েছে এবং আরো সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এই ইন্টারনেটের সংস্পর্শে থেকে কোন কিছুই আর বিচ্ছিন্ন নেই। ইন্টারনেট মানুষের সামনে খুলে দিয়েছে একটি মুক্ত ও স্বাধীন পৃথিবী। সবকিছুই মানুষ এখন খুব কাছে থেকে এমনকি ঘরে বসেই করতে পারছে। ব্যবসা-বাণিজ্য থেকে শুরু করে শিক্ষা তথ্য বিনোদন সবকিছু এখন যেকোনো সময় যেকোনো জায়গা থেকে পাওয়া যাচ্ছে। 

যে কোন ব্যবসার ক্ষেত্রে মার্কেটিং এবং প্ল্যানিং খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। সে ক্ষেত্রে ই-কমার্স টু যথেষ্ট সহায়তা করে থাকে। যেমন-  টার্গেট কাস্টমার, মার্কেট সাইজ, মার্কেট সেগমেন্টেশন, ইউনিক সেলস পয়েন্ট, মার্কেট এক্সপেরিয়েন্স প্ল্যান, কাস্টমার সার্ভিস প্ল্যান, মার্কেটিং এন্ড সেলস প্ল্যান, সোয়াট অ্যানালাইসিস ইত্যাদি। ব্যবসা পরিচালনা করার জন্য বিভিন্ন ডিপার্টমেন্টকে সমন্বয় করে কাজ করতে হয়। একজন ই-কমার্স এক্সপার্ট এই সকল বিষয়ে অনেক দক্ষ হয়ে থাকে। সে একটি ব্যবসাকে খুব সহজেই ভালো অবস্থায় নিয়ে যেতে সক্ষম। 

বর্তমানে অনলাইন বিজনেস যে হার বৃদ্ধি পাচ্ছে সে ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে ই-কমার্স এক্সপার্ট এর চাহিদা বাড়তেই থাকবে। আগামীতে একজন ই-কমার্স এক্সপার্ট বিভিন্ন সেক্টরে কাজ করতে পারবে। সে চাইলে ফ্রিল্যান্সিং করতে পারবে, কোন প্রতিষ্ঠানের হয়ে কাজ করতে পারবে, নিজেই অনলাইন বিজনেস করতে পারবে। আগামীতে একজন ই-কমার্স এক্সপার্টের ডিমান্ড থাকবে অনেক বেশি। 

কনটেন্ট ক্রিয়েশন এন্ড কপিরাইটিং  

কপি-রাইটিং মার্কেটিং এর গুরুত্বপূর্ণ এবং জটিল একটি বিষয়। মূল বিষয়টি হচ্ছে কাউকে কিছু বুঝিয়ে কোন জিনিস কিনে নেওয়ার মতো একটা ব্যাপার। বাস্তব জীবনে আমরা আমাদের চারপাশে এই ধরনের ঘটনা সচরাচর দেখতে পাই। সহজ ভাষায় বলতে গেলে, আমাদের বন্ধুদের থেকে কোন জিনিসের সুনাম শুনে ঐ পণ্য কিনে নেওয়ার মতো। 

কপি-রাইটিং ছাড়া কোন ব্যবসায়ী তার ব্যবসার কোন মেসেজ পাঠাতে পারবেনা তার কাস্টমারদের কাছে। যেমন- তেমন মেসেজ পাঠালে সম্ভাব্য ক্রেতারা আকৃষ্ট হবে না, তার ব্যবসার প্রতি। তাই সকল বিজনেস ইন্ডাস্ট্রিজতে কপি-রাইটাদের প্রয়োজন হয়। অন্তত পক্ষে, আকর্ষণীয় করে মেসেজ পাঠানোর জন্য হলেও কপিরাইটারদের প্রয়োজন হয়। 

একজন কপিরাইটের হতে হলে ইংরেজি, অ্যাডভার্টাইজিং, মার্কেটিং  অথবা জার্নালিজম বিষয় ব্যাচেলার ডিগ্রি থাকতে হবে। বর্তমান সময়ের ফ্রিল্যান্সারদের অনেক চাহিদা থাকায় অনেকে ফ্রিল্যান্সিং করে থাকে। 

একজন কপিরাইটার প্রতিমাসে ৩৫০০ ডলার থেকে ৭৩০০ ডলারের মত আয় করে থাকেন। এটি ২০১৯ সালের পে-স্কেল ডটকম ওয়েবসাইটের জরিপ থেকে জানা যায়। 

একজন ফ্রিল্যান্সার হিসেবে আপনি উপরিউক্ত স্কিলগুলো শিখে নিজের ক্যারিয়ার শুরু করতে পারেন। ভবিষ্যতে এই কাজগুলোর চাহিদা এবং এর পারিশ্রমিক বৃদ্ধি পেতেই থাকবে। তাই আপনি চাইলে এই স্কিলগুলোর যেকোনো একটি শিখে কাজ করতে পারেন।

আরো দেখুন – বাঙালিদের রান্নায় পেঁয়াজ কেন এত জনপ্রিয়

Onion: পেঁয়াজ কাটতে গেলে, কেন কাঁদতে হয়?

0

আপনি পেঁয়াজ কাটতে গিয়ে কাঁদেননি এমনটা হতেই পারেনা। যদি কেটে থাকেন তাহলে নিশ্চয়ই জানেন, পেঁয়াজ কাটার সময় সালফারযুক্ত এক প্রকার ঝাঁঝালো গ্যাসের কারনে চোখে পানি আসে। এমন কেউ নেই যার এই অভিজ্ঞতা হয়নি। কিন্তু কেন এমনটা হয়, তা কি কখনও ভেবে দেখেছেন?

আমরা যখন পেঁয়াজ কাটি, তখন পেঁয়াজ থেকে সালফারযুক্ত এক ধরনের গ্যাস নির্গত হয়। এই সালফারযুক্ত গ্যাস আমাদের চোখের কোষগুলোকে বিরক্ত করে। যার ফলে, চোখ গ্যাসটি পরিষ্কার করতে বা নিজেকে রক্ষা করতে পানি তৈরি করে। আর এই কারণেই আমাদের চোখে পানি চলে আসে বা ঝরে। 

আমাদের শরীরে যেমন কোষ থাকে, পেঁয়াজেও তেমনি কোষ থাকে। এই ছোট ছোট কোষগুলোর প্রতিটিতে আবার ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কোটর থাকে। এগুলোতে আবার এনজাইম নামক এক ধরনের উপাদান থাকে। এই  এনজাইমের প্রভাবে রাসায়নিক বিক্রিয়া হয়। তবে পেঁয়াজের এই এনজাইম এমনিতে অনেক উপকারী উপাদান। গাছ-পালা বা পশু-পাখি যাই হোক, এনজাইম তো থাকবেই। 

পেঁয়াজে এনজাইম ছাড়াও আরেকটি রাসায়নিক যৌগ বা উপাদান আছে। সেই রাসায়নিক যৌগটি হলো সালফোক্সাইড। পেঁয়াজ কাটলে কোষগুলো উন্মুক্ত হয়ে পড়ে। এতে করে ভেতরে থাকা এনজাইম বেরিয়ে সালফোক্সাইডের সঙ্গে বিক্রিয়া করে। ফলে সালফেনিক অ্যাসিড উৎপন্ন হয়। অ্যাসিডটি একাধারে বেশ কিছু বিক্রিয়া ঘটানোর ফলে শেষে তৈরি হয় পিটিএসও বা প্রোপেনেথিয়াল এস-অক্সাইড। খটমটে নামের এই যৌগ বা উপাদানটি বাতাসের চেয়েও হালকা। এই যৌগ বা উপাদানটি তৈরি হওয়া মাত্রই উড়ে যায়। 

পেঁয়াজ কাটার সময় আমাদের চোখ ঠিক পেঁয়াজের ওপরে থাকার কারণে সিন-প্রোপেনেথিয়াল এস-অক্সাইড উড়ে গিয়ে সরাসরি চোখে পড়ে। আর চোখের পানির সঙ্গে আবারও বিক্রিয়া হয় এবং সালফিউরিক অ্যাসিড উৎপন্ন হয়। 

সালফিউরিক অ্যাসিড যে আমাদের জন্য বিপজ্জনক, তা কিন্তু মস্তিষ্ক ঠিকই বুঝতে পারে। তাইতো মস্তিষ্ক সঙ্গে সঙ্গে চোখের গ্রন্থিগুলোকে নির্দেশ দেয়, যত দ্রুত পারো ঝেঁটিয়ে বিদায় করো! আর তারপরই চোখ থেকে পানি বেরিয়ে ধুয়ে ফেলে সালফিউরিক অ্যাসিড। এই হলো আসল রহস্য।

পেঁয়াজ থেকে পিটিএসও কেন নিঃসরণ হয়?

পেঁয়াজ নিজেকে নিরাপদ রাখার কৌশল হিসেবে পিটিএসও নিঃসরণ করে। পেঁয়াজের বাল্বগুলো মাটির নিচে জন্মায়। এই কারণে পেঁয়াজ খুব সহজে যেকোনো ছোট প্রাণীর শিকার হতে পারে। তাই পেঁয়াজ আত্মরক্ষার একটি কৌশল হিসাবে পিটিএসও ব্যবহার করে।

Onion under soil
তাহলে কীভাবে আমরা পেঁয়াজ কাটার সময় চোখের পানি আসা এড়াতে পারি? 
উপায়গুলো তুলে ধরা হলো–    

১. আপনি চাইলে আঁটোসাঁটো ডাইভিং মাস্ক বা সানগ্লাস ব্যবহার করতে পারেন।

২. পেঁয়াজের কাটার আগে পেঁয়াজের খোসা ছাড়িয়ে নিতে পারেন। এরপর ৩০ মিনিটের জন্য ফ্রিজে রাখে তারপর কাটতে পারেন। এতে করে চোখে পানি আসা কমে যেতে পারে। 

৩. পেঁয়াজ কাটার সময় আপনি পাউরুটি দাঁতে চেপে মুখের সামনে ধরে রাখতে পারেন। এতে করে পেঁয়াজ থেকে নির্গত হওয়া সকল গ্যাস রুটিটি শুষে নেয়।  

৪. এছাড়াও পেঁয়াজের খোসা ছাড়িয়ে যদি বেশ কিছু সময় পানিতে ভিজে রেখে কাটা যায়, তাতে করে চোখে পানি আসা অনেকটা কমে যেতে পারে। 

Onion in water

চোখে পানি কম বা বেশি যাই ঝরুক, এতে কিন্তু পেঁয়াজ খাওয়া থেমে থাকবে না।

পেঁয়াজের উপকারিতা এবং গুণাগুণ অনেক। তাছাড়া পেঁয়াজে রয়েছে- ভিটামিন বি, ভিটামিন সি, ফোলেট, বি৬– ভিটামিন এবং পটাশিয়াম। যা আমাদের শরীরের জন্য খুবই উপকারী।

তবে একটা বিষয় মাথায় রাখবেন, যে খাবারে পেঁয়াজ ব্যবহার করবেন তাতে তেল বা মসলা একটু কম দেয়ার চেষ্টা করবেন। এতে করে পেঁয়াজের সব গুণাগুণ অটুট থাকবে। 

আরো দেখুন – বাঙালিদের রান্নায় পেঁয়াজ কেন এত জনপ্রিয়

Eucalyptus: ইউক্যালিপটাস পরিবেশের জন্য কতটা ক্ষতিকর?

0

বর্তমানে বাংলাদেশে গাছ লাগানোর হেরিক পড়ে গেছে। দামে কম হওয়ার কারণে অনেকেই ইউক্যালিপটাস গাছ লাগান। শহর বা গ্রামে, পথেঘাটে কিংবা যেকোনো ফাঁকা জায়গায় বা চাষের জমিতে চোখ পড়ে এই গাছটি। গাছটি লাগিয়ে আমরা অজান্তেই পরিবেশের ক্ষতি করছি নাতো?

চলুন তাহলে জেনে নেয়া যাক এ গাছটি আমাদের পরিবেশের জন্য কতটা ক্ষতিকর?

ইউক্যালিপটাস ডালপালার দিক থেকে বিস্তার না ছড়ালেও, মূল কিন্তু প্রায় ১৫ মিটার গভীর পর্যন্ত হয়ে থাকে। পানি ও খনিজ লবণ শোষণ ছাড়াও অতিরিক্ত পানি শুষে ডাল পালায় জমা রাখে। ফলে যে জায়গায় গাছটি লাগানো হয় সেই স্থানটি হয়ে পড়ে পানি শূন্য ও শুষ্ক। জমির উর্বরতা শক্তিও কমে যায়।

শুধু তাই নয়, পানির স্তর নিচে নেমে গিয়ে অন্য প্রজাতির গাছের স্বাভাবিকতা নষ্ট করে ফেলে। এর ফলে পরিবেশ হুমকির মুখে পড়ে যায়। 

দেশের উত্তর অঞ্চলে ইউক্যালিপটাস গাছ লাগানো হার বেশি। বিশেষজ্ঞদের মতে এসব কারনেই উত্তর জনপদের মাটি তুলনামূলক শুষ্ক হয়ে যাচ্ছে। তাছাড়া মাটির আদ্রতা কমায় বিভিন্ন রকম উপকারী কীট-পতঙ্গ হ্রাস পাচ্ছে ফলে উর্বরতা হারাচ্ছে জমি। ফলে ধীরে ধীরে তা মরুময় অঞ্চলে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

সাধারনত কৃষি জমির অইলে ও বাড়ির পাশের ফাঁকা জায়গায় মানুষ এই কাজটি লাগিয়ে থাকে। গাছটি উপকারের পরিবর্তে ক্ষতিই বেশি করে। ইউক্যালিপটাসের ডালপালা ও পাতা জমিতে পরলে জৈব সারের পরিবর্তে অজৈব রাসায়নিক পদার্থের মত কাজ করে। যার ফলে জমিকে অনুর্বর করে তোলে। গাছটির ডাল ও পাতা রাসায়নিক এর মত কাজ করার কারণ হলো এই গাছের ডালপালাতে দাহ্য জাতীয় উপকরণ বিদ্যমান। এর ফলে ফসলের উৎপাদন কমে যায়। 

এই গাছটিতে অধিক পরিমাণে তেল থাকায় এটা বেশ দাহ্য স্বভাবের হয়ে থাকে। অস্ট্রেলিয়াতে ইউক্যালিপটাস গাছটিকে অগ্নি সৃষ্টিকারী হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। তাই অস্ট্রেলিয়ানরা আবাসিক এলাকা বা ঘরবাড়ি আছে এমন জায়গায় এই গাছ থাকলে কেটে ফেলেন। তবে সেখানেও সড়কের ধারে সারিবদ্ধ ভাবে এ গাছটি লাগানো হয়।

বর্তমানে বিশ্বে প্রায় ৭০০ প্রজাতির ইউক্যালিপটাস পাওয়া যায়। পাপুয়া নিউ গিনি ও ইন্দোনেশিয়া পর্যন্ত এর বিস্তার রয়েছে প্রাকৃতিকভাবেই। সারা বিশ্বেই ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে এর মাত্র ১৫ টি প্রজাতি।

দ্রুতবর্ধনশীলতা এবং অভিযোজন ক্ষমতার কারণে এটি অনেক বেশি জনপ্রিয়তা পেয়েছে। এই গাছটি তার আশেপাশের প্রায় ১০ ফুট এলাকার ও ভূগর্ভের প্রায় ৫০ ফুট নিচের পানি শোষণ করে আকাশে উড়িয়ে দেয়। গাছটি দিনরাত ২৪ ঘণ্টায় পানি শোষণ করে আর বাতাসে ছড়াতে থাকে। মৌসুমি জলবায়ু যুক্ত পরিবেশের জন্যও অনেক ক্ষতিকর এই গাছ । আশেপাশে অন্য কোন প্রজাতির গাছ ভালোভাবে জন্মাতে পারেনা কারণ এর পাতায় প্রচুর টক্সিন থাকে যা গাছের গোড়ায় পড়ে আশেপাশের মাটিকেও বিষাক্ত করে ফেলে। 

ইউক্যালিপটাসের ক্ষতিকর দিক বেশি থাকলেও এর কিছু উপকারও আছে বটে। তবে তা খুবই সামান্য। তাহলে আমরা এই গাছটির উপকারগুলো একটু জেনে নেই-

উপকারিতা 

  • ইউক্যালিপটাস গাছের পাতায় যে টক্সিন থাকে তা হতে মশা বা বিভিন্ন কীটপতঙ্গ ধ্বংস হয়। 
  • এই গাছটি দ্রুত বর্ধনশীল। 
  • বিভিন্ন দেশে ঘরবাড়ি তৈরিতে কাঠ হিসেবে ব্যবহার করা হয়। 
  • তাছাড়া এই গাছের কাঠে ঘুনপোকা ধরে না।

ইউক্যালিপটাস গাছের অপকারিতা:

  • অতিরিক্ত পানি শোষণ:
  • একটি ইউক্যালিপটাস গাছ প্রতিদিন বহু লিটার পানি শোষণ করে।
  • এর ফলে মাটির আর্দ্রতা কমে যায় এবং ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যায়।
  • জীববৈচিত্র্য হ্রাস:
  • ইউক্যালিপটাস একটি এলোপ্যাথিক গাছ, অর্থাৎ এটি আশেপাশের অন্য গাছপালার বৃদ্ধিতে বাধা দেয়।
  • এতে করে বিভিন্ন গাছ, ঘাস ও প্রাণীর আবাসস্থল ধ্বংস হয়।
  • মাটির গুণমান নষ্ট করে:
  • ইউক্যালিপটাস প্রচুর পুষ্টি শোষণ করে নেয়, ফলে জমি অনুর্বর হয়ে পড়ে।
  • মাটির নিচে অন্যান্য উদ্ভিদ জন্মানো কঠিন হয়ে যায়।
  • আগুন লাগার ঝুঁকি বেশি:
  • এই গাছের পাতা ও ছালে থাকা প্রাকৃতিক তেল অত্যন্ত দাহ্য।
  • ফলে শুষ্ক মৌসুমে অগ্নিকাণ্ডের আশঙ্কা বেড়ে যায়।
  • বনায়নে একঘেয়েমি সৃষ্টি:
  • ইউক্যালিপটাস যেখানে চাষ করা হয়, সেখানে অন্য গাছ টিকে থাকতে পারে না।
  • এতে করে একজাতীয় গাছের একঘেয়ে বন তৈরি হয়, যা পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর।
  • স্থানীয় প্রজাতির গাছকে প্রতিস্থাপন করে:
  • এটি বিদেশি গাছ হওয়ায় দেশীয় গাছপালা ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
  • পোকামাকড় ও প্রাণীর জন্য উপযোগী নয়:
  • এর পাতায় থাকা রাসায়নিক ও গন্ধ অনেক পোকা-মাকড় ও পাখির জন্য প্রতিকূল।

উপকারের থেকে যেহেতু এই গাছের ক্ষতিকর দিকই বেশি, আর আমাদের পরিবেশের জন্য ঝুঁকি স্বরূপ সেহেতেু এ গাছটি না লাগিয়ে দেশীয় পরিবেশের জন্য উপকারী গাছ  নির্বাচন করা উচিত।  ফলে পরিবেশ যেমন বাঁচবে, তেমনি ইকোলজিক্যাল ভারসাম্য বজায় থাকবে।

আরো দেখুন
আসলেই কি কাসাভা আটা বা ময়দার বিকল্প হতে পারে?

Khatian: বিভিন্ন ধরনের খতিয়ান চেনায় উপায়

0

খতিয়ান কি?

খতিয়ান হলো সরকারের খাজনা আদায়ের মাধ্যম। কার কাছে কতটুকু সম্পত্তি রয়েছে, ভূমির ধরণ বা প্রকৃতি কেমন, কার কাছে কতটুকু খাজনা পাবে তার সবকিছুই সরকার খতিয়ান দেখে জেনে নেয়।

খতিয়ান হলো ভূমির মালিকানার আইনি রেকর্ড, যা ভূমি জরিপের মাধ্যমে প্রস্তুত করা হয়। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ নথি যা ভূমির প্রকৃত মালিকানা নির্ধারণ করতে সাহায্য করে এবং আইনি সুরক্ষা প্রদান করে। বাংলাদেশে খতিয়ান ভূমি ব্যবস্থাপনার অন্যতম মৌলিক নথি হিসেবে গণ্য করা হয়।

খতিয়ান একটি ফারসি শব্দ, যার অর্থ “হিসাব”, এবং এটি জমি চিহ্নিত করার জন্য একটি দলিল। ভূমি মন্ত্রণালয় অনুযায়ী, এটি জরিপের মাধ্যমে প্রস্তুত হয় দখল, মালিকানা নির্ধারণ, এবং ভূমি উন্নয়ন কর মূল্যায়নের জন্য। এটি রেকর্ড অফ রাইটস, সোত্তলিপি, বা পোরচা হিসেবেও পরিচিত, তবে এটি মালিকানার দলিল নয়, বরং দখলের অধিকারের রেকর্ড। বেঙ্গল টেনেন্সি অ্যাক্ট, ১৮৮৫ এবং স্টেট অ্যাকুইজিশন অ্যান্ড টেনেন্সি অ্যাক্ট, ১৯৫০ এর অধীনে এটি গুরুত্বপূর্ণ।

খতিয়ান দুই ধরনের হয়। যথা- 

ক) রেকর্ডিং বা জরিপ খতিয়ান
খ) নামজারি খতিয়ান।

১. রেকর্ডিং ও জরিপ খতিয়ানের প্রকারভেদ- CS, SA, RS, BS 

▶ CS (ক্যাডাস্ট্রাল সার্ভে) খতিয়ান

ভারত উপমহাদেশের সর্বপ্রথম জরিপ খতিয়ান হলো CS খতিয়ান। ১৮৮৯- ১৯৪০ সাল পর্যন্ত এই জরিপটি হয়েছে করা হয়েছিল। 

CS খতিয়ান চেনার উপায়

এই খতিয়ানে দুটি পাঠ বা বিবরণী রয়েছে। উপরের পাঠটিতে সেই সময়ে জমিদার বা মালিকানার বিবরণ থাকবে আর নিচে প্রজা বা দখলদারদের বিবরণ থাকবে। তাছাড়া দুই পৃষ্ঠা মিলে CS খতিয়ান হয়ে থাকে। এবং আন্ডারলাইনগুলো লম্বালম্বিভাবে থাকবে। তাছাড়া এই খতিয়ানের উপরের অংশে পরগনা কথাটি লেখা থাকবে। এই খতিয়ান ৪০-এর রেকর্ড নামেও পরিচিত। 

▶ SA (সাট পর্চা) খতিয়ান

১৯৪৭ সালে পাকিস্তানি সরকার ক্ষমতায় আসলে জমিদারি প্রথা বিলুপ্তির হয়ে যায়। পরে ১৯৫৬ সাল হতে ১৯৬২ সাল পর্যন্ত পাকিস্তানি সরকার SA জরিপটি করে। এটিকে অনেক জায়গায় ৬২-এর রেকর্ড নামেও পরিচিত।

SA খতিয়ান চেনার উপায়

SA খতিয়ানের সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো খতিয়ানের বামপাশের একদম উপরে সাবেক এবং নিচে হাল লেখা থাকবে। সাবেক বরাবর ডানপাশে CS খতিয়ানের রেফারেন্স এবং হাল বরাবর ডানপাশে SA খতিয়ানের নাম্বার থাকবে। তাছাড়া SA খতিয়ান সবসময় এক পৃষ্ঠার হয়ে থাকে।

▶ RS (রিভিশনাল সেটেলমেন্ট) খতিয়ান 

এটি হলো বাংলাদেশের সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ খতিয়ান। কেননা, বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পরেই সরকার এই খতিয়ান তৈরি করেন। স্বাধীনতার পর থেকে ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত এ খতিয়ান কার্যকর ছিল।

RS খতিয়ান চেনার উপায়

RS খতিয়ান এখন অনেক জায়গায় প্রিন্টেট হয়। আর যদি প্রিন্টেট হয়, তাহলে উপরে স্পষ্ট করে RS খতিয়ান লেখা থাকবে। এটিও  CS খতিয়ানের মত দুই পৃষ্ঠা মিলে হবে এবং আন্ডারলাইনগুলো লম্বালম্বিভাবে থাকবে। তবে এই খতিয়ান চেনার এর একটি উপায় হলো ডানপাশে উপরে রেসার্ভে নং দিয়ে একটা নাম্বার থাকবে।

▶ BS (বাংলাদেশ সেটেলমেন্ট) খতিয়ান 

এই খতিয়ান চেনা খুবই সহজ। এটিকে সিটি জরিপ খতিয়ানও বলা হয়। তবে ঢাকার বাহিরে BS খতিয়ান নামে পরিচিত। এটি ১৯৯৯/২০০০ সাল থেকে বর্তমান সাল পর্যন্ত চালু রয়েছে। 

BS খতিয়ান চেনার উপায়

এই খতিয়ান অবশ্যই প্রিন্টেট হবে। এ খতিয়ানে যত লেখা থাকবে সবই প্রিন্টেট হবে। এবং উপরে স্পষ্ট সীল দিয়ে লেথা থাকবে ঢাকা  সিটি জরিপ লেখা থাকবে। ঢাকার বাহিরে হলে BS খতিয়ান লেখা থাকবে। অনেকে আবার এটিকে BRS বলে থাকেন। এটি নাকি RS খতিয়ানের পরে হয়েছিল। তবে মনে রাখতে হবে এটি অবশ্যই প্রিন্টেট এবং  সব লেখাই প্রিন্টেট হবে। আর ঢাকার ভিতরে হলে সীল দেয়া থাকবে। তাছাড়া প্রিন্টেটের তারিখটা অবশ্যই ২০০০ সালের পরে হবে।

▶ ডি এস খতিয়ান:
নতুন চর ভূমি অন্তর্ভুক্তি সংক্রান্ত, যা নদী ভাঙন ও জমির পরিবর্তন নির্দেশ করে।
চরাঞ্চলের ভূমি সংক্রান্ত মামলা বা বিরোধে বেশি ব্যবহৃত হয়।

▶ সিটি জরিপ:
ডিজিটাল পদ্ধতিতে সংরক্ষিত, মহানগর এলাকায় ব্যবহৃত।
ভূমির বর্তমান অবস্থা ও মালিকানার আপডেটেড রেকর্ড থাকে।

২. নামজারি খতিয়ান

এই খতিয়ান চেনার সহজ উপায় হলো খতিয়ানের ডানপাশে কেস নং দেয়া থাকবে এবং তার উপরে জোত নং দেয়া থাকবে। এক পৃষ্ঠায় হয় এবং এটিও লম্বালম্বিভাবে দাঁড়ি টানা তাকে।

খতিয়ানে অন্তর্ভূক্ত বিষয়সূমহ

খতিয়ানে কি কি বিষয় অন্তর্ভূক্ত করতে হবে সে সম্পর্কে রাষ্ট্রীয় অর্জন বিধিমালার ১৮ নম্বর বিধিতে বিবৃত করা হয়েছে। এ বিধি অনুযায়ী নিম্ন লিখিত বিবরণসূমহ অন্তর্ভূক্ত করতে হবে।

১. খতিয়ানে অবশ্যই প্রজা বা খলদারের নাম, পিতার নাম ও ঠিকানা।
২. প্রজা বা দখলদার কোন শ্রেণীর অন্তর্ভূক্ত।
৩. প্রজা বা দখলদার কতৃক অধিকৃত জমির অবস্থান শ্রেণী, পরিমান ও সীমানা।
৪. প্রজার জমির মালিকের নাম, পিতার নাম ও ঠিকানা
৫. এষ্টেটের মালিকের নাম, পিতার নাম ও ঠিকানা।
৬. খতিয়ান প্রস্তুতের সময় খাজনা এবং ২৮,২৯,৩০ বিধি মোতাবেক নির্ধারিত খাজনা।
৭. গোচরণ, ভূমি, বনভূমি ও মৎস্য খামারের জন্য ধারণকৃত অর্থ।
৮. যে পদ্ধতিতে খাজনা ধার্য করা হয়েছে তার বিবরণ।
৯. যদি খাজনা ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পেতে থাকে তাহলে যে সময়ে ও যে পদক্ষেপে বৃদ্ধি পায় তার বিবরণ।
১০. কৃষি কাজের উদ্দেশ্যে প্রজা কতৃক পানির ব্যবহার এবং পানি সরবরাহের জন্য যন্ত্রপাতি সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণ সম্পর্কিত প্রজা ও জমির মালিকের মধ্যে অধিকার ও কর্তব্যের বিবরণ।
১১. প্রজাস্বত্ব সম্পর্কিত বিশেষ শর্ত ও তার পরিণতি।
১২. পথ চলার অধিকার ও জমি সংলগ্ন অনান্য ইজমেন্টের অধিকার।
১৩. নিস্কর জমি তার বিবরণ।
১৪. ২৬ নং ধারা অনুযায়ী নির্ধারিত ও ন্যায়সঙ্গত খাজনা।

এছাড়া একটি খতিয়ানে তার নিজস্ব খতিয়ান নম্বর, দাগ নম্বর, বাট্টা নম্বর, এরিয়া নম্বর, মৌজা নম্বর ও জে এল নম্বর থাকে।

এছাড়া অনলাইনের মাধ্যমে খতিয়ান পেতে ভিজিট করুন https://dlrms.land.gov.bd/

এক নজরে

প্রকারবর্ণনা
সি.এস. খতিয়ানব্রিটিশ সরকার কর্তৃক ১৮৮৮ থেকে ১৯৪০ সাল পর্যন্ত প্রস্তুত, প্রথম জরিপের ফলাফল।
এস.এ. খতিয়ান১৯৫০-এর পর প্রস্তুত, রাজ্য অধিগ্রহণ ও দখল আইনের পর, কিছু এলাকায় আর.এস. হিসেবেও পরিচিত।
আর.এস. খতিয়ানসংশোধনী জরিপ, এস.এ. খতিয়ানের ভুল সংশোধনের জন্য, কিছু এলাকায় বি.এস. হিসেবেও পরিচিত।
বি.এস. খতিয়ান/সিটি জরিপ১৯৯৮-৯৯ থেকে চলমান, শহরী এলাকার জন্য বিশেষভাবে প্রস্তুত।

খতিয়ানের গুরুত্ব:

খতিয়ান ভূমি ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এর কিছু মূল গুরুত্ব নিম্নরূপ:

ক) ভূমির মালিকানা নিশ্চিতকরণ:

  • খতিয়ানের মাধ্যমে ভূমির প্রকৃত মালিক চিহ্নিত করা যায়।
  • এটি ভূমি মালিকদের জন্য একটি বৈধ মালিকানার প্রমাণ হিসেবে কাজ করে।

খ) আইনি সুরক্ষা:

  • ভূমি সংক্রান্ত বিরোধ এড়াতে ও আদালতে উপস্থাপনের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল।
  • ভূমি দখল বা অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিতে সাহায্য করে।

গ) ভূমি কর নির্ধারণ:

  • সরকার ভূমি কর আদায়ের জন্য খতিয়ানের তথ্য ব্যবহার করে।
  • ভূমির প্রকৃত পরিমাণ এবং ব্যবহার অনুযায়ী কর নির্ধারণ করা হয়।

ঘ) ভূমি হস্তান্তর ও ক্রয়-বিক্রয়:

  • ভূমি বিক্রি, দান বা হস্তান্তরের ক্ষেত্রে খতিয়ানের তথ্য অপরিহার্য।
  • নির্ভরযোগ্য খতিয়ান না থাকলে জমির লেনদেন আইনি জটিলতার সম্মুখীন হতে পারে।

ঙ) উন্নয়ন পরিকল্পনা:

  • সরকার ও স্থানীয় প্রশাসন ভূমি পরিকল্পনার জন্য খতিয়ানের তথ্য ব্যবহার করে।
  • শহর ও গ্রামীণ উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে এটি সহায়ক।

চ) ঋণ গ্রহণের জন্য সহায়ক:

  • ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে কৃষি বা হাউজিং ঋণ নেওয়ার ক্ষেত্রে খতিয়ান প্রয়োজন।
  • এটি ভূমির আইনি বৈধতা নিশ্চিত করে, যা ঋণ অনুমোদনের ক্ষেত্রে সহায়ক।

ছ) ভূমি সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা:

  • ভূমি রেকর্ড সংরক্ষণে খতিয়ান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
  • সরকারি ও ব্যক্তিগত ভূমির ব্যবস্থাপনা সঠিকভাবে সম্পাদন করা সম্ভব হয়।

জ) উত্তরাধিকার ও জমির বণ্টন:

  • জমির উত্তরাধিকার নির্ধারণে খতিয়ান একটি নির্ভরযোগ্য নথি।
  • পারিবারিক বা উত্তরাধিকার সংক্রান্ত বিরোধ নিরসনে এটি সহায়তা করে।

বাংলাদেশের ভূমি ব্যবস্থাপনায় খতিয়ান একটি গুরুত্বপূর্ণ নথি যা মালিকানা নির্ধারণ, বিরোধ নিষ্পত্তি, ভূমি কর আদায় এবং উন্নয়ন পরিকল্পনার জন্য ব্যবহৃত হয়। বিভিন্ন সময় ভূমি জরিপের মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের খতিয়ান তৈরি হয়েছে, যা বর্তমানে ভূমি মালিকদের আইনি অধিকার সংরক্ষণে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।

সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

অনলাইনে কি জমির খতিয়ান দেখা যায়?

হ্যাঁ। সরকারি ভূমি রেকর্ড ও ম্যাপ সেবায় সংশ্লিষ্ট রেকর্ড উপলব্ধ থাকলে অনলাইনে অনুসন্ধান করা যায়।

খতিয়ান ডাউনলোড ও সার্টিফাইড কপি কি একই?

না। অনলাইন কপি ও সার্টিফাইড কপি এক বিষয় নয়। কোনো কাজে প্রত্যয়িত নথি প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট সরকারি সেবার নির্দেশনা অনুসরণ করুন।

শুধু খতিয়ান দেখেই কি জমির মালিকানা নিশ্চিত হওয়া যায়?

না। জমির মালিকানা যাচাই করতে খতিয়ানের পাশাপাশি দলিল, নামজারি, সংশ্লিষ্ট রেকর্ড এবং প্রয়োজনীয় অন্যান্য নথি পরীক্ষা করা উচিত।

খতিয়ান অনুসন্ধান করতে সমস্যা হলে কী করব?

সরকারি পোর্টালের নির্দেশনা দেখুন। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিস অথবা সরকারি ভূমিসেবা সহায়তার সঙ্গে যোগাযোগ করুন।

দ্রষ্টব্য: এই পেজটি সাধারণ তথ্য ও নির্দেশনার জন্য। সরকারি সেবার নিয়ম, ফি ও আবেদনপ্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে সর্বশেষ সরকারি নির্দেশনাই অনুসরণযোগ্য।

Green Coconut: ডাব নিয়ে এতো মাতামাতি, কতটুকু জানেন এর সম্পর্কে?

গরম পড়লেই আমাদের মাথায় পরিচিত এক ফলের নাম চলে আসে। তা হলো ডাব (Green Coconut)। তীব্র গরমে ডাব যেন শরীর ঠান্ডা রাখার অন্যতম উপায়। তবে, গরম পরলেই ডাবের যেমন কদরবারে ঠিক তেমনি এই ফলকে নিয়েই বাজারে উত্তাপ হয়ে ওঠে। দিনে দিনে যেভাবে পৃথিবীর উষ্ণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে, ডাবের দাম কোথায় গিয়ে ঠেকবে সেটা বলাই বাহুল্য।

যাই হোক, গরমেই সাধারণত আমাদের দেশে ডাবের পানি বেশি খাওয়া হয়। সেজন্য আবার ভাববেন না, শীতের দিনে এটি উপকার করে না। শীত বা গরম, সবসময়ে ডাবের পানি শরীরের জন্য সমান উপকার করে। তবে মনে রাখা ভালো, কচি ডাবের পানি শরীরের জন্য উপকারী ।

পুষ্টিগুণ

কথায় আছে নারকেল বা ডাব গাছ জীবনদায়ী বৃক্ষ। ডাবের পানি পুষ্টিগুণে ভরপুর। এতে আছে জলীয় অংশ, খনিজ পদার্থ, আমিষ, শর্করা, ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, সোডিয়াম, চর্বি, ভিটামিন বি, ফসফরাস, ভিটামিন বি২, আয়রন, ভিটামিন সি ও খাদ্যশক্তি ২৩ কিলোক্যালরি।

ডাবের পানি যেহেতু একটি পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ পানীয়। সেহেতু এটা আমাদের কি কি উপকার করে থাকে তার বিস্তারিত জেনে নেই।

উপকারিতা (Benefits of Green Coconut)

১.পটাশিয়াম ও ক্যালসিয়ামের ঘাটতি পূরণে

ডাবের পানিতে রয়েছে যথেষ্ট পরিমাণে পটাশিয়াম ও ক্যালসিয়াম। তাই শরীরে এসব উপাদানের ঘাটতি দেখা দিলে ডাবের পানি পানের পরামর্শ দেওয়া হয়।

২. ডায়রিয়া বা কলেরা নিরাময়ে

ডায়রিয়া বা কলেরা হলে রোগীদের ঘনঘন পাতলা পায়খানা ও বমি দেখা দেয়। এতে দেহ হতে প্রচুর পানি ও খনিজ পদার্থ বের হয়ে যায়। যে কারণে ঘাটতি দেখা যায়। এক্ষেত্রে ডাবের পানি  অনেকটাই পূরণ করতে পারে। কেননা, ডাবের পানি গ্লুকোজ স্যালাইন হিসেবেও ব্যবহৃত হয়।

৩. কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে

যারা কোষ্ঠকাঠিন্যে ভুগছেন, তারা যদি নিয়মিত ডাবের পানি পান করেন তাহলে উপকার পেতে পারেন। 

৪. রক্ত তৈরিতে সহায়ক

ডাবের পানিতে রয়েছে যথেষ্ট পরিমাণে আয়রন। এই উপাদানটি আমাদের শরীরে রক্ত তৈরি করতে সাহায্য করে।

৫. দাঁতের সুস্থতায়

ডাবের পানিতে রয়েছে উচ্চমাত্রায় খনিজ লবণ, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম ও ফসফরাস। দাঁতের ঔজ্জ্বল্য বাড়াতে এসব খনিজ লবণ ভালো কাজ করে। তাছাড়া দাঁতের মাড়িকে মজবুত করতে সহায়তা করে। অনেকেই দাঁতের মাড়ি দিয়ে রক্ত পড়া এবং মাড়ি কালচে লাল হয়ে যাওয়া রোগে ভোগেন, তাদের এসব সমস্যায় খনিজ লবণ সহায়তা করে। 

৬. ত্বকের যত্নে

ত্বকের যত্নে ডাবের পানির তুলনা হয় না। মুখের বিভিন্ন ধরনের দাগ,যেমন- জলবসন্তের দাগ এবং ছোট ছোট আরও অনেক দাগের জন্য ডাবের পানি  বেশ কার্যকরী। সকাল বেলা যদি ডাবের পানি দিয়ে মুখ পরিষ্কার করা যায়, তাহলে দাগ মুছতে এবং মুখের লাবণ্য ও উজ্জ্বলতা বাড়াতে সাহায্য করে। তাছাড়া ব্ল্যাক হেডস দূর করতে ও বলি রেখা কমাতেও সহায়তা করে।

৭. গর্ভাবস্থায় ডাবের পানির উপকারিতা

  • গর্ভাবস্থায় একজন নারীর তাঁর নিজের ও সন্তানের জন্য অনেক কিছু প্রয়োজন হয়। সেক্ষেত্রে ডাবের পানি কিছু কিছু বিষয়ে বেশ উপকারে দেবে।
  • শরীরে পানির ভারসাম্য ঠিক রাখতে সহায়তা করে।
  • ডাবের পানিতে থাকা পটাশিয়াম উচ্চ রক্তচাপ কমাতে ও গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা হতে গর্ভবতী নারীকে স্বস্তি দিতে পারে।
  • ভ্রূণের বৃদ্ধিতে ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম ও ম্যাগনেশিয়াম খুবই কার্যকর। যা ডাবের পানিতে পাওয়া যায়।

৮. শরীরে পানির ভারসাম্য রক্ষায়

পটাশিয়াম, সোডিয়াম ও ম্যাগনেশিয়ামের উপস্থিতির কারণে শরীরে পানির ভারসাম্যের পাশাপাশি ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্য রক্ষায় সহায়তা করতে পারে।

৯. আর্দ্রতা বজায় রাখতে

অতিরিক্ত রোদ আর গরমের কারণে শরীরে তরলের ঘাটতি হয় এবং শরীর আর্দ্রতা হারায়। শরীরের তরল উপাদান ও আর্দ্রতা বজায় রাখতে ডাবের পানি কাজ করে থাকে।

১০. হজমে সহায়তা করে

ডাবের পানিতে আঁশ থাকে বলে এটি আমাদের হজম প্রক্রিয়াকে কার্যকরী করতে সহায়তা করে।

১১. ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক

ডাবের পানিতে শর্করার পরিমাণ খুবই কম থাকে বলে এটি ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে কাজ করে। তাছাড়া এতে কম ক্যালরি ও কম চিনি রয়েছে।

১২. ক্যালসিয়ামের ঘাটতি পূরণে সহায়তা করে

ডাবের পানিতে রয়েছে ক্যালসিয়াম। ফলে এটি আমাদের শরীরে প্রাকৃতিক ভাবে ক্যালসিয়ামের ঘাটতি পূরণে সহায়তা করে। তাছাড়া এটি শরীর থেকে ক্ষতিকর উপাদান বের করে দিতে সাহায্য করে।

১৩. কিডনির কর্মক্ষমতা বাড়াতে

কিডনির কর্মক্ষমতা বাড়াতে পটাশিয়াম ও ম্যাগনেশিয়াম কাজ করে থাকে। যা আমরা ডাবের পানিতে পেয়ে থাকি।

আরো দেখুন

পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

কথায় আছে প্রতিটা জিনিসেরই  ভালো-মন্দ আছে, তাই ডাবও ব্যতিক্রম নয়। ডাবের পানিরও ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম নয়। সেটা হোক না যত উপকারী। সবকিছুরই নিয়ম থাকে, এর বাহিরে গেলেই  ক্ষতির হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

তাহলে এর পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়াগুলো জেনে নেই-

১. ডায়রিয়ার আশঙ্কা

অতিরিক্ত কোন কিছুই ভাল না। ডায়রিয়ায় ডাবের পানি খাওয়ার পরামর্শ থাকলেও  অতিরিক্ত খেলে ডায়রিয়া হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

২. রক্তচাপ কমিয়ে দিতে পারে

ডাবের পানিতে থাকা পটাশিয়াম, সোডিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম উপাদানগুলো উচ্চ রক্তচাপ, ইলেকট্রোলাইট, ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করে। তবে শরীরে এগুলোর কোনোটার পরিমাণ যদি বেড়ে যায়, তাহলে উচ্চ রক্তচাপ, ইলেকট্রোলাইট, ডায়াবেটিস ইত্যাদির ভারসাম্যে ব্যাঘাত ঘটতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে এটি রক্তচাপ কমিয়েও দিতে পারে। যে কারণে স্বাস্থ্য ঝুঁকি বাড়তে পারে।

৩. কিডনি রোগীদের জন্য বিপজ্জনক

কিডনি সুস্থ রাখতে যদিও ডাবের পানি পান করার কথা বলা হয়। তবে কিডনি রোগীদের জন্য ডাবের পানি বিপজ্জনক হতে পারে। কেননা, কিডনির কার্যক্ষমতা কমে গেলে শরীরের অতিরিক্ত পটাশিয়াম দেহ থেকে বের হয় না। যার ফলে ডাবের পানিতে থাকা পটাশিয়াম আর দেহের পটাশিয়াম একত্রে হয়ে কিডনি ও হৃৎপিণ্ডের জন্য বিপদ ডেকে আনতে পারে।এক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া ভাল।

৪. অ্যালার্জি বাড়তে পারে

যাদের অ্যালার্জি আছে,  তারা যদি ডাবের পানি পান করেন তবে স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়তে পারেন। কাজেই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া না খাওয়াই ভাল।

৫. ঠান্ডাজনিত রোগ বাড়তে পারে

যাদের সর্দি বা ঠান্ডাজনিত রোগ আছে, তাদের বুঝেশুনে ডাবের পানি পান করা উচিত। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া ভাল।

ডাবের পানি উপকারী হলেও কিছু বিষয় মাথায় রাখা ভাল। যদিও খাওয়ার কোনো নির্দিষ্ট নিয়ম নেই।

সতর্কতা

১. ডাবের পানি খাওয়ার জন্য সব সময় কচি ডাব বেছে নিবেন। কেননা, যত বয়স্ক ডাব হবে তত তার পানিতে বাড়তে থাকবে চিনির পরিমাণ। যেটা আমাদের শরীরের জন্য ক্ষতিকর।

২. ডাব কাটা হয়ে গেলে তা রেখে না দিয়ে, সঙ্গে সঙ্গে পানি খেয়ে নিতে হবে। তা নাহলে এর পুষ্টিগুণ কমে যায়।

৩. খুব রোদ বা প্রচণ্ড গরম থেকে এসে সাথে সাথে ডাবের পানি না খেয়ে একটু জিরিয়ে নিয়ে খেলে স্বাস্থ্যের জন্য ভাল।

৪. চিনি, লবণ, গুড় এ জাতীয় উপাদান না মিশিয়ে শুধু ডাবের পানিই খাবেন। কেননা, এসব মেশালে এর পুষ্টিগুণ কমে যায়।

আমাদের দেশে ডাবের পানি খেতে হলে, ডাব কিনে তারপর কেটে খেতে হয়। কিন্তু অনেকের হয়ত অজানা রয়েছে, পৃথিবীর অনেক দেশেই ডাবের পানি বোতলজাত হিসাবে পাওয়া যায়। তবে এ পানি কতটা স্বাস্থ্যসম্মত তা অজানা।

তাছাড়া প্রাকৃতিকভাবে কোন কিছু হতে উপকার পেতে হলে বেশ কিছুদিন ধরে নিয়ম করে খেতে বা ব্যবহার করতে হয়

আরো দেখুন
Lemon: এই গরমে লেবু কেন খাবেন?

Lemon: লেবু কেন খাবেন?

লেবু আমাদের দেশের খুবই পরিচিত ও সারা বছর পাওয়া যায় এমনি একটি ফল। আর আমলকির পর যদি কোন ফলে ভিটামিন সি খুব বেশি পরিমাণে পাওয়া যায়, তা হলো লেবু। লেবু আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য কতটা উপকারী হয়তো অনেকেরই অজানা। চলুন তাহলে যেনে নেই এর গুণাগুণ সম্পর্কে-

লেবুর স্বাস্থ্য উপকারিতা (Benefits of lemon)

১. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে

মানুষের  শরীরে যখন রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায় তখনই বিভিন্ন ভাইরাল জ্বর ও সংক্রমণে আক্রান্ত হয়ে থাকে। ভিটামিন সি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। যা আমরা লেবুতে প্রচুর পরিমাণে পেয়ে থাকি। তাই আমাদের সুস্বাস্থ্যের কথা চিন্তা করে প্রতিদিন লেবু খাওয়া উচিত। 

২. ত্বকের যত্নে

মুখে বিভিন্ন ধরনের দাগ, ফুসকরি, ব্রুণ দেখা দেয়, যখন আমাদের শরীরের রক্তে খারাপ ও বিষাক্ত রাসায়ানিক পদার্থগুলো জমা থাকে। এই দূষণীয় রক্ত পরিষ্কার রাখে অ্যান্টি অক্সিডেন্ট নামক উপাদনাটি। যা লেবুতে রয়েছে। যদি নিয়মিত লেবু খাওয়া যায় তাহলে রক্ত থেকে এসব বিষাক্ত পদার্থ বের হয়ে  রক্ত পরিষ্কার থাকে। ফলে ত্বক সুন্দর ও উজ্জ্বল হয়।

তাছাড়া ত্বক থেকে কালো বলিরেখা গুলো ধীরে ধীরে চলে যাবে ও ত্বকের শুষ্কতা কমায় ত্বককে কোমল ও মসৃণ করে। শুধু তাই নয়, যদি লেবুর খোসায় একটু মধু দিয়ে ভালো করে পুরো মুখ ঘষা যায়, তাহলে মুখের দাগ দূর হয়। শুধু মুখে ও নয়, আপনি চাইলে হাত ও পায়েও ঘষতে পারেন। আর নিয়মিত ব্যবহার করলে ত্বক দাগ মুক্ত ও উজ্জ্বল হবে।

৩. কিডনি সুস্থ রাখতে

লেবুতে প্রচুর পরিমাণে সাইট্রিক অ্যাসিড রয়েছে। এই সাইট্রিক অ্যাসিড কিডনিতে পাথর তৈরি হতে বাধা দেয়। ফলে কিডনি সুস্থ থাকে। তাছাড়া ভুল করে যদিও পাথর তৈরি হয়, সেটা ভেঙে প্রস্রাবের মাধ্যমে শরীরের বাইরে বের করে দিতে সাহায্য করে ।

তাই প্রতিদিন সকালে নিয়মিত লেবু জল খেলে কিডনিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকি কমে যায়।

৪. পানিশূণ্যতা রোধে সহায়ক

শরীরকে সুস্থ রাখতে আর  শুষ্ক হওয়ার হাত থেকে বাঁচাতে গেলে, প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমাণে জল খেতে হবে। আমরা  জানি কিন্তু বিভিন্ন কারণে এই ঘাটতিটা অপূর্ণই থেকে যায়। তাছাড়া শুধু পানি খেতে সবসময় ভালোও লাগেনা। সেক্ষেত্রে যদি লেবু সহ পানি করা যায়, তাহলে লেবুর উপকারের পাশাপাশি পানির ঘাটতিও পূরণ হবে। আর অতিরিক্ত পানিও পান করা হবে। 

৫. রক্তাল্পতা দূরীকরণে

আমরা জানি, লেবুতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি আছে। তবে এতে সামান্য পরিমাণে আয়রনও আছে।আমরা যখন অন্যান্য খাবার খাই, তখন লেবুতে থাকা ভিটামিন সি সেই সব খাবার থেকে আয়রন শোষণ করে। আর এই দুই আয়রন একত্রে হয়ে রক্তের লোহিত রক্তকণিকা তৈরিতে সাহায্য করে । ফলে শরীরে রক্তাল্পতা দেখা দেয় না ।

৬. শরীরে বিভিন্ন কোষ সুস্থ রাখতে

লেবুতে শুধু ভিটামিন সি নয়, এতে ফ্লেভানয়েড (Flavonoid) নামে এক ধরনের এন্টি অক্সিডেন্টও রয়েছে। এটি শরীরে উৎপন্ন হাওয়া ফ্রি রেডিক্যালগুলোকে বাইরে বের করে দিতে সাহায্য করে।ফলে শরীরের কোষ গুলো নষ্ট হওয়ার হাত থেকে রক্ষা পায়। যে কারণে ক্যান্সারের ঝুঁকি কমে যায়। 

৭. ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে

শরীরে যখন ইউরিক অ্যাসিডেব় মাত্রা বেড়ে যায় তখন শরীরের বিভিন্ন জয়েন্টে ব্যথা অনুভব হয়। এক্ষেত্রে কার্যকরী উপায় হলো লেবু। কেননা, লেবু শরীরের মধ্যে ক্ষারের (alkaline ) মতো আচরণ করে এবং জয়েন্ট গুলো থেকে ইউরিক অ্যাসিডের পরিমাণ কমিয়ে দিয়ে জয়েন্টের ব্যথা কমায়।

৮. ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে

লেবুতে আর একটি উপাদান রয়েছে তাহলে জলে দ্রবণীয় পেকটিন তন্তু ।

এ কারণে লেবু জল পান করলে পেট ভরা অনুভূত হয় আর অল্প খেলেই পেট ভরে যায়। তাছাড়া ক্ষুধাও কমে যায়। যে কারণে আপনার ওজন কমাতে এটি খুবই কার্যকারী।

তাছাড়া খালি পেটে কুসুম গরম পানিতে লেবু ও মধু মিশিয়ে খেলে বেশ উপকার পাওয়া যায়। কেননা, এতে শরীরের অতিরিক্ত ফ্যাট ধ্বংস হয়।

৯. হার্ট ও ব্রেন সুস্থ রাখে 

লেবুতে থাকা পটাসিয়াম খনিজ আমাদের হার্ট ও ব্রেন কে সুস্থ রাখতে সহায়তা করে। তাছাড়া হার্ট ও ব্রেনের কার্যকারিতাকে বাড়িয়ে দিয়ে সঠিকভাবে চলতে সাহায্য করে ।

১০. হজমশক্তি বাড়াতে ও লিভার সুস্থ রাখতে সাহায্য করে

লেবুর মধ্যে থাকা পেকটিন তন্তু বা ফাইবার আমাদের  হজমশক্তি বাড়াতেও সাহায্য করে। আর  লিভারে থাকা এনজাইমগুলোকে সক্রিয় করে তোলে। যার ফলে পরিপাকে সহায়তা হয় এবং কোষ্ঠকাঠিন্যের সম্ভবনা কমে যায়। তাছাড়া  ফাইবার কোলেস্টেরলের মাত্রা ঠিক রাখতেও কাজ করে। এগুলো ছাড়াও লেবু রক্তে অক্সিজেন পরিবহনের মাত্রা বাড়িয়ে দিতে সাহায্য করে।

১১. স্কার্ভি রোগ প্রতিরোধে সহায়তা করে

দাঁতের মারি সুস্থ রাখতে ভিটামিন সি এর বিকল্প হয় না। আর লেবু তো ভিটামিন সি- তে পরিপূর্ণ। তাই দাঁতের মারি সুস্থ রাখতে আর ইনফেকশন দূর করতে নিয়মিত লেবু জল পান করলে উপকার পাওয়া যাবে। এর ফলে স্কার্ভি রোগে সম্ভাবনাও কমে যায় ।

১২. রক্তচাপ এবং স্ট্রেস কমায়

লেবু পানি বা লেবুর শরবত পানে শরীরে এক ধরনের মানসিক প্রশান্তি কাজ করে। ফলে এটা দুশ্চিন্তা ও হতাশা থেকে মুক্ত রাখতে সহায়তা করে। লেবু শরীরের সজীবতার পাশাপাশি রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণেও কার্যকরী ভূমিকা পালন করে। তাছাড়া উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে লেবুতে থাকা ভিটামিন সি সাহায্য করে এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি অনেকটা কমাতে কাজ করে।

১৩. মুখের দুর্গন্ধ দূরীকরণে

মুখে বিভিন্ন কারণে দুর্গন্ধ হতে পারে। অনেক সময় পেঁয়াজ বা রসুন জাতীয় কোন গন্ধযুক্ত খাবার খেলে দীর্ঘ সময় যাবৎ মুখে গন্ধ থেকে যায়। এ সময় যদি যদি এক টুকরো লেবু বা লেবু জল পান করা যায় তাহলে ওই অস্বস্তিকর মুখের গন্ধ চলে যাবার পাশাপাশি মুখে একটা সুন্দর গন্ধ বের হবে আর সতেজ অনুভব হবে ।

১৪. খনিজ লবণের ঘাটতি পূরণে

গরমের সময় আমাদের শরীরে অনেক ঘাম হয়। সেটা দৌড়ানোর সময় বা অনেকক্ষণ ধরে ব্যায়াম করার ফলেও হওত পারে। তবে এ ঘামের সাথে যথেষ্ট পরিমাণে খনিজ লবণ বেরিয়ে যায় শরীর থেকে। এই ঘাটতি পূরণে শুধু জল নয়, লেবুর রস মিশিয়ে পান করুন, দেখবেন খনিজ লবণের ঘাটতি পূরণ হয়ে যাবে অনেকটা।

কেননা, লেবুতে পটাসিয়াম,ম্যাগনেসিয়াম,ক্যালসিয়াম, আয়রনের মতো বিভিন্ন খনিজ লবণ যথেষ্ট পরিমাণে পাওয়া যায়।

অনেক সময় আমাদের মুখে রুচি থাকেনা বা খাবার স্বাদ লাগেনা। তাই খাবারে যদি লেবুর রস নেয়া যায় তাহলে তা খেতে সুস্বাদু হয়। কেননা, এর বিশেষ স্বাদ ও গন্ধ যে কোনো খাবারের স্বাদ বাড়িয়ে মুখে রুচি নিয়ে আসে।

এতক্ষণ আমরা লেবুর স্বাস্থ্য উপকারিতা জানলাম। কিন্তু কি জানেন? শুধু লেবু নয়, এর খোসাও কতটা উপকারী? তাহলে লেবুর খোসার কিছু উপকারিতা জেনে নেয়া যাক-

১৫. দাঁত ঝকঝকে রাখতে

বিভিন্ন কারণে বা অযত্নে বা অসচেতনতায় অনেক সময় আমাদের দাঁত হলুদ বর্ণ ধারণ করে। এতে কিন্তু আমাদের টেনশনের শেষ থাকেনা। কীভাবে দাঁত ঝকঝকে হবে এটাই মাথায় ঘোরে। এর সহজ কার্যকরী উপায় হলো এক টুকরো লেবুর খোসা নিয়ে ২ মিনিট দাঁত ঘষুন খোসার ভেতরের অংশ দিয়ে। তারপর মুখ ধুয়ে ফেলুন আর ফলাফল দেখুন। 

১৬. কাটা আপেল তাজা রাখতে

ফল যদি কেটে রাখা হয়, তাহলে কিছুক্ষণ পরে দেখা যায় কাটা অংশ বাদামি রং হয়ে গেছে। এই বাদামি রং থেকে রক্ষা করতে লেবু বেশ কার্যকারী। কেননা, কাটা অংশটিতে লেবু মাখিয়ে রাখলে আর বাদামি রং হবেনা আর ফল থাকবে সতেজ।

১৭. সিঙ্ক ও বাথটাব পরিষ্কার রাখতে

সিঙ্ক বেশিদিন ব্যবহার হলে, বিভিন্ন দাগ বসে যায়। যা পরিষ্কার করা বেশ কষ্টকর হয়ে দাঁড়ায়। এক্ষেত্রে যদি বেকিং সোডা ছিটিয়ে দিয়ে একটি লেবুর খোসা দিয়ে ভাল করে ঘষা যায়, তাহলে তা নতুনের মত ঝকঝকে পরিষ্কার হয়ে যাবে। 

১৮. মশার উপদ্রব কমাতে

গরম আসলে যেন মশার উপদ্রব বেড়ে যায়। কিন্তু আপনারা কি জানেন, মশার উপদ্রব কমাতে লেবু বেশ কার্যকরী। শুনতে হয়ত অনেকটা আজব লাগছে, তাই না? আজব লাগলেও সত্য। যদি একটি লেবুকে দুইভাগ করে নিয়ে, কাটা অংশে লবঙ্গ গেঁথে দেয়া হয়, তাহলে দেখবেন মশার উপদ্রব অনেক কমে গেছে।

১৯. পিঁপড়ার ও পোকামাকড়ের উৎপাত কমাতে

কম বেশি সব মৌসুমে  পিঁপড়ার উৎপাত থাকলেও বর্ষাকালে যেন এর উৎপাত বেড়ে যায়। এক্ষেত্রে কয়েক লেবুর খোসা খুব উপকারে আসে। যেদিক দিয়ে পিঁপড়া যাতায়াত করে সেদিকে যদি এক টুকরা লেবুর খোসা রাখা যায়, তাহলে পিঁপড়ার আনাগোনা কমে যাবে। কেননা, লেবুর গন্ধ পিঁপড়া এবং অন্যান্য পোকামাকড় সহ্য করতে পারে না।

২০. ঘর ও ফ্রিজ সতেজ রাখতে

ঘরের পরিবেশকে সতেজ রাখার পাশাপাশি ফ্রিজের দুর্গন্ধ দূর করতে লেবু আর লেবুর খোসার তুলনাই হয় না। লেবু রসের সাথে যদি রোজমেরি এবং ভ্যানিলার মেশিয়ে সহজেই ফ্রিজের দাগ পরিষ্কার করা যায়। আর দুর্গন্ধ দূর করতে একটি বা দুটি লেবুর খোসা ফ্রিজে রেখে দিন, দেখবেন ভেতরে দুর্গন্ধ দূর হয়ে গেছে।

২১. সিরামিকের জিনিসপত্র পরিষ্কার করতে

লেবুতে থাকা সাইট্রিক অ্যাসিড থালাবাসন চকচকে করতে সাহায্য করে। ডিশ ওয়াশারের সাথে লেবুর খোসা দিয়ে থালাবাসন ঘষুন, দেখবেন সব দাগ উঠে কেমন ঝকঝকে নতুনের মত পরিষ্কার হয়েছে। শুধু সিরামিক নয়, এভাবে কাঁচের গ্লাস ও প্লেটও পরিষ্কার করতে পারেন।

২২. ঘামের দাগ দূর করতে

গরম মানেই ঘাম হওয়া। আর এই ঘাম অনেক সময় জামা কাপড়ে দাগ হয়ে যায়। এই দাগ তুলতে লেবু বেশ কার্যকারী। একটি অর্ধেক রস বের করা লেবু দিয়ে ঘামের জায়গাটি ঘষে তার উপর বেকিং সোডা ছিটিয়ে সারা রাত রাখা যায় আর  সকালে ডিটারজেন্ট পরিষ্কার করা যায়, তাহলে ঘামের দাগ আর থাকবে না।

আমরা শুধু লেবুর বিভিন্ন ধরনের উপকারিতাগুলোই জানলাম। কিন্তু একটা কথা আমরা সবাই জানি, কোন জিনিস সঠিকভাবে ব্যবহার করা না হলে বা অতিরিক্ত ব্যবহার হলে তার পার্শ্ব- প্রতিক্রিয়া দেখা দিবে। আমরা এখন লেবুর পার্শ্ব- প্রতিক্রিয়াগুলো জানবো- 

পার্শ্ব- প্রতিক্রিয়া (Side-effects)

১. দাঁতের এনামেল ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে

অতিরিক্ত লেবু খেলে বা সরাসরি খেলে দাঁত ক্ষয়ে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দেয়। কেননা, লেবুতে থাকা সাইট্রিক অ্যাসিড দাঁতের ওপর পড়ে সাদা স্তর তৈরি করে। যা দাঁতের ক্ষতি করে। সফট ড্রিংক আর অতিরিক্ত লেবু দুটোতেই ঠিক একই সমস্যা হয়। যদি প্রতিদিন সকালে উঠে লেবু পানি খান, তাহলে দিনে দুবার অন্তত ব্রাশ করেন তাহলে দাঁতের সমস্যা কম হতে পারে।

২. ত্বকের কোষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়

দীর্ঘদিন ধরে যারা লেবু খান, তাদের মুখের মধ্যে ফোঁড়া বা ফুসকুড়ি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এটা মুখের নরম কোষ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কারণে ঘটে। সাইট্রিক অ্যাসিড সমৃদ্ধ অন্য ফল খেলেই এই সমস্যা হতে পারে।

৩. অ্যাসিড এবং বমির আশঙ্কা হতে পারে

যত উপকারিই হোক না কেন, অতিরিক্ত কোন কিছুই ভাল না। তাই ভিটামিন সি শরীরের জন্য ভাল হলেও কিন্তু অতিরিক্ত ভালো নয়। খাবার হজম করতে লেবুতে থাকা অ্যাসিড ভাল কাজ করে। তাই হজমে সমস্যা হলে অনেকেই লেবু জল পান করে থাকেন। পেটের সমস্যা কিন্তু অতিরিক্ত অ্যাসিডের কারণেও দেখা দিতে পারে, এটা হয়ত অনেকেরই অজানা।

কেননা, অতিরিক্ত লেবু খেলে তা থেকে অ্যাসিড হবেই। আর  অ্যাসিডি হরে তো বমি বমি ভাব বা বমি হতেই পারে। 

তাই লেবু জল না খেয়ে খাবারের সাথে মিশিয়ে খান, উপকার পাবেন।

৪. মাইগ্রেনের সমস্যা বাড়তে পারে

লেবু থাকা সাইট্রাস কোন ব্যক্তির যদি মাইগ্রেনের সমস্যা থাকে তা বাড়িয়ে দিতে পারে। সাইট্রাস সম্পৃক্ত ফলগুলির মাঝে  টাইরা মাইন নামক উপাদানের জন্যই এমনটা হয়।

৫. রক্তে আয়রনের পরিমাণ বৃদ্ধি পেতে পারে

লেবুতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি। রক্তে আয়রনকে সংরক্ষণ করতে কিন্তু ভিটামিন সি সাহায্য করে। তাই শরীরে ভিটামিন সি-র পরিমাণ যদি বেড়ে যায়, তাহলে রক্তে অধিক পরিমাণ আয়রন সংরক্ষণ হবে। যা আমাদের শরীরের জন্য ক্ষতিকর।

৬. উৎসেচক ভেঙে যায়

পেপসিন নামক উপাদানটি আমাদের হজমে সাহায্য করে। কিন্তু খালি পেটে বা অতিরিক্ত লেবু খেলে প্রয়োজনীয় উৎসেচক পেপসিন ভেঙে যেতে পারে।মূলত পেপসিনকে ভেঙে ক্ষতিকর এনজাইম তৈরি করে লেবুতে থাকা সাইট্রিক অ্যাসিড। যার ফলে হজমে ব্যাঘাত হয় আর পেপটিক আলসারের আশঙ্কা থাকে।

৭.সানবার্নের আশঙ্কা থাকে 

লেবুতে অ্যালার্জি। শুনে নিশ্চয়ই অবাক হচ্ছেন? অবাক হওয়ার কারণ নেই। এটা অনেকেই তা বুঝতে বা ধরতে পারেন না। লেবু খেয়ে যখন রোদে বের হয় তখন স্কিনে লাল র‌্যাশ দেখা যায়। অনেক ক্ষেত্রে তো কালো কালো ছোপও দেখা দেয়। সানবার্ন বলে ভুল করি আমরা যেটাকে। অবশ্য সাইট্রিক অ্যাসিডের সাথে সূর্যালোকের বিক্রিয়ায় এই সমস্যা দেখা দেয়। তাছাড়া অতিরিক্ত লেবুর রস কিন্তু  স্কিন ক্যানসার ডেকে আনতে পারে।

৮.খনিজ লবণের ঘাটতি হতে পারে

অতিরিক্ত লেবু জল কিন্তু ঘন ঘন প্রস্রাবের কারণ হতে পারে। আর যদি  ঘন ঘন প্রস্রাব হয়, তখন প্রস্রাবের সাথে কিছু পরিমাণ খনিজ লবণ শরীরের বাইরে বেরিয়ে যায়। তাই শরীরে খনিজ লবণের ঘাটতি হতে পারে।

তাই সবসময় খেয়াল রাখবেন, পরিমিত পরিমাণে লেবু জল পান করবেন আর এর উপকারিতা গ্রহণ করবেন।

Cassava: আসলেই কি কাসাভা আটা বা ময়দার বিকল্প হতে পারে?

কাসাভা (Cassava) নামটি আমাদের এ অঞ্চলে বেশ অপরিচিত। দেখতে অনেকটা আলুর মত। তবে তা আটা বা গমের বিকল্প খাবার। অনেকের কাছে এটি শিমুল আলু, কাঠ আলু নামে পরিচিত। খাদ্য হিসেবে কাসাভার পরিষ্কার টিউবার সরাসরি বা সিদ্ধ করে, এমন কী কাঁচাও খাওয়া যায়।

আমাদের দেশীয় খাবারের তালিকায় অপরিচিত নাম হলেও আফ্রিকার প্রায় ৮০ কোটি মানুষের প্রধান একটি খাদ্য এই কাসাভা। থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম ও মালয়েশিয়ায় কাসাাভার তৈরি খাবার বেশ জনপ্রিয়।

খাবার হিসেবে কাসাভা জনপ্রিয় হলেও তা কি আসলেই আটা বা ময়দার বিকল্প হতে পারে। আজকে জানাবো তারই বিস্তারিত।

Cassava আসলে কি?

দক্ষিণ আমেরিকার (spurge) পরিবারের অরণ্যময় গুল্ম এবং বহুবর্ষজীবী একটি  উদ্ভিদ। এটি ক্রান্তীয় অঞ্চলের ফসল। চাল ও ভুট্টার পর এর অবস্থান। বার্ষিক ফসল হিসেবের কাসাভার চাষ করা হয়।

কাসাভাকে manioc বলা হয়। পাতাগুলি পালমেট বা পাখার আকৃতির। অনেকটা ক্যাস্টর-অয়েল উদ্ভিদের মতো। দেখতে অনেকটা মিষ্টি আলুর আর ব্রাজিলীয় অ্যারারুট মানিয়ক অথবা ট্যাপিওকা গাছের শিকড়ের মত। এগুলো এক ধরনের আলু। সাধারণত মাটির নিচে জন্মে। খাদ্য শর্করার একটি প্রধান উৎস অর্থাৎ তৃতীয় বৃহত্তম উৎস বলা হয় কাসাভাকে।

আমাদের দেশে খুব বেশি প্রচলন না হলেও উন্নয়নশীল বিশ্বের প্রধান খাদ্য হলো এই শিমুল আলু। যা মৌলিক খাদ্য হিসেবে ৫০-৮০ লক্ষ মানুষের কাছে বিবেচিত। খরা সহনশীল ফসল যদি খোঁজা যায়, তাহলে এর নাম সবার আগে আসবে। যা প্রান্তিক মাটিতে জন্মাতে সক্ষম। বিশ্বে কাসাভার বৃহত্তম উৎপাদনকারী দেশ হলো নাইজেরিয়া। আর বৃহত্তম রপ্তানিকারক দেশ হলো থাইল্যান্ড। তবে উগান্ডাতে এর চাষ হয়। 

কাসাভার ইতিহাস

ধারণা,মায়া সভ্যতাতেই সর্বপ্রথম কাসাভা চাষের শুরু। যার প্রেক্ষাপটে দক্ষিণ আমেরিকায় এর চাষ শুরু হয়। পরে পর্তুগিজদের মাধ্যমে ভারতে চাষ হয়। আর বাংলায় চাষ শুরু হয়, উনিশ শতকের শেষেরদিকে খ্রিষ্টান মিশনারিদের হাত ধরে। 

কি কি কাজে ব্যবহৃত হয়

কাসাভা থেকে যে স্টার্চ পাওয়া যায় তা কাগজ শিল্পে, বেকারি শিল্পে, ঔষধ শিল্পের গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়। সিমেন্টের গুণগত মানোন্নয়ন, কাগজ, আঠা, প্রসাধন, রাবার ও সাবান শিল্পেও এটি ব্যবহার করা হয়।

তাছাড়া এর প্রক্রিয়াজাত পাতা ও বাকি অংশ ব্যবহার করা হয় জৈব সার তৈরিতে। মুরগি, গরু, মহিষ, ছাগল, মাছ, ইত্যাদির জন্যও কাসাভার মূল বা আলুর পিলেট, আটা বিকল্প খাবার। এর স্টার্চ দিয়ে মল্টোজ, লিকুইড, গ্লুকোজসহ বিভিন্ন রূপান্তরিত চিনি তৈরিতে ব্যবহৃত করা হয়।

সামরিক ক্ষেত্রেও এর ব্যবহার লক্ষণীয়। বুলেট ডিটোনেশন কাজে ব্যবহৃত মোমবিহীন চাঁচ হিসেবে সমরাস্ত্র কারখানায় কাসাভার স্টার্চ ব্যবহার করা যায়।

কাসাভার তৈরি খাবার

কাসাভা থেকে জুস, জ্যাম-জেলি, গ্লুকোজ, অ্যালকোহল, আটা, গাম বিভিন্ন খাবার তৈরিতে ব্যবহৃত হয় ব্যাপকভাবে। তাছাড়া এর স্টার্চ/আটা গমের আটার সঙ্গে মিশিয়ে তৈরি করা হয় রুটি, পরটা, কেক ইত্যাদি। এগুলোর পাশাপাশি কাসাভা থেকে বার্লি, সুজি, রুটি, নুডলস, ক্র্যাকার্স, কেক, পাউরুটি, বিস্কুট, পাঁপড়, চিপসসহ নানাবিধ খাদ্য তৈরি করা হয়। 

তাছাড়া সরাসরি অন্যান্য সবজির মত এটিও রান্না করে খাওয়া যায়। শুধু তাই নয়, শুটকি ও মাংস দিয়েও রান্না করা যায়। অনেকে আবার মিষ্টি আলুর মত পুড়িয়ে খান।

জনপ্রিয় একটি খাবার সাবুদানা।  এটি দিয়ে নানা ধরনের খাবারো তৈরি করা যায়।  জানেন কি এই সাবুদানা কি থেকে তৈরি হয়?

সাবুদানা তৈরীর প্রধান উপকরণ কাসাভা।

বাংলাদেশে কাসাভা চাষ

শুরুতেই কাসাভার চাষাবাদ বাণিজ্যিকভাবে হয়নি। স্বল্প পরিসরে ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইলসহ বিভিন্ন জেলায় চাষ করা হলেও বর্তমান সরকারি এবং বেসরকারি দু’ভাবেই উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। তবে কাসাভার বাণিজ্যিক চাষ শুরু হয় কুমিল্লা, পঞ্চগড়, চট্টগ্রাম, সিলেট সহ পাহাড়ি এলাকাগুলোতে।

মাত্র ৮/১০ বছর আগে আমাদের দেশে কাসাভার চাষ শুরু হলেও জনপ্রিয়তা বৃদ্ধির কারণে বর্তমানে দেশে ০.০৪ লক্ষ হেক্টর জমিতে ০.৪৬ লক্ষ টন কাসাভা উৎপাদন হচ্ছে। অর্থাৎ দেশের মোট চাহিদার মাত্র ২ শতাংশ।

চাষ পদ্ধতি

বাংলাদেশে বেশ কয়েক ধরনের কাসাভার চাষ হলেও ফিলিপাইন থেকে আসা দুইটি জাতই বেশি চাষ হয়।

আর এটি সবচেয়ে বেশি চাষ হয় পাহাড়ি এলাকায়। আর এর  চাষের জন্য সবচেয়ে উপযোগী অঞ্চল হলো উষ্ণ ও আর্দ্র আবহাওয়া অঞ্চল। পাহাড়ি  এলাকায় যে জুমচাষ হয়, এই আলুটি সেই পদ্ধতিতেই চাষ হয়ে থাকে ব্যাপকভাবে। পাহাড়ের প্রায় সব রকম জায়গায় অর্থাৎ উঁচু মাটি ও বেলে দোআঁশ সবটাতেই কাসাভা আলু চাষ করা হয়।

এটি জলাবদ্ধতা এবং উচ্চ লবণাক্ততা একেবারেই সহ্য করতে পারেনা। জমিতে যদি পানি জমে থাকে তাহলে গাছ পচে মারা যায়। 

সব ফসলে যেমন ফুল ও ফল হয়, কাসাভা গাছেরও তেমনি ফুল ও ফল ধরে। তবে ফল ধরলেও তা থেকে এই আলু চাষ করা হয় না। আর যদি ফল থেকে চাষ করা যায় তাহলে গাছ বড় হতে সময় লাগে অনেক। তাই কাসাভা চাষ করতে হয় গাছের কাটিং জমিতে রোপণ করার মাধ্যমে। আর এই আলু তোলার উপযুক্ত সময় হলো শীতকাল। তবে  আলু তোলা শেষ হলে, ঐ গাছের ২/৩ ফুট উচ্চতা করে কেটে একটি ভেজা স্যাঁতস্যাঁতে জায়গায় এর কাটিং অংশ পুঁতে রাখতে হয়। তারপর এপ্রিল মে মাসে অর্থাৎ গ্রীষ্মকালের শেষের দিকে এই কাটিং তুলে রোপণ করতে হয় মূল জমিতে। তবে কাসাভা চাষে তেমন বেশি পরিচর্যার প্রয়োজন পড়ে না। আর লাগানোর এক বছর পরেই ফলন পাওয়া যায়।

প্রস্তুত প্রণালী

কাসাভার প্রস্তুত প্রণালি একটু সময় সাপেক্ষ ব্যাপার। এ ফসল জমি থেকে সংগ্রহ করার পর মেশিনের সাহায্যে ছালগুলো পরিষ্কার করে নেয়া হয়। তারপরও যদি অতিরিক্ত ছাল থেকে থাকে তা হাতের সাহায্যে পরিষ্কার করা হয়। এরপর কাসাভাগুলো মেশিনের সাহায্যে পেস্ট বানানো হয়। তারপর পেস্ট থেকে পানি ঝরিয়ে নিয়ে মেশিনে শুকানোর পর আটা তৈরি করা হয়। এবং আটা থেকে চালুনি দ্বারা বাড়তি ময়লা আলাদা করে নেয়া হয়। 

তবে কাসাভা আটা দ্বারা সরাসরি কোনো খাবার তৈরি করা একটু ঝামেলার। সেকারণে এই আটার সাথে অন্য আটা মিশিয়ে খাবার তৈরি করা হয়। 

পুষ্টিগুণ

কাসাভার খাদ্যমানের মধ্যে যা যা আছে- প্রোটিন, অ্যামাইনো অ্যাসিড,  কার্বোহাইড্রেট, ফ্রুকটোজ, গ্লুকোজ। তাছাড়া এর প্রতি ১০০ গ্রাম কাসাভা আলুতে রয়েছে ৩৬ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি, ৩৭ গ্রাম শর্করা, ০.৩ গ্রাম চর্বি, ৩৫ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম, ০.৭ মিলিগ্রাম আয়রন, ০.০৯ মিলিগ্রাম ভিটামিন এ, ১.২ গ্রাম আমিষ এবং ১৪৬ ক্যালরি খাদ্যশক্তি। এর প্রায় ৯০ শতাংশ শর্করাই থাকে উন্নত স্টার্চ হিসেবে।

কাসাভার ঔষধি গুণ ও স্বাস্থ্য উপকারিতা

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে

এতে বিভিন্ন ধরনের পুষ্টিগুণ সহ সেলুলোজের সঙ্গে মিনারেল ও ফাইবার গ্লুটামিনও পাওয়া যায়। ডায়াবেটিস উপশমে এর আঠালো অংশ বেশ কার্যকরী। নিয়ম করে কাসাভা গ্রহণ করলে যারা ডায়াবেটিস রোগী বা ভবিষ্যতে এই রোগ হওয়ার ঝুঁকিতে আছেন, তারা এটাকে এড়াতে পারেন।

হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে 

কাসাভাতে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার বিদ্যমান। যা হার্টকে সুস্থ রেখে সব ধরনের হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে কাজ করে৷ তাছাড়া হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক সহ নানা রকম রোগ প্রতিরোধে সহায়তা করে। এলডি এলের মত খারাপ কোলেস্টেরল কমাতেও কাসাভায় থাকা ফাইবার কাজ করে। তাছাড়া বাড়তি ফাইবার কোলেস্টরলের বিরুদ্ধেও যুদ্ধ করে। এতে কোলেস্টেরলের পরিমাণ নেই বললেই চলে।

দেহের টিস্যুগুলো সুস্থ রাখতে

কাসাভায় থাকা বিভিন্ন ধরনের প্রোটিন, যেমন- লাইসিন, আইসোলিউসিন, ভ্যালিন শরীরের টিস্যু মেরামত ও রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। শুধু তাই নয়, যদি সঠিকভাবে পরিমিত কাসাভা খাওয়া  হয় তাহলে দেহের টিস্যুগুলো সুস্থ থাকার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত টিস্যুগুলো সুস্থ হতে পারে।

হাড় গঠনে সহায়ক

আমাদের শরীরের হাড় ভালো রাখতে ক্যালসিয়ামের প্রয়োজন। যা কাসাভায় রয়েছে প্রচুর পরিমাণে। তাছাড়া ভিটামিন কে এর উপস্থিতি বিদ্যমান থাকায়, অস্টিওপরোসিস, আলঝেইমার্সের মত রোগ প্রতিরোধে সক্ষম। শুধু তাই নয়, কাসাভা প্রবীণ বয়সেও দেহের হাড় মজবুত রাখতে সহায়তা করে থাকে।

উচ্চরক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে

উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করতে পটাশিয়াম প্রয়োজন, যা কাসাভায় রয়েছে। ফলে তা হাইপারটেনশনের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।

এগুলো ছাড়াও এটি ওজন কমাতে ও হজমে সহায়তা করে। ক্যান্সার প্রতিরোধে সহায়তা করে এতে থাকা বিভিন্ন ধরনের এন্টি অক্সিডেন্টের উপস্থিতি। 

তবে খাদ্য হিসেবে এর বাজার না বাড়লেও শিল্পখাতে এর ব্যাপক ব্যবহার বাড়ছে। যার ফলে এর আবাদও বাড়ছে। তবে চাষপদ্ধতি, জমির ধরণ এবং বাজারজাতকরণ ভাল না হওয়ায় এটি বাণিজ্যিকভাবে চাষ হওয়ায় সম্ভবনা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

কাপড়ের মাড় তৈরিতে বস্ত্র শিল্পে এর প্রয়োজন অনেক। তবে বাংলাদেশকে এসব উপাদান অনেকাংশেই আমদানি করতে হয়।

কাসাভা স্টার্চের বার্ষিক চাহিদা বাংলাদেশে প্রায় তিন থেকে সাড়ে তিন লাখ টন। তবে দেশে মাত্র ৫/৬ হাজার টন উৎপাদিত হয়। তাছাড়া এর চাহিদা বাড়ছে প্রতি বছর দশ/পনেরো শতাংশ হারে।

কাসাভা চাষে সরকারিভাবে উদ্যোগ নিলেও ঘাটতি রয়েছে অনেক। যার ফলে চাষিরা যথার্থ মূল্য পায় না।