fbpx
Monday, April 22, 2024
spot_imgspot_img
HomeInfoNauru: পৃথিবীর একমাত্র গণতান্ত্রিক দেশ যার কোনো রাজধানী নেই

Nauru: পৃথিবীর একমাত্র গণতান্ত্রিক দেশ যার কোনো রাজধানী নেই

Only democratic country in the world that has no capital

পৃথিবীর প্রতিটি দেশেরই একটি রাজধানী আছে। কিন্তু আপনি কী জানেন পৃথিবীর এমন একটি দেশ আছে যার কোনো রাজধানী নেই? সবাই কী ভাবছেন? কোন সে দেশ আছে যার কোনো রাজধানী নেই!  

বর্তমানে বিশ্বে মোট ১৯৫টি দেশ আছে  প্রতিটি দেশেই একটি করে রাজধানী আছে। কিন্তু ‘‘নাউরু – Nauru’’ এমন একটি গণতান্ত্রিক দেশ যার কোন রাজধানী নেই, এবং তাদের নিজস্ব কোনো সেনাবাহিনীও নেই। যাতায়াতের জন্য পাবেন না কােনো স্থল পথ, ভরসা রাখতে হবে নৌ-পথ। কিন্তু পকেটে যদি পর্যাপ্ত অর্থ থাকে তাহলে যেতে পারবেন আকাশ পথে। আর আকাশ পথে যাতায়াতের জন্য এই দেশটিতে রয়েছে একটি বিমানবন্দর। 

অবস্থান ও ইতিহাস

দেশটি দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরের মাইক্রোনেশিয়ায় অবস্থিত, যা আবার নোরু নামেও পরিচিত। আনুমানিক ২১ বর্গ কিলোমিটার জুড়ে বিস্তৃত বিশ্বের তৃতীয় ক্ষুদ্রতম স্বাধীন এবং গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র এটি। দেশটি ১৯৬৮ সালে স্বাধীনতা লাভ করে। এটি বিশ্বের একমাত্র গণতান্ত্রিক দেশ যার এখনও কোনো রাজধানী নেই, আকাশপথে পথে অস্ট্রেলিয়া (দেশটির সবচেয়ে নিকটবর্তী দেশ) থেকে দেশটিতে যেতে পাঁচ ঘণ্টা সময় লাগে। তবে এই দেশটির সবচেয়ে কাছাকাছি দীপ রাষ্ট্রটি হলো ‘‘পাপুয়া নিউগিনি – Papua New Guinea’’, যেখান থেকে যেতে আরো কম সময় লাগবে আপনার।

সম্পদ

এদের আয়ের প্রধান উৎস মূলত প্রাকৃতিক সম্পদ ফসফেট যা কৃষি কাজে ব্যবহৃত হয়। নাউরুতে ১৯০৭ সাল থেকে ফসফেট খনন করা শুরু হয় যা এখন সম্পূর্ণভাবে বন্ধ। কারণ এখন আর উত্তোলনের জন্য পর্যাপ্ত ফসফেট নেই দেশটিতে। 

জার্মানি সর্বপ্রথম ১৯০৬ সালে নাউরুর ফসফেট খনির সন্ধান পায়। এবং ‘প্যাসিফিক ফসফেট কোম্পানি’ নামে এখান থেকে তারা ফসফেট উত্তোলন শুরু করে। এই অবস্থা প্রথম বিশ্বযুদ্ধ পর্যন্ত চলতে থাকে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে জার্মানরা পরাজিত হলে ব্রিটিশরা ‘ব্রিটিশ ফসফেট কমিশন’ নামে নাউরু থেকে ফসফেট উত্তোলন শুরু করে। এবং এর সুবিধা নেয় ব্রিটেন, নিউজিল্যান্ড এবং অস্ট্রেলিয়া। 

জনগণ

নাউরুতে ২০০৫ সালের জরিপে মোট জনসংখ্যা ছিল ১৩,০৪৮ জন। এর মধ্যে ৫৮ শতাংশ নাউরুর আদি অধিবাসী, ২৮ শতাংশ অন্যান্য দ্বীপের, ৮ শতাংশ ইউরোপীয়, এবং ৮ শতাংশ চীনা,। ২০২৩ সালের এক জরিপে দেশটির মোট জনসংখ্যা ছিল ১৪ হাজার ৪০০ জন এবং দেশটির মোট জনসংখ্যার ৯৬ শতাংশ মানুষই শিক্ষিত। 

ফসফেট বিক্রির টাকা থেকে ১৯৭৫ সালে নাউরুর সরকারি ব্যাংকে ২৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার জমা হয়েছিল! স্বাধীনতার পর এক যুগেরও কম সময়ে কোনো রাষ্ট্রের পক্ষে এত বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা এক বিরল ঘটনা। সে সময় নাউরুর জনসংখ্যা ছিল মাত্র সাত হাজার এর কাছাকাছি। নাউরুর জনগণের মাথাপিছু আয় এত বেশি ছিল যে, তাদের সামনে একমাত্র ধনী রাষ্ট্র ছিল কুয়েত। নাউরুকে তখন বলা হতো “প্যাসিফিকের কুয়েত”। তেল রাজ্য কুয়েতের মতোই সহজ অর্থ আয় করতে থাকে নাউরু।

দেশটিতে ১৯৭০-৮০-র দশকে ছিল ফসফেট রমরমা ব্যবসা। বর্তমানে নাউরুর অর্থনীতির মূল উৎস হলো মৎস্য শিকার ও বৈদেশিক সহায়তা। বর্তমানে দেশটিতে কোনো আবাদি জমি নেই, না আছে এখানকার জনগণের কোনো নিশ্চিন্ত জীবন। নাউরু মাত্র দুই দশকে আগে বিশ্বের দ্বিতীয় ধনী রাষ্ট্র ছিল কিন্তু আজ তারা অন্যান্য রাষ্ট্রের সহায়তায়ার উপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে শুধুমাত্র তাদের দুর্নীতির কারণে। 

ফসফেট খনি

প্রশান্ত মহাসাগরের কয়েক লাখ বছর ধরে বিভিন্ন ধরনের সামুদ্রিক পাখির অভয়ারণ্য ছিল। এদের ফেলে যাওয়া বর্জ্য কয়েক লাখ বছর ধরে জমতে জমতে উৎকৃষ্ট মানের ফসফেট টিলায় পরিণত হয়। পরবর্তীকালে এই ফসফেট টিলা নাউরুর জন্য ‘স্বর্ণের খনি’ হয়ে ধরা দেয়। ফসফেট কৃষিকাজের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও প্রয়োজনীয় একটি উপাদান, এবং নাউরুতে যে ফসফেট পাওয়া যেত তা ছিল পুরো পৃথিবীতে সর্বোৎকৃষ্ট মানের। যেখানে এই দেশটিতে কোনো আবাদি জমি নেই বললেই চলে। কিন্তু সেই দেশটিতে ছিল চাষাবাদের কাজের জন্য সর্বোৎকৃষ্ট উপাদানটি। 

১২টি উপজাতি দ্বারা এই স্থানটি ঐতিহ্যগতভাবে শাসিত ছিল। এর প্রতীক নাউরুর পতাকাতেও দেখা যায়। ৬০-৭০-এর দশক থেকেই নাউরুর আয়ের মূল উৎস ছিল ফসফেট খনি। অতিরিক্ত ও অপরিকল্পিত উত্তোলনের কারণে তাদের এই আয়ের প্রধান উৎস  এই খনিগুলো নিঃশেষ হয়ে গেছে। বর্তমানে এখানে প্রচুর পরিমাণে নারিকেল উৎপন্ন হয়। 

দেশটির সরকারি মুদ্রা হলো অস্ট্রেলিয়ান ডলার। নাউরুর জাতীয় ভাষা নাউরুয়ান কিন্তু ব্যবসা ও সরকারি দাপ্তরিক কাজে ইংরেজির চল আছে। স্বীকৃত রাজধানী না থাকলেও নাউরুর সরকারি দপ্তরগুলো অবস্থিত “ইয়ারেন – Yaren ” জেলায়। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য থাকলেও অনেক রকম সমস্যার কারণে দেশটি পর্যটকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করাতে পারেনি। 

পৃথিবীর একমাত্র গণতান্ত্রিক দেশ ‘‘নাউরু – Nauru’’ যার নেই কোনো রাজধানী, এই ছিল তার আদ্যোপান্ত।

সহযোগিতায়
রাজিব বাধন

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments

Elliana Murray on ONLINE SHOPPING
Discover phone number owner on Fake app চেনার উপায়